Skip to main content

**কষ্টকে ভালোবেসে আমি কবি হবো**


আমাদের দুজনার পৃথিবী দুটো
শুরু থেকে আলাদা,
তোর পুতুল খেলার সংসার,
রংচঙে সাজানো গোছানো,
তোর চুলের ক্লিপ,
ধোয়া তোয়ালে,পোশাক
রং মেলানো,
আমিও সেই জগতের
পভোলা এক পথিক শুধু,
কখনও ভ্রমর হয়ে ফুলের
থেকে চুরি করে একটু মধু,
বাদবাকি খোঁচা-খোঁচা
দাড়ি-গোঁফে,আমি কালো সাদা,
আমাদের দুজনার
পৃথিবী দুটো শুরু থেকেই আলাদা ।
আমার ভালো লাগে মেঘলা আকাশ,
এক-পশলা ইলশেগুঁড়ি,
রাতজাগা পাখির ডাক
আর পুর্নিমাতে চাঁদেরবুড়ি,
সেই জগতে কোনোখানেও
ভুল করেও আসবিনা তুই,
অথচ সবের পরেও
দুইজনেতে একই খাটেই শুই,
একই ঘরে দুজনার দুই
পৃথিবী বাঁচবে আধা-আধা,
আমাদের দুজনার
পৃথিবী দুটো শুরু থেকেই আলাদা ।
তোর সাথে রং মিলিয়ে আমি,
চাইলে হয়ত পাল্টাতেও পারি,
তোকেও হয়ত ভুল বুজিয়ে,
আমার জগতে ডেকে নিতে পারি,
কিন্তু সেতো নিছক
জীবনের সাথে সমঝোতাই হবে,
দুই পৃথিবীর দুটো জীবন
তখন কি আর জীবন-খুঁজে পাবে ?

-----------------------------------------------------------------------------

সমুদ্র হোক বা পাহাড়,
নদী হোক বা পর্বত,
দৃষ্টির আরাম-খুজতে আমরা সবাই
ছুটে যেতে চাই ।
আর,শুধু কি চোখের আরাম ?
সাথে কাজের বিরাম,
মুখের আরাম,সঙ্গে পেটে একটু
রঙিন জল পড়লে,
পঞ্চ-ইন্দ্রিয়েরও সম্পুর্ন বিশ্রাম ।
কিন্তু যেতে চাইলেই
তো আর যওয়া যায় না,
ইচ্ছার সাথে ইনকাম
আর সাধ্যের সাথে সাধ মেলেনা ।
তবু কেউ মন ছোটো কোরো না ।
সমুদ্র,নদী,পাহাড়,পর্বত না থাকলেও,
মাথার উপর আকাশ তো সবার জন্য আছে ?
পুর্নিমা রাতে যখন চাঁদটা মেঘের
সাথে লুকোচুরি খেলে,
তখন শুধু চার দেয়ালের
বাইরে বেরিয়ে দেখো-
সাধ্যের মধ্যে সাধপুরণ
বা সস্তায় পুষ্টিকর যাই বলো-
দৃষ্টি-পথের শান্তি খুজে পাবে,
সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যাবে ।

-------------------------------------------------------

হঠাৎ পথে যদি সন্ধ্যা নামে,
যদি বৃষ্টি আসে আর না থামে,
যদি হৃদয়ের ধ্বস নেমে,
মনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়,
যদি চারিপাশে তাকিয়েও
চোখের নাগালে কাউকে না পাওয়া যায়,
তবে তাকেই এককথায়
একাকিত্ব বলা হয় ।
আর যখন হাজার মানুষের
ভিড়ে কেউ একা,
দৃষ্টিপথ ঝাপসা হয়ে আসা জীবনটা ফাঁকা,
তাকে কি বলে ?
চারপাশে হাজারটা স্বার্থপর সম্পর্কের ভিড়,
দিকভ্রান্ত নৌকার আশেপাশেই
রয়েছে নদির তির,
তবু কোনো পাড় আপনমনে হয়না,
কাছে টেনে নেয়না,
মাঝির অবুজ মনতাই,
সেথায় নৌকা ভেড়াতে চায়না ।
বৃথাই মন কেমন করা মনের এহেন
অবস্থার নাম কি ?
কি তার নাম দেবে যে শত আনন্দের
মাঝেও নিতান্ত উদাস ?
এও কি একাকিত্বের যন্ত্রনা,
নাকি এরই নাম একলা-বিলাস ?

