Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2012

স্নান -জয় গোস্বামী

স্নান -জয় গোস্বামী সংকোচে জানাই আজ: একবার মুগ্ধ হতে চাই। তাকিয়েছি দূর থেকে। এতদিন প্রকাশ্যে বলিনি। এতদিন সাহস ছিল না কোনো ঝর্ণাজলে লুণ্ঠিত হবার - আজ দেখি অবগাহনের কাল পেরিয়ে চলেছি দিনে দিনে … জানি, পুরুষের কাছে দস্যুতাই প্রত্যাশা করেছো। তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে ব’লে যে-প্রেমিক ফেলে রেখে গেছে পথে, জানি, তার মিথ্যে বাগদান হাড়ের মালার মতো এখনো জড়িয়ে রাখো চুলে। আজ যদি বলি, সেই মালার কঙ্কালগ্রন্থি আমি ছিন্ন করবার জন্য অধিকার চাইতে এসেছি? যদি বলি আমি সে-পুরুষ, দ্যাখো, যার জন্য তুমি এতকাল অক্ষত রেখেছো ওই রোমাঞ্চিত যমুনা তোমার? শোনো, আমি রাত্রিচর। আমি এই সভ্যতার কাছে এখনো গোপন ক’রে রেখেছি আমার দগ্ধ ডানা; সমস্ত যৌবন ধ’রে ব্যধিঘোর কাটেনি আমার। আমি একা দেখেছি ফুলের জন্ম মৃতের শয্যার পাশে বসে, জন্মান্ধ মেয়েকে আমি জ্যোৎস্নার ধারণা দেব ব’লে এখনো রাত্রির এই মরুভুমি জাগিয়ে রেখেছি। দ্যাখো, সেই মরুরাত্রি চোখ থেকে চোখে আজ পাঠালো সংকেত - যদি বুঝে থাকো তবে একবার মুগ্ধ করো বধির কবিকে; সে যদি সংকোচ করে, তবে লোকসমক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে অন্ধ করো, ...

আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো – জয় গোস্বামী

আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো – জয় গোস্বামী আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো : ‘এই জীবন নিয়ে তুমি কি করেছো এতদিন ?’— তাহলে আমি বলবো একদিন বমি করেছিলাম, একদিন ঢোঁক গিলেছিলাম, একদিন আমি ছোঁয়া মাত্র জল রুপান্তরিত হয়েছিল দুধে, একদিন আমাকে দেখেই এক অপ্সরার মাথা ঘুরে গিয়েছিল একদিন আমাকে না বলেই আমার দুটো হাত কদিনের জন্য উড়ে গেছিল হাওয়ায় একদিন মদ হিসেবে ঢুকেছিলাম এক জবরদস্ত মাতালের পেটে, একদিন সম্পূর্ণ অন্যভাবে বেরিয়ে এসেছিলাম এক রূপসীর শোকাশ্রুরুপে, আর তৎক্ষণাৎ আহা উহু আহা উহু করতে করতে আমাকে শুষে নিয়েছিল বহুমূল্য মসলিন একদিন গায়ে হাত তুলেছিলাম একদিন পা তুলেছিলাম একদিন জিভ ভেঙিয়েছিলাম একদিন সাবান মেখেছিলাম একদিন সাবান মাখিয়েছিলাম যদি বিশ্বাস না হয় তো জিগ্যেস করুন আমার মৃত্যুকে একদিন কা কা করে ডেকে বেরিয়েছিলাম সারাবেলা একদিন তাড়া করেছিলাম স্বয়ং কাকতাড়ুয়াকেই একদিন শুয়োর পুষেছিলাম, হ্যাঁ হ্যাঁ একদিন ছাগল একদিন দোদোমা ফাটিয়েছিলাম, একদিন চকলেট একদিন বাঁশি বাজিয়েছিলাম, হ্যাঁ হ্যাঁ একদিন রাধাকেও একদিন আমার মুখ আমি আচ্ছা ক’রে গুঁজে দিয়েছিলাম এ...

যে-ছাত্রীটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে / জয় গোস্বামী

কী বুঝেছে সে-মেয়েটি ? সে বুঝেছে রাজুমামা মায়ের প্রেমিক। কী শুনেছে সে-মেয়েটি ? সে শুনেছে মায়ের শীৎকার। কী পেয়েছে সে-মেয়েটি ? ___ সে পেয়েছে জন্মদিন ? চুড়িদার, আলুকাবলি ___ কু-ইঙ্গিত মামাতো দাদার। সে খুঁজেছে ক্লাসনোট, সাজেশন ___ সে ঠেলেছে বইয়ের পাহাড় পরীক্ষা, পরীক্ষা সামনে ___ দিনে পড়া, রাতে পড়া ___ ও পাশের ঘর অন্ধকার অন্ধকারে সে শুনেছে চাপা ঝগড়া, দাঁত নখ, ছিন্ন ভিন্ন মা আর বাবার।

