Skip to main content

Posts

Showing posts from 2012

*kobita সমগ্র***

চোখ নিয়ে চলে গেছে (দেখা হলো ভালোবাসা বেদনায়) এই যে বাইরে হু হু ঝড়, এর চেয়ে বেশি বুকের মধ্যে আছে কৈশোর জুড়ে বৃষ্টি বিশাল, আকাশে থাকুক যত মেঘ, যত ক্ষণিকা মেঘ উড়ে যায় আকাশ ওড়ে না আকাশের দিকে উড়ছে নতুন সিঁড়ি আমার দু বাহু একলা মাঠের জারুলের ডালপালা কাচ ফেলা নদী যেন ভালোবাসা ভালোবাসার মতো ভালোবাসা দু'দিকের পার ভেঙে নারীরা সবাই ফুলের মতন, বাতাসে ওড়ায় যখন তখন রঙিন পাঁপড়ি বাতাস তা জানে, নারীকে উড়াল দেয়ে নিয়ে যায় তাই আমি আর প্রকৃতি দেখি না, প্রকৃতি আমার চোখ নিয়ে চলে গেছে! *চায়ের দোকানে* লণ্ডনে আছে লাস্ট বেঞ্চির ভীরু পরিমল, রথীন এখন সাহিত্যে এক পরমহংস দীপু তো শুনেছি খুলেছে বিরাট কাগজের কল এবং পাঁচটা চায়ের বাগানে দশআনি অংশ তদুপরি অবসর পেলে হয় স্বদেশসেবক; আড়াই ডজন আরশোলা ছেড়ে ক্লাস ভেঙেছিল পাগলা অমল সে আজ হয়েছে মস্ত অধ্যাপক! কি ভয়ংকর উজ্জ্বল ছিল সত্যশরণ সে কেন নিজের কণ্ঠ কাটলো ঝকঝকে ক্ষুরে - এখনো ছবিটি চোখে ভাসলেই জাগে শিহরণ দূরে চলে যাবে জানতাম, তবু এতখানি দূরে ? গলির চায়ের দোকানে এখন আর কেউ নেই একদা এখানে সকলে আমরা স্বপ্নে জ...

**একটি চরম প্রেম পত্র**

প্রিয় __________ ........ পত্রের প্রথমে এক বোতল সালফিউরিক এসিডের মত জ্বালাময়ী শুভেচ্ছা রইলো । প্রিয় আমি তোমাকে ডায়মন্ডের মত ভালবাসি । আমার ভালবাসা E=mc2 এর মত চিরন্তন সত্য । তোমার প্রতি আমার এই ভালবাসা স্প্রিং নিক্তির মাধ্যমেও পরিমাপ করা যম্ভব নয় । প্রথম যেদিন তোমাকে দেখি সেদিন থেকেই আমার হৃদয়ের ট্রান্সফরমার তোমার হৃদয়ের Ac তড়িৎ প্রবাহের জন্য অপেক্ষা করে আছে । তোমাকে এক দিন না দেখলে আমার হৃদয় লিফ্ট পাম্পের মত ওঠা নামা করে । বন্ধ হয়ে যায় মানব গিয়ার চাকা । যখন তোমাকে দেখি তখন নিজেকে হিলিয়ামের মত হালকা মনে হয় । প্রিয় আমার মনের পিকচার টিউবে শুধু তোমার ছবি ভেসে ওঠে । ওগো আমার আইসক্রিম,, ওগো আমার সোডিয়াম কার্বোনেট ,, তুমি কি আমার মনের হাইড্রোকার্বনের বুদবুদ এর আওয়াজ শুনতে পাও না ??? তুমি কি আমার নাইট্রোজেন মিথাইল এর মত ভালবাসা বুঝতে পারো না ??? তবে কেন এমন নিষ্ক্রয় গ্যাসের মত আচরন করো !!! ওগো আমার অক্সিজেন সিলিন্ডার । কার্বন-ডাই-অক্সাইডে ভরা এই পৃথিবীতে তোমার বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিয়ে আমাকে বাঁচাও । এসো আমরা দুজন আমাদের হৃদয়ের জারণ বিজারণ ঘটিয়ে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ...