-----------------------------------------------------------

পদ্ম-পাতায় বৃষ্টির ফোঁটা,
কতক্ষন জমে থাকে যদি দেখতে,
তবে হয়ত,আমাকে আর
ক্ষনিকের অতিথি মনে হত না ।
জীবনটা ততক্ষনই সুন্দর,
যতক্ষন সেটাকে ছোটো মনে হয়,
অতিরিক্ত দির্ঘ জীবন তখনই মনে হয়,
যখন তা অসহ্য হয় ।
সন্ধ্যার প্রবল বর্ষনের পর,
রাতে যখন বৃষ্টি ভেজা চাঁদ ওঠে-
না ঘুমিয়ে যদি তা একবার দেখতে,
তবে জীবনটা অল্প মনে হত ।
এই সময় ফুরাবে,
এই-চাঁদ এই-রাত একদিন
ছেড়ে যেতে হবে-যদি ভাবতে পারতে,
তবে হয়ত তখন তোমারও কান্না পেত ।

--------------------------------------------------------------------------------

হৃদয় জুড়ে চাহিদার জয়,
ভালোবাসা তবে কতটা জায়গা পেল ?
নিরবে নিভৃতে যতবারভাবি,
বারে-বারে তত নিজেকে ঘেন্না করে,
তবুও ছুটছি,ছুটেই চলব,
চাহিদা মিটিয়ে শান্তি আনব ঘরে ।
এভাবেই যদি হঠাৎ করে
তোমার-আমার সময় ফুরিয়ে যায়,
সেদিন চন্দন কাঠের চিতা,
হয়ত জ্বলবে তোমার মৃত-চাহিদায় ।
সেদিন হয়ত,জীবনের শেষে
আমরা বুঝব জীবনের ইতিকথা,
এখনও তো দেখি টাকাই সব,
টাকাই বলছে জীবনের শেষ কথা ।

------------------------------------------------------------------------------------

অতোটা হৃদয় প্রয়োজন নেই,
কিছুটা শরীর কিছুটা মাংস মাধবীও চাই।
এতোটা গ্রহণ এতো প্রশংসা প্রয়োজন নেই
কিছুটা আঘাত অবহেলা চাই প্রত্যাখান।
সাহস আমাকে প্ররোচনা দেয়
জীবন কিছুটা যাতনা শেখায়,
ক্ষুধা ও খরার এই অবেলায়
অতোটা ফুলের প্রয়োজন নেই।

বুকে ঘৃণা নিয়ে নীলিমার কথা
অনাহারে ভোগা মানুষের ব্যথা
প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই-
করুণাকাতর বিনীত বাহুরা ফিরে যাও ঘরে।

নষ্ট যুবক ভ্রষ্ট আঁধারে কাঁদো কিছুদিন
কিছুদিন বিষে দহনে দ্বিধায় নিজেকে পোড়াও
না হলে মাটির মমতা তোমাতে হবে না সুঠাম,
না হলে আঁধার আরো কিছুদিন ভাসাবে তোমাকে।

অতোটা প্রেমের প্রয়োজন নেই
ভাষাহীন মুখ নিরীহ জীবন
প্রয়োজন নেই- প্রয়োজন নেই

কিছুটা হিংস্র বিদ্রোহ চাই কিছুটা আঘাত
রক্তে কিছুটা উত্তাপ চাই, উষ্ণতা চাই
চাই কিছু লাল তীব্র আগুন।

-----------------------------------------------------------------

"দিবস রজনী"
_____রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিবস রজনী, আমি যেন কার
আশায় আশায় থাকি।
তাই চমকিত মন, চকিত শ্রবণ,
তৃষিত আকুল আঁখি॥

চঞ্চল হয়ে ঘুরিয়ে বেড়াই, সদা মনে হয়
যদি দেখা পাই--
'কে আসিছে' বলে চমকিয়ে চাই
কাননে ডাকিলে পাখি॥

জাগরণে তারে না দেখিতে পাই,
থাকি স্বপনের আশে--
ঘুমের আড়ালে যদি ধরা দেয়,
বাঁধিব স্বপনপাশে।
এত ভালোবাসি, এত যারে চাই,
মনে হয় না তো
সে যে কাছে নাই--
যেন এ বাসনা ব্যাকুল আবেগে,
তাহারে আনিবে ডাকি॥

