Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2012

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ------ ঘটনার অন্তরালে -শেষ পর্ব

স্ত্রীর এই মৃত্যুকে জ্যোতিরিন্দ্র কিভাবে গ্রহন করেছিলেন, সে কৌতুহল জাগা খুবই স্বাভাবিক। কাদম্বরীর মৃত্যুর এক মাস পরেই তিনি জ্ঞানদানন্দিনী, সুরেন্দ্র, ইন্দিরা ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সরোজিনী জাহাজে চড়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে “ তিনি যেমন ছিলেন, তেমনি আছেন। “ কিন্তু না, কাদম্বরীর জীবনাহুতি জ্যোতিরিন্দ্রকে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছিল। তা না হলে তিনি জীবনের কাছে এভাবে পরাজিত হতেন না। শুধু ব্যবসাতেই যে তিনি পর্যুদস্ত হয়েছেন তাই নয়, তার মতো নাট্যকার কাদম্বরী চলে যাওয়ার পর মৌলিক রচনা বাদ দিয়ে সারাটা জীবন শুধু অনুবাদ নিয়ে কাটিয়ে দিলেন? জমাটি আড্ডার আসর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন নির্বাসনে। নিজেকেই ভুলে থাকতে চাইতেন হয়তো তিনি। জ্যোতিরিন্দ্রের চারিত্রিক দুর্বলতার কোন সুনিশ্চিত প্রমান কখনও কেউ দিতে পারেননি। মর্হষি তার ছেলে মেয়েদের নৈতিক চরিত্র গঠনে যথেষ্ট সজাগ ছিলেন। এবং তার সন্তানরাও সে আর্দশ মেনে চলেছিলেন। যদিও সে সময় কোলকাতায় বাবু কালচারে নৈতিকতার চরম অধঃপতনের সময় বিরাজ করছিল, কিন্তু ঠাকুরবাড়ির মানুষরা ছিল তাদের থেকে আলাদা। কাদম্বরী যখন তাকে ছেড়ে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ------ ঘটনার অন্তরালে ৩

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ------ ঘটনার অন্তরালে মানুষের সাথে মানুষের অনেক ধরনের সম্পর্ক থাকে। নর ও নারীর সম্পর্ক ও তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। একটা সময় হয়তো ছিল নর - নারীর মধ্যে সামাজিক লেখা পড়ার বাইরে অন্য কোন ধরনের সম্পর্কের কথা ভাবাই যেতো না। সভ্যতার সাথে যুগে যুগে মানুষ তার সম্পর্কগুলোকে আলাদা নাম দিতে ও ব্যাখা করতে শিখেছে। তারপরও একটা কথা থেকেই যায়। সব সম্পর্ককেই কি সব সময় ভাষায় ব্যাখা করা যায়? নাকি সব ভালোলাগাকেই চিরাচরিত নাম ভালোবাসা বা প্রেমের আবরনে মুড়িয়ে দেয়া যায়? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে আলোচনা হলে অনেক সময়ই অনেকে তার বৌদি কাদম্বরী দেবীকে তার সাথে জড়িয়ে এক ধরনের রসাত্মক আলোচনা করতে পছন্দ করেন। তাদের মধ্যে একটা অন্য ধরনের সম্পর্কের ইঙ্গিতও দেন। আসলেই কি সেই ধরনের কিছু আদৌতেও তাদের মধ্যে ছিল? ভালোলাগা মানেই কি কোন ধরনের আলাদা বা নিষিদ্ধ সম্পর্ক? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরদের পরিবার একেতো ব্রাক্ষ ছিলেন তারমধ্যে আবার পিরালী। তাদের সাথে বিয়ের সম্পর্ক করতে সামাজিকভাবে অনেকেই সাহস পেতেন না। সেজন্য বাংলাদেশের যশোরের দিকে, যেখানে ঠাকুর পরিবারের জমিদারী ছিল, তার আশে পাশের গ্রামের সাধারন ঘরে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ঘটনার অন্তরালে ২