**আমার ভিনদেশী তারা**

আমার ভিনদেশী তারা, একা রাতেরই আকাশে তুমি বাজালে একতারা, আমার চিলেকোঠার পাশে। ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে, তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে মুখ লুকিয়ে কার বুকে, তোমার গল্প বলো কাকে? আমার রাতজাগা তারা, তোমার অন্যপাড়ায় বাড়ি আমার ভয় পাওয়া চেহারা, আমি আদতে আনাড়ি। আমার আকাশ দেখা ঘুড়ি, কিছু মিথ্যে বাহাদুরি।। আমার চোখ বেঁধে দাও আলো দাও শান্ত শীতল পাটি তুমি মায়ের মতোই ভাল, আমি একলাকী পথ হাঁটি। আমার বিচ্ছিরি এক তারা, তুমি নাওনা কথা কানে তোমার কিসের এতো তাড়া - রাস্তা পার হবে সাবধানে! তোমার গায়ে লাগেনা ধূলো, আমার দু'মুঠো চালচুলো রাখো শরীরে হাত যদি, আর জল মাখো দুই হাতে - প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে, আমার মন খারাপের রাতে। আমার রাতজাগা তারা, তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি আমি পাইনা ছোঁতে তোমায়, আমার একলা লাগে ভারী।।।

**ভালবেসে গোপনে**

পূর্ব নির্ধারিত ভ্রমণের সঙ্গী হল প্রিয় ক্ষয়িষ্ণু স্মৃতিরা পকেট হাতড়ে বুঝা গেল – লাইটার পড়ে আছে অগোছালো টেবিলে ভ্রমণে আরো সঙ্গী হল এক প্যাকেট অস্পৃশ্য সিগারেট। ঢুলোঢুলো আলোর কামরায় বিদ্রুপের হাসি হাসছে প্যাকেটটি আঙ্গুলে শিহরণ উত্তাল যৌবনের, কামনার তৃষ্ণায় সংকুচিত দু’টি ঠোঁট। খুঁজে ফিরি একটি যাদু অথবা দেয়াশলাই বাক্স অপেক্ষা মিলনের, আঙ্গুলে ছন্দিত পেষনের। সিগারেটের ঘ্রাণে ভরা মাতাল বাতাস, ট্রেনের দরজা ঘেষে উত্তরে দক্ষিণে ডানে বামে ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে গেছে এক সময়ের চিরচেনা চৌকাঠে; ঘুমন্ত তোমার চোখ দু’টি ছুঁয়ে শুদ্ধ হয়েছে প্রেমে। এত বছরে বদলে গেলনা কিছু স্থির বিন্যাসে নিশ্চুপ মাঝরাতে চুপি চুপি বলে গেল বাতাস ভালবাসি তোমায় আজও একাকীত্বে খুব গোপনে। সিগারেটের প্যাকেটটি খালি হতে বেশী দেরি নেই ভোরের ম্রিয়মান আলো চোখের সামনে, তুমি হয়তো আছো এখনো ঘুমে! ট্রেন থেমে গেছে,  খালি প্যাকেটটিতে স্মৃতি ভরে অযত্নে ছুড়ে ফেলি সমান্তরাল লাইনে একটু পড়েই হারিয়ে যাব জীবনের চাষাবাদে পড়ে থাকবে শুধু প্লাটফর্মের কাছে স্মৃতি ভরা সিগারেটের প্যাকেট তোমার...

**যাদের গার্ল ফ্রেন্ড নেই তাদের জন্য***

প্রথম ধাপ প্রপোজ করা। একেক মেয়ের ক্ষেত্রে একেক রকম। কেউ চায় আপনাকে জাচাই বাছাই করে সিওর হয়ে নিতে যে আপনি আসলেই সিরিয়াস কিনা ( এই ধরনের মেয়েগুলা নিজেরাও সিরিয়াস হয়, আর প্রতারনার সম্ভাবনা কম থাকে), কেউ আবার এক কথায় রাজি। কাউকে আবার কিছু না দিলে পটে না। এক্ষেত্রে আমার সতর্কবাণী হল "এমন মেয়ে খুজুন যার ছেলে বন্ধু নাই। ছেলেদের সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। কারন মনে রাখবেন, একটি ছেলে আর একটি মেয়ে কখনও বন্ধু হতে পারে না (ব্যতিক্রম খুব কম),কিছু না কিছু তাদের মাঝে থাকবেই।হক না সেটা একটু ভাললাগা। আর আপনাকে একদম ই পছন্দ করে না, কিন্তু আপনি পুরা ফিদা, এমন সম্পর্কও সাধারনত টিকে না। শুরু করুন ফুল দিয়ে। কারন ফুল পছন্দ করে না এমন মেয়ের সংখ্যা খুব কম। জেনে নিন তার প্রিয় ফুলের নাম আর রং। বিশেষ কোন ফুল তার পছন্দের তালিকায় না থাকলে, এক্সোটিক কোন ফুল দিন। যেমন কারনেসন। হাত ধরাটা বেশ বড় একটা ব্যপার যদি আপনাদের দুজনের কাছে এটাই প্রথম হয়। সাহস করে ধরে ফেলুন। তবে একেবারে প্রথম দিকেই নয়। সময় নিন কিছু দিন। তাকে বোঝান যে আপনি সিরিয়াস। মেয়েরা এই ব্যপারতা খুব খেয়াল করে। ...