----------------------------------------------------------------------

নীরার কাছে
..........সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

যেই দরজা খুলে আমি জন্তু থেকে মানুষ হলাম
শরীর ভরে ঘূর্ণি খেললো লম্বা একটি হলদে রঙের আনন্দ
না খুলতেও পারতে তুমি, বলতে পারতে এখন বড় অসময়
সেই না-বলার দয়ায় হলো স্বর্ণ দিন, পুষ্পবৃষ্টি
ঝরে পড়লো বাসনায়।

এখন তুমি অসম্ভব দূরে থাকো, দূরত্বকে সুদূর করো
নীরা, তোমার মনে পড়ে না স্বর্গনদীর পারের দৃশ্য?
যুথীর মালা গলায় পরে বাতাস ওড়ে একলা একলা দুপুরবেলা
পথের যত হা-ঘরে আর ঘেয়ো কুকুর তারাই এখন আমার সঙ্গী।

বুকের ওপর রাখবো এই তৃষিত মুখ, উষ্ণ শ্বাস হৃদয় ছোঁবে
এই সাধারণ সাধটুকু কি শৌখিনতা? ক্ষুধার্তের ভাতরুটি নয়?
না পেলে সে অখাদ্য কুখাদ্য খাবে, খেয়ার ঘাটে কপাল কুটবে
মনে পড়ে না মধ্যরাতে দৈত্যসাজে দরজা ভেঙে কে এসেছিল?
ভুলে যাওয়ার ভেতর থেকে যেন একটি অতসী রং হল্‌কা এলো
যেই দরজা খুললে আমি জন্তু থেকে মানুষ হলাম।


----------------------------------------------------------------------------------

জানতো এখন একা আমি
চারিদিক আঁধারে ঢাকা
ফ্যানটাও ঘুরছে বিদঘুটে শব্দ নিয়ে
এ ঘর থেকে ওঘরে হাঁটছি
আবছা আলোতে যতটুকু দেখা যায়ে
তাতে মনে হল তুমি দাঁড়িয়ে আছো পেয়ারা গাছ তলাতে
কথা ছিল আজ ভিজব দুজনে বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে
আকাশে চাঁদ জড়াচ্ছে তার আলো
পূর্ণিমা যে আজ
হঠাৎ কি যে হল
বৃষ্টি নামল
আমি চুপি চুপি নেমে গেলাম উঠানে
তোমার হাতটি ধরব বলে
কিন্তু তুমি আজ আছো দাঁড়িয়ে না শুয়ে
আমি ধীর পায়ে এসে বসি তোমার শিয়রে
জোৎস্না,বৃষ্টি আর আমি গল্প করব তোমার সাথে।।

------------------------------------------------------------------------------

"সখী আমার"
___ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সখী, আমার তৃষ্ণা বড় বেশি,
আমায় ভুল বুঝবে?
শরীর ছেনে আশ মেটে না,
চক্ষু ছুঁয়ে আশ মেটে না
তোমার বুকে ওষ্ঠ রেখেও বুক
জ্বলে যায়, বুক জ্বলে যায়
যেন আমার ফিরে যাওয়ার
কথা ছিল, যেন আমার
দিঘির পাড়ে বকের
সাথে দেখা হলো না!

সখী, আমার পায়ের তলায় সর্ষে,
আমি বাধ্য হয়েই ভ্রমণকারী
আমায় কেউ দ্বার খোলে না,
আমার দিকে চোখ তোলে না
হাতের তালু জ্বালা ধরায়,
শপথগুলি ভুল করেছি
ভুল করেছি
মুহুর্মুহু স্বপ্ন ভাঙে,
স্বপ্নে আমার ফিরে যাওয়ার
কথা ছিল,
স্বপ্নে আমার স্নান হলো না।

সখী, আমার চক্ষুদুটি বর্ণকানা,
দিনের আলোয় জ্যোৎস্না ধাঁধা
ভালোবাসায় রক্ত দেখি,
রক্ত নেশায় ভ্রমর দেখি
সুখের মধ্যে নদীর চড়া,
শুকনো বালি হা হা তৃষ্ণা
হা হা তৃষ্ণা
কীর্তি ভেবে ঝড়ের
মুষ্টি ধরতে গেলাম, যেন আমার
ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, যেন
আমার স্বরূপ দেখা শেষ হলো না।

--------------------------------------------------------------------------------

এক পায়ে পাথর আমার,
আরেক পায়ে মাটি !
কাঁদামাখা পথে তোমার,
আমি কি আর হাটি ?

এক হাতে আস্থা আমার,
আরেক হাতে ধোঁকা !
মরবো পুড়ে প্রেমে তোমার,
আমি কি অত বোকা ?