নীল রং

সেদিও ছিলো দুপুর এমন ঝকঝকে রোদ অস্থির মন আর ঘড়ির কাটায় তখন প্রশ্রয় সেদিনের মতো কলেজের ক্লাস শেষ হয়ে গেছে অবকাশ পাওয়া গেছে ফের দেখার আকাশ নীলচে সময় নীল রং ছিলো ভীষন প্রিয় তাই সবকিছু নীলিয়ে দিও মনে পড়ে কি সেদিন বলেছিলাম তোমায় আজ নীল রংয়ে মিশে গেছে লাল আজ রং চিনে নেবার আকাল নীল বাতাসেও বেনীল ভেজাল ভেসে বেড়ায় যেতে দাও সেদিনের মতো পেতে দাও সেদিনের ক্ষত নীল শরীরে তোমায় ছোঁবো নীল সাগরে ভাসিয়ে দেবো শুনি আজও সেই দুরের তলব বন্ধ ঘরের সেই পথের ঝলক পথের সীমায় পাথর ফলক দেয় ডাক ঝকঝকে রোদের কংক্রিটে ভীড় করে আসে ছায়া দেয় বাধে নীড় অস্থির মন অজান্তে স্থির বলে আজ থাক নীল রং ছিলো ভীষন প্রিয় তাই সবকিছু নীলিয়ে দিও মনে পড়ে কি সেদিন বলেছিলাম তোমায় আজ নীল রংয়ে মিশে গেছে লাল আজ রং চিনে নেবার আকাল নীল বাতাসেও বেনীল ভেজাল ভেসে বেড়ায় যেতে দাও সেদিনের মতো পেতে দাও সেদিনের ক্ষত নীল শরীরে তোমায় ছোঁবো নীল সাগরে ভাসিয়ে দেবো সেদিও ছিলো দুপুর এমন ঝকঝকে রোদ অস্থির মন আর ঘড়ির কাটায় তখন ঠিক বারোটার মতন ।

প্রেমিক – জয় গোস্বামী

তুমি আমাকে মেঘ ডাল্কবার যে বইটা দিয়েছিলে একদিন আজ খুলতেই দেখি তার মধ্যে এক কোমর জল। পরের পাতায় গিয়ে সে এক নদীর অংশ হয়ে দূরে বেঁকে গেছে। আমাকে তুমি উদ্ভিদ ভরা যে বইটা দিয়েছিলে আজ সেখানে এক পা-ও এগোনো যাচ্ছে না, এত জঙ্গল। গাছগুলো এত বড় হয়েছে যে মাটিতে আলো আসতে দিচ্ছে না। তুমি আমাকে ঝর্না শেখবার যে বইটা দিয়েছিলে আজ সেখানে মস্ত এক জলপ্রপাত লাফিয়ে পড়ছে সারাদিন। একনকি তোমার দেওয়া পেজ-মার্কের সাদা পালকটাও যে বইতে রেখেছিলাম, সেখানে আজ কত সব পাখি উড়ছে, বসছে, সাঁতার কাটছে। তোমার দেওয়া সব বই এখন মরুভূমি আর পর্বতমালা, সব বই আজ সূর্য, সব বই দিগন্ত … অথচ আজকেই যে আমার লাইব্রেরি দেখতে আসছে বন্ধুরা আমার পড়াশোনা আছে কিনা জানার জন্য! তাদের আমি কী দেখাবো? তাদের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবো আমি!

কবিতা আর কবিতা...

উত্তর – শামসুর রাহমান   তুমি হে সুন্দরীতমা নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো ‘এই আকাশ আমার’ কিন্তু নীল আকাশ কোনো উত্তর দেবেনা। সন্ধ্যেবেলা ক্যামেলিয়া হাতে নিয়ে বলতেই পারো, ‘ফুল তুই আমার’ তবু ফুল থাকবে নীরব নিজের সৌরভে আচ্ছন্ন হয়ে। জ্যোত্স্না লুটিয়ে পড়লে তোমার ঘরে, তোমার বলার অধিকার আছে, ‘এ জ্যোত্স্না আমার’ কিন্তু চাঁদিনী থাকবে নিরুত্তর। মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ রেখে যদি বলো, ‘তুমি একান্ত আমার’, কী করে থাকবো নির্বাক ? তারায় তারায় রটিয়ে দেবো, ‘আমি তোমার, তুমি আমার’।   ফুল ফুটুক না ফুটুক – সুভাষ মুখোপাধ্যায় ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। শান-বাঁধানো ফুটপাথে পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে। ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে তারপর খুলে - মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে তারপর তুলে - যে দিনগুলো রাস্তা দিয়ে চলে গেছে যেন না ফেরে। গায়ে হলুদ দেওয়া বিকেলে একটা দুটো পয়সা পেলে যে হরবোলা ছেলেটা কোকিল ডাকতে ডাকতে যেত ...