** নাই বা দিলে.**

যা চাই তা নাই বা দিলে... কষ্ট গুলো জমা থাক মনের ঘরে, শুধু স্বপ্ন গুলো দেখার দুটো চোখ দিও... আজ অন্ধকার ঘরে বন্দি আমি, আলোর পথ খুজতে না জানি শুধু দিও স্বপ্নে ভরা মন খানি... স্বপ্ন বাস্তব করার কৌশোল না জানি, মনে মনে ক্ষুব্ধ আমি, তিক্ত আমি...... জীবনের মানে কি? তা না জানি, সুখ খুজতে খুজতে হতাশ আমি, কোথায় কিনারা তাও না জানি... মনে মনে প্রশ্ন জাগে কে আমি ? কি আমি? এসেছি শুধু কাদতে, না পারি বেশি হাসতে হাসার অধিকার যে নেই তা কি পেরেছি বুঝতে,,,,,,,,,,,,,,,,,,

**বন্দিনী তসলিমা নাসরিন**

"বাংলাদেশ তসলিমার মা, পশ্চিমবঙ্গ তসলিমার মাসি"                - অন্নদাশঙ্কর রায় এক যুগেরও বেশী সময় তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের বাইরে। মূলত পশ্চিমবঙ্গকেই তিনি করেছিলেন তাঁর দ্বিতীয় বাসস্থান। এর মাঝে অবশ্য ইউরোপেও ছিলেন কিছুদিন। কোলকাতাকে দ্বিতীয় আপন মনে করার কারণ আর কিছু নয়, বাংলা এবং বাঙালি সংস্কৃতি। তসলিমা জাতীয়তা নয় জাতিতে বিশ্বাসী। জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। তসলিমা তাই বলেন, আমার মতো বাঙালীকেও ভারতবর্ষ বাংলাদেশি বলে। বাংলাদেশি বস্ত্র হয়, অস্ত্র হয়, বাঙালি আবার বাংলাদেশি হয় কী করে? বাঙালি কি একাত্তুরে জন্মেছে ওই দেশে? নাকি হাজার বছরের লালন করছে জাতিসত্তা হাজার বছর বইছে রক্তে সংস্কৃতি! (বাঙালি) সাহসী লাইন সন্দেহ কী? একদিকে মৌলবাদীদের হুমকি, অন্যদিকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধাচরণ। তসলিমা এজন্যই তসলিমা। কোলকাতায় বসে বিশাল বাঙালি জনগোষ্ঠীর ঐক্য ও সম্পৃতি ভেবে এবং নিজেকে সেই বিশালের সঙ্গে মেলানোর আকুতি নিয়ে যে সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছিলেন সেটা আর সয়নি তাঁর কপালে। গত দেড় বছরে আবারো তসলিমাকে ঘর ছাড়তে হয়েছে...