----------------------------------------------------------------------------

আমি ঘরে ফিরে এসেছি,ডানা মেলে ওড়ার স্বপ্ন পিছে ফেলে ।
পিছনে ফিরে দেখ,আমার রক্তাক্ত ডানা দুটো বাইরের
ডাস্টবিনে পড়ে পড়ে, পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে আজ ।
হারাতে চেয়েছি আমি, তাই হারিয়েছি যাযাবরের সাজ ।
ঠিক যেমনটি চেয়েছিলি,ফ্রেমে বাঁধানো ছবির মতন,
তেমনি রয়েছি । চেয়ে দেখ, আমি ঘরে ফিরে এসেছি ।
না ভুল করে নয়,এটা অনেক দুরদৃষ্টিপুর্ণ চিন্তার ফসল ।
যে ওড়া শান্তি দেয়না,কি লাভ তাতে ? সেই তো-
দুদিনের ইচ্ছে ডানার মুক্তি,আবার টানবেই পশ্চাতে,
তার চেয়ে বরং এই ভালো ।
ওড়ার চিন্তা নেই,দিগন্তের ডাক নেই,কাগজের নৌকা নেই,
বৃষ্টিতে ভেজা নেই,অসময়ের সর্দি-জ্বর নেই,কিচ্ছু নেই ।
আর যা কিছু আছে তা আমার জানা নেই । তবু কেন-
আজও তোর খুশি নেই ? কাগজের ফুলের কাছে সুগন্ধ চাস ?
খাঁচার পাখির কাছে আর কি আছে, শেখানো বুলি ছাড়া ?
সে যে ভুলে গেছে বর্ষার সুরে নাচতে পাগলপারা ।
আমি চাতক ছিলাম,আজ তোর কাঁচের গেলাস দেখে,
বৃষ্টির তৃষ্ণা ভুলে গেছি ।চেয়ে দেখ, আমি ঘরে ফিরে এসেছি ।

--------------------------------------------------------------------------------

বুকের মধ্যে বৃষ্টি নামে নৌকা টলমল
কুল ছিঁড়ে আজ অকূলে যাই এমন সম্বল
নেই নিকটে; হয়ত ছিল বৃষ্টি আসার আগে
চলৎশক্তিহীন হয়েছি তাই কি মনে জাগে ?
পোড়োবাড়ির স্মৃতি আমার
স্বপ্নে মেশা দিন
চলৎশক্তিহীন হয়েছি, চলৎশক্তিহীন ।

বৃষ্টি নামল যখন আমি উঠোন-পানে একা,
দৌড়ে গিয়ে ভেবেছিলাম তোমার পাব
দেখা ।
হয়ত মেঘে-বৃষ্টিতে বা শিউলিগাছের তলে
আজানুকেশ ভিজিয়ে নিচ্ছো আকাশ-
ছেঁচা জলে ।
কিন্তু তুমি নেই বাহিরে– অন্তরে মেঘ
করে,
ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের
মধ্যে ঝরে !

-----------------------------------------------------------------------------------

দেখা হবে বন্ধু কারনে আর অকারনে
দেখা হবে বন্ধু চাপা কোন অভিমানে
দেখা হবে বন্ধু সাময়িক বৈরিতায়,
অস্থির অপারগতায়...
দেখা হবে বন্ধু নাটকীয় কোন
বিনয়ী ভঙ্গিতে
ভালোবাসার শুভ্র ঈঙ্গিতে
দেখা হবে বন্ধু নিয়ত প্রতিদিন পাশ
কেটে যাওয়া
সন্ধ্যার হিমেল হাওয়ায়
দেখা হবে বন্ধু শ্লোগান মুখর কোন এক
মিছিলে...
ব্যাস্ততা থেকে ডের দিলে
দেখা হবে বন্ধু ভীষণ খেয়ালী মনের
আতিথিয়তায়
উচ্ছাসে প্রণয় প্রাক্কালে...