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ঘটনার অন্তরালে ২ ছাদের উপর কাদম্বরীর সাজানো বাগানে সন্ধ্যাবেলা বসত পরিপাটী গানের আসর। মাদুরের ওপর তাকিয়া, রুপোর রেকাবে ভিজে রুমালের ওপর বেলীফুলের গোড়ের মালা, গ্লাসভর্তি বরফপানি, বাটা ভর্তি ছাচি পান সাজানো থাকতো সবার জন্য। কাদম্বরী সেজে গুজে বসতেন সেখানে, জ্যোতিরিন্দ্র বাজাতেন বেহালা, রবীন্দ্রনাথ ধরতেন গান, যার আবেশ হয়তো সে ছাদকে অতিক্রম করে আরো চারধার ছুয়ে যেতো, “ফুলের বনে যার পাশে যাই, তারেই লাগে ভালো .........”। কিশোর রবীন্দ্রনাথের রোমান্টিক সৌন্দর্য চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে এই পরিবেশ, এই সৌন্দর্য দৃষ্টি কল্পনার একান্ত প্রয়োজন ছিল, যা আমরা পরে রবীন্দ্রনাথের লেখায় ফিরে ফিরে দেখতে পাই। কাদম্বরী নিজেও ভালো গায়িকা ছিলেন, বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ জগন্মোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের পৌত্রী তিনি, গান ছিল তার রক্তে। তিনি আসার সাথে সাথে তিনতলায় শুধু পিয়ানো আসেনি, জ্যোতিরিন্দ্রের আর রবীন্দ্রনাথের অনুশীলনও শুরু হয়ে গিয়েছিল। শুধু গানই ছিলো না, সেখানে বসত রীতিমতো সাহিত্যপাঠের আসর। আসরে যোগ দিতেন বাড়ীর অনেকে, বাইরে থেকে আসতেন অক্ষয় চৌধুরী ও তার স্ত্রী শরৎকুমারী, জানকীনাথ, আর মাঝে মাঝে আসতে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ------ ঘটনার অন্তরালে

কাদম্বরীর মৃত্যুর পর তার আশেপাশের সমসাময়িক ঘটনার টুকরো গুলো জোড়া দিলে একটা সামগ্রিক ছবি তৈরী করা হয়তো সম্ভব হবে। হয়তো কোন একটি মনোপীড়া থেকে নয়, সম্মিলিত কয়েকটি মানসিক ধাক্কা তার পক্ষে সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তাই মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা কষ্টের ঝরনাগুলো হঠাৎ আঘাতে নিজেকে হারিয়ে দুকূল প্লাবিত করে চলে গেলো। জ়্যোতিরিন্দ্র বেশ খাম খেয়ালী মানুষ ছিলেন। কিছুটা সংসার উদাসীনও ছিলেন। নতুন নতুন নাটক, গান লেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, নিজের যা ভালো লাগতো তাকেই প্রাধান্য দিতেন। তারউপর সত্যেন্দ্রনাথ - জ্ঞানদানন্দিনী তখন কোলকাতায় ফিরে এসেছেন। তাদের সাহচর্য, তাদের ছেলেমেয়েদের সাহচর্য তাকে কিছুটা স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে সরিয়েও এনেছিল। জ্ঞানদানন্দিনীর উগ্র আধুনিক চলাফেরার প্রতি জ়্যোতিরিন্দ্রের মোহ জন্মেছিল। তিনি অনেকটা সময়ই সেই বাড়িতে পরে থাকতেন। রবীন্দ্রনাথের ভাতিজি ইন্দিরা কাদম্বরীর মৃত্যু সম্পর্কে লিখেছেন, “জ্যোতিকাকামশাই প্রায়ই বাড়ি ফিরতেন না। তার প্রধান আড্ডা ছিল বিজিতলাওয়ে আমাদের বাড়ি। আমার মা জ্ঞানদানন্দিনীর সঙ্গে ওর খুব ভাব ছিল”। এরই মধ্যে একদিন অভিমানীনি কাকীমা তাকে বলেছিলেন তাড়াতাড়ি ফিরতে। গানে গান...