**তসলিমা নাসরিনের কয়েকটি অসাধারণ কবিতা**

তালাকনামা যে কোনও দূরত্বে গেলে তুমি আর আমার থাকো না তুমি হও যার-তার খেলুড়ে পুরুষ। যে কোনও শরীরে গিয়ে শকুনের মতো খুঁটে খুঁটে রূপ ও মাংস তুমি আহার করো গণিকা ও প্রেমিকার শরীরে কোনও পার্থক্য বোঝো না। কবিতার চে' চাতুর্য বোঝো ভাল, রাত্রি এলে রক্তের ভেতর টকাশ-টকাশ দৌড়ে যায় একশো একটা লাগামহীন ঘোড়া, রোমকূপে পূর্বপুরুষ নেচে উঠে তাধিন-তাধিন। আমি জোস্নার কথা তোমাকে অনেক বলেছি তুমি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার কোনও পার্থক্য বোঝো না। ভালবাসার চে' প্রাচুর্য বোঝো বেশি যে কারও গোড়ালির নীচ থেকে চেটে খাও এক ফোঁটা মদ, লক্ষ গ্যালন মদে আমুণ্ডু ডুবে তবু তোমার তৃষ্ণা ঘোচে না। তোমাকে স্বপ্নের অথা অনেক বলেছি সমুদ্র ও নর্দমার ভেতরে তুমি কোনও পার্থক্য বোঝো না। যে কোনও দূরত্বে গেলে তুমি হও যার-তার খেলুড়ে পুরুষ। যার-তার পুরুষকে আমি আমার বলি না। কাব্যগ্রন্থঃ কিছুক্ষণ থাকো ব্যস্ততা তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম, যা কিছু নিজের ছিল দিয়েছিলাম, যা কিছুই অর্জন-উপার্জন ! এখন দেখ না ভিখিরির মতো কেমন বসে থাকি ! কেউ ফিরে তাকায় না। তোমার কেন সময় হবে তাকাবার ! কত রকম কাজ তোমার ! আজকা...

স্নান -জয় গোস্বামী

স্নান -জয় গোস্বামী সংকোচে জানাই আজ: একবার মুগ্ধ হতে চাই। তাকিয়েছি দূর থেকে। এতদিন প্রকাশ্যে বলিনি। এতদিন সাহস ছিল না কোনো ঝর্ণাজলে লুণ্ঠিত হবার - আজ দেখি অবগাহনের কাল পেরিয়ে চলেছি দিনে দিনে … জানি, পুরুষের কাছে দস্যুতাই প্রত্যাশা করেছো। তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে ব’লে যে-প্রেমিক ফেলে রেখে গেছে পথে, জানি, তার মিথ্যে বাগদান হাড়ের মালার মতো এখনো জড়িয়ে রাখো চুলে। আজ যদি বলি, সেই মালার কঙ্কালগ্রন্থি আমি ছিন্ন করবার জন্য অধিকার চাইতে এসেছি? যদি বলি আমি সে-পুরুষ, দ্যাখো, যার জন্য তুমি এতকাল অক্ষত রেখেছো ওই রোমাঞ্চিত যমুনা তোমার? শোনো, আমি রাত্রিচর। আমি এই সভ্যতার কাছে এখনো গোপন ক’রে রেখেছি আমার দগ্ধ ডানা; সমস্ত যৌবন ধ’রে ব্যধিঘোর কাটেনি আমার। আমি একা দেখেছি ফুলের জন্ম মৃতের শয্যার পাশে বসে, জন্মান্ধ মেয়েকে আমি জ্যোৎস্নার ধারণা দেব ব’লে এখনো রাত্রির এই মরুভুমি জাগিয়ে রেখেছি। দ্যাখো, সেই মরুরাত্রি চোখ থেকে চোখে আজ পাঠালো সংকেত - যদি বুঝে থাকো তবে একবার মুগ্ধ করো বধির কবিকে; সে যদি সংকোচ করে, তবে লোকসমক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে অন্ধ করো, ...

আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো – জয় গোস্বামী

আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো – জয় গোস্বামী আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো : ‘এই জীবন নিয়ে তুমি কি করেছো এতদিন ?’— তাহলে আমি বলবো একদিন বমি করেছিলাম, একদিন ঢোঁক গিলেছিলাম, একদিন আমি ছোঁয়া মাত্র জল রুপান্তরিত হয়েছিল দুধে, একদিন আমাকে দেখেই এক অপ্সরার মাথা ঘুরে গিয়েছিল একদিন আমাকে না বলেই আমার দুটো হাত কদিনের জন্য উড়ে গেছিল হাওয়ায় একদিন মদ হিসেবে ঢুকেছিলাম এক জবরদস্ত মাতালের পেটে, একদিন সম্পূর্ণ অন্যভাবে বেরিয়ে এসেছিলাম এক রূপসীর শোকাশ্রুরুপে, আর তৎক্ষণাৎ আহা উহু আহা উহু করতে করতে আমাকে শুষে নিয়েছিল বহুমূল্য মসলিন একদিন গায়ে হাত তুলেছিলাম একদিন পা তুলেছিলাম একদিন জিভ ভেঙিয়েছিলাম একদিন সাবান মেখেছিলাম একদিন সাবান মাখিয়েছিলাম যদি বিশ্বাস না হয় তো জিগ্যেস করুন আমার মৃত্যুকে একদিন কা কা করে ডেকে বেরিয়েছিলাম সারাবেলা একদিন তাড়া করেছিলাম স্বয়ং কাকতাড়ুয়াকেই একদিন শুয়োর পুষেছিলাম, হ্যাঁ হ্যাঁ একদিন ছাগল একদিন দোদোমা ফাটিয়েছিলাম, একদিন চকলেট একদিন বাঁশি বাজিয়েছিলাম, হ্যাঁ হ্যাঁ একদিন রাধাকেও একদিন আমার মুখ আমি আচ্ছা ক’রে গুঁজে দিয়েছিলাম এ...