----------------------------------------------------------------------------

জীবনের বাস্তব কোনটা ?
যেটা ঘটছে,যেটা ঘটে গেছে,
না যেটা ঘটবে ?
যেটা ৮০ % মানুষের
সাথে ঘটে-
সেটা যদি বাস্তব
না হয়,তবে বাকি ২০ %
বাস্তব-
বেঁচে থাক বস্তবের
কলঙ্ক হয়ে । নাঃ,কারোর
কোনো আপত্তি নেই ।
কেউ বলবেনা দেশের
অর্ধেক মানুষ অর্ধভুক্ত,
কেউ
বলবেনা বেকারে দেশটা ছেয়ে গেল,কেউ
বলবেনা-
"আমার ছেলেটার রক্ত
চুষে নিচ্ছে মাল্টিন্যশনাল
কোম্পানি",
কেউ
শুনতে পাবে না ফুটপাথের
মৃতপ্রায় মানুষের
গোঙানি ।
খাতায়
কলমে ধনধান্যে পুষ্পে ভরা হবে আমাদের
বসুন্ধরা,
দেশের
মানুষকে নিচে রেখে দেশ
উঠে যাবে দারিদ্রসিমার
উপরে ।
যারা কাছ
থেকে পৃথিবী দেখেনি,যারা কোনোদিন
দারিদ্র দেখেনি,
বাস্তবের কঠিন
রোদে যারা কখনও
পায়ে হেঁটে দেখেনি,
তাদের মুখেই
শুনতে হবে জীবন গড়ার
মানবিক ভাসন ।
যারা কভু কষ্ট
পায়নি তাদের কাছেই
শুনতে হবে কষ্টের কারণ

তা বেশ,এভাবেই
হয়ে যাক শেষ ! নাঃ,
কারোর
কোনো আপত্তি নেই ।


-------------------------------------------------------------------------

প্রতিটা স্বপ্নের শহরের বাসিন্দা,
অন্য শহরেরস্বপ্ন দেখে ।
হ্যাঁ,স্বপ্নের রূপকথার রাজকুমারিও
স্বপ্নে পৃথিবী দেখে।
সোনার সিংহাসনে বসে রাজারও,
পর্ন-কুঠিরে রাত কাটানোর
রোমাঞ্চকর ইচ্ছা জাগে।
ভরা পেটে মেদ ঝরানোর
উপবাস বেশ লাগে ।
তেমনি-
প্রতিটা স্বপ্নের শহরের বাসিন্দা,
অন্য শহরের স্বপ্ন দেখে।
ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে যেমন
লাখ-টাকার স্বপ্ন আসে,
তেমনি,নরম স্লিপ-ওয়েল-এ শুয়েও
অনেকের-খোলা মাঠের
খোলা হাওয়ার স্বপ্ন আসে ।
আসলে আমরা বদলাতে চাই,
প্রতি মুহুর্তে, প্রতি দিনে,
নাহয় বছরে অন্তত একবার !
আর যখন বহু-বছরে একবারও
বদলানো যায়না,
তখনই শুরু হয় হৃদয়ের
একঘেঁয়ে বায়না।
যতনে লুকানো আঁখিজল
গড়িয়ে পড়ে নয়ন থেকে,
তাই-
প্রতিটা স্বপ্নের শহরের বাসিন্দা,
অন্য শহরেরস্বপ্ন দেখে।

-------------------------------------------------------------------------

*বৃষ্টি ভেজা কথপোকথন*

মেয়ে:-
এতো দেরী করলে কেন? সেই কখন
থেকে অপেক্ষা করছি।
ছেলেঃ–
কি করবো বলুন ম্যাডাম? টিউশনি শেষ
করে বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। আমার জন্যে তো আর
গেইটের বাইরে মার্সিডিজ
দাঁড়িয়ে থাকে না যে ড্রাইভারের কুর্নিশ নিতে নিতে হুট
করে ঢুকে পড়বো। তাই ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, কাদা-জল
ভেঙ্গে, গরীবের গাড়ি মানে দু’পায়ের উপর ভরসা করেই
আসতে হয় আপনারআমন্ত্রণ রক্ষা করতে। তবে আজ
রিক্সায়করে এসেছি নইলে একেবারে কাকভেজা হয়ে যেতাম।
রিক্সা খুঁজে পেতেই যা দেরী হলো।
মেয়ে:-
ইস্ বেশ ভিজে গেছো দেখছি। কাছে এসো তো, রুমাল
দিয়ে মুছে দিই।
ছেলেঃ–
ওহো, আমি তো ভেবেছিলাম তোমার শাড়ির আঁচল
দিয়ে মুছিয়ে দেবে। ঠিক আছে, রুমালই সই।
মেয়ে:-
না মিস্টার, ওটা ভবিষ্যতের জন্য জমা থাকুক। যখন
তোমার বউ হবো তখন ইচ্ছেটা পূরণ হবে।
ছেলেঃ–
আচ্ছা। আর যদি তা না হও,
তবে আমি বুড়ো বয়েসে পান চিবোতে চিবোতে কোন
এক বাদলঘন দিনে বসে বসে রোমন্থন করবো আজকের
এই রুমালি ভালোবাসাময় সময়টাকে।নাতিপুতিকে তখন
প্রথম প্রেমিকা আর এইরুমালটার গল্প শোনাবো।
মেয়ে:-
প্লিজ, এভাবে বলো না। কেন
আমি তোমাকেপাবো না? তুমি কি আমাকে চাও না?
আমাকেভালোবাসো না?
ছেলেঃ–
উত্তরটা আসলে একটু কঠিন। তোমাকে চাই আবার
চাই না। ভালোবাসি আবার বাসি না।
মেয়ে:-
হেয়াঁলি রাখো। আমি স্পষ্ট জানতে চাই।
ছেলেঃ–
তবে শোন। আমার প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামের
নির্মম বাস্তবতা তোমার জানা নেই। সেই
জীবনে তুমি কখনো অভ্যস্ত হতে পারবেও না।
তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?
মেয়ে:-
হ্যাঁ, করো।
ছেলেঃ–
একটু আগে একটা টং-এর দোকানের
ছাউনিতে গা বাচিয়ে রিক্সা খুঁজছিলাম।খুব শীত শীত
লাগছিলো, তখন চা খেয়েছিলাম ভাঙ্গা কাপে।
আধধোয়া সে কাপে লেগেছিলো অনেক মেহনতি মানুষের
ঠোঁটের ছোঁয়া, লেগেছিলো থুতুও যা এখনোআমার
ঠোঁটে লেগে আছে। তুমি কি পারবে সেই ঠোঁটে চুমু
খেতে?