যে-ছাত্রীটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে / জয় গোস্বামী

কী বুঝেছে সে-মেয়েটি ? সে বুঝেছে রাজুমামা মায়ের প্রেমিক। কী শুনেছে সে-মেয়েটি ? সে শুনেছে মায়ের শীৎকার। কী পেয়েছে সে-মেয়েটি ? ___ সে পেয়েছে জন্মদিন ? চুড়িদার, আলুকাবলি ___ কু-ইঙ্গিত মামাতো দাদার। সে খুঁজেছে ক্লাসনোট, সাজেশন ___ সে ঠেলেছে বইয়ের পাহাড় পরীক্ষা, পরীক্ষা সামনে ___ দিনে পড়া, রাতে পড়া ___ ও পাশের ঘর অন্ধকার অন্ধকারে সে শুনেছে চাপা ঝগড়া, দাঁত নখ, ছিন্ন ভিন্ন মা আর বাবার।

নীল রং

সেদিও ছিলো দুপুর এমন ঝকঝকে রোদ অস্থির মন আর ঘড়ির কাটায় তখন প্রশ্রয় সেদিনের মতো কলেজের ক্লাস শেষ হয়ে গেছে অবকাশ পাওয়া গেছে ফের দেখার আকাশ নীলচে সময় নীল রং ছিলো ভীষন প্রিয় তাই সবকিছু নীলিয়ে দিও মনে পড়ে কি সেদিন বলেছিলাম তোমায় আজ নীল রংয়ে মিশে গেছে লাল আজ রং চিনে নেবার আকাল নীল বাতাসেও বেনীল ভেজাল ভেসে বেড়ায় যেতে দাও সেদিনের মতো পেতে দাও সেদিনের ক্ষত নীল শরীরে তোমায় ছোঁবো নীল সাগরে ভাসিয়ে দেবো শুনি আজও সেই দুরের তলব বন্ধ ঘরের সেই পথের ঝলক পথের সীমায় পাথর ফলক দেয় ডাক ঝকঝকে রোদের কংক্রিটে ভীড় করে আসে ছায়া দেয় বাধে নীড় অস্থির মন অজান্তে স্থির বলে আজ থাক নীল রং ছিলো ভীষন প্রিয় তাই সবকিছু নীলিয়ে দিও মনে পড়ে কি সেদিন বলেছিলাম তোমায় আজ নীল রংয়ে মিশে গেছে লাল আজ রং চিনে নেবার আকাল নীল বাতাসেও বেনীল ভেজাল ভেসে বেড়ায় যেতে দাও সেদিনের মতো পেতে দাও সেদিনের ক্ষত নীল শরীরে তোমায় ছোঁবো নীল সাগরে ভাসিয়ে দেবো সেদিও ছিলো দুপুর এমন ঝকঝকে রোদ অস্থির মন আর ঘড়ির কাটায় তখন ঠিক বারোটার মতন ।

প্রেমিক – জয় গোস্বামী

তুমি আমাকে মেঘ ডাল্কবার যে বইটা দিয়েছিলে একদিন আজ খুলতেই দেখি তার মধ্যে এক কোমর জল। পরের পাতায় গিয়ে সে এক নদীর অংশ হয়ে দূরে বেঁকে গেছে। আমাকে তুমি উদ্ভিদ ভরা যে বইটা দিয়েছিলে আজ সেখানে এক পা-ও এগোনো যাচ্ছে না, এত জঙ্গল। গাছগুলো এত বড় হয়েছে যে মাটিতে আলো আসতে দিচ্ছে না। তুমি আমাকে ঝর্না শেখবার যে বইটা দিয়েছিলে আজ সেখানে মস্ত এক জলপ্রপাত লাফিয়ে পড়ছে সারাদিন। একনকি তোমার দেওয়া পেজ-মার্কের সাদা পালকটাও যে বইতে রেখেছিলাম, সেখানে আজ কত সব পাখি উড়ছে, বসছে, সাঁতার কাটছে। তোমার দেওয়া সব বই এখন মরুভূমি আর পর্বতমালা, সব বই আজ সূর্য, সব বই দিগন্ত … অথচ আজকেই যে আমার লাইব্রেরি দেখতে আসছে বন্ধুরা আমার পড়াশোনা আছে কিনা জানার জন্য! তাদের আমি কী দেখাবো? তাদের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবো আমি!

কবিতা আর কবিতা...

উত্তর – শামসুর রাহমান   তুমি হে সুন্দরীতমা নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো ‘এই আকাশ আমার’ কিন্তু নীল আকাশ কোনো উত্তর দেবেনা। সন্ধ্যেবেলা ক্যামেলিয়া হাতে নিয়ে বলতেই পারো, ‘ফুল তুই আমার’ তবু ফুল থাকবে নীরব নিজের সৌরভে আচ্ছন্ন হয়ে। জ্যোত্স্না লুটিয়ে পড়লে তোমার ঘরে, তোমার বলার অধিকার আছে, ‘এ জ্যোত্স্না আমার’ কিন্তু চাঁদিনী থাকবে নিরুত্তর। মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ রেখে যদি বলো, ‘তুমি একান্ত আমার’, কী করে থাকবো নির্বাক ? তারায় তারায় রটিয়ে দেবো, ‘আমি তোমার, তুমি আমার’।   ফুল ফুটুক না ফুটুক – সুভাষ মুখোপাধ্যায় ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। শান-বাঁধানো ফুটপাথে পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে। ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে তারপর খুলে - মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে তারপর তুলে - যে দিনগুলো রাস্তা দিয়ে চলে গেছে যেন না ফেরে। গায়ে হলুদ দেওয়া বিকেলে একটা দুটো পয়সা পেলে যে হরবোলা ছেলেটা কোকিল ডাকতে ডাকতে যেত ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ------ ঘটনার অন্তরালে -শেষ পর্ব

স্ত্রীর এই মৃত্যুকে জ্যোতিরিন্দ্র কিভাবে গ্রহন করেছিলেন, সে কৌতুহল জাগা খুবই স্বাভাবিক। কাদম্বরীর মৃত্যুর এক মাস পরেই তিনি জ্ঞানদানন্দিনী, সুরেন্দ্র, ইন্দিরা ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সরোজিনী জাহাজে চড়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে “ তিনি যেমন ছিলেন, তেমনি আছেন। “ কিন্তু না, কাদম্বরীর জীবনাহুতি জ্যোতিরিন্দ্রকে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছিল। তা না হলে তিনি জীবনের কাছে এভাবে পরাজিত হতেন না। শুধু ব্যবসাতেই যে তিনি পর্যুদস্ত হয়েছেন তাই নয়, তার মতো নাট্যকার কাদম্বরী চলে যাওয়ার পর মৌলিক রচনা বাদ দিয়ে সারাটা জীবন শুধু অনুবাদ নিয়ে কাটিয়ে দিলেন? জমাটি আড্ডার আসর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন নির্বাসনে। নিজেকেই ভুলে থাকতে চাইতেন হয়তো তিনি। জ্যোতিরিন্দ্রের চারিত্রিক দুর্বলতার কোন সুনিশ্চিত প্রমান কখনও কেউ দিতে পারেননি। মর্হষি তার ছেলে মেয়েদের নৈতিক চরিত্র গঠনে যথেষ্ট সজাগ ছিলেন। এবং তার সন্তানরাও সে আর্দশ মেনে চলেছিলেন। যদিও সে সময় কোলকাতায় বাবু কালচারে নৈতিকতার চরম অধঃপতনের সময় বিরাজ করছিল, কিন্তু ঠাকুরবাড়ির মানুষরা ছিল তাদের থেকে আলাদা। কাদম্বরী যখন তাকে ছেড়ে ...