----------------------------------------------------------------------

মেয়ে, আর যাই করো
কখনো দরিদ্র প্রেমিকের হাত ধরে
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে হেঁটোনা।
ক্ষুধাপেটে শুধু হাঁটতেই হবে,
খাবার পাবেনা।
পথিমধ্যে বারকয়েক
হোঁচট খেতে হতে পারে,
উঠে দাঁড়ানোর শক্তিও হয়তো তখন
থাকবেনা তোমার!
হাঁটতে হাঁটতে হাঁপাতে থাকা
ক্ষুধার্ত বলহীন প্রেমিক
নিজেকেই বাঁচাতে পারবেনা,
তোমাকে বাঁচাবে তা ভাবলে কি করে?
ওকথা ভুলেও ভেবনা মেয়ে!
গাছতলাতেই রাত কাঁটাতে পারবে ভাবছো?
শিয়াল কুকুরের ভয় নেই তোমার?
অনেককিছু ভেবে রেখেছো জানি,
কতশত রোমান্টিক স্বপ্নের জাল বুনেছো,
তৈরি করে রেখেছ
হাজারটা পাগলামির সমীকরণ,তাইনা?
কিন্তু মেয়ে,
শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি যে,
ওসব শুধু সিনেমাতেই সম্ভব,
জীবনটাতো আর সিনেমা নয়!
সিনেমাতে ভরা পেট নিয়ে
ক্ষুধার্তের অভিনয় করা যায়,
কিন্তু বাস্তবে পেটভর্তি ক্ষুধা নিয়ে
ক্ষুধা লাগেনি-এমন অভিনয় করা খুবকঠিন!
এটা বাস্তব,চরমবাস্তব ।
বাস্তবকে বাল্যকালের
পুতুল খেলার সাথে ভুলেও
মিলিয়ে ফেলনা যেন!
বাস্তব সে যে অনেক কঠিন,
মেয়ে! বিশ্বাস করো,
এয়ারকন্ডিশনের ঠাণ্ডা বাতাসে শুয়ে
তুমি রচনা করেছ যেসব স্বপ্ন,
তার একটাও হয়তো পূরণ
হবে না তখন!
তাই তখন কোলের উপর
ঘুমন্ত প্রেমিককে রেখে-আকাশের
তারা গুনতে ভালো লাগবেনা,
চাঁদের আলো দেখলে
ভীষণ বিরক্ত লাগবে।
মনে হবে- সূর্য উঠবে কখন?
আর কখন হতচ্ছাড়া প্রেমিকটাকে
তাগাদা দিতে পারবে খাবার আনার জন্য!
সত্যি বলছি মেয়ে, তুমি যে প্রেমিকের
ঘুমন্ত চেহারা দেখার জন্য ব্যাকুল ছিলে,
আঙুল ছোঁয়াতে চেয়েছিলে প্রেমিকের
ঘুমন্ত চোখে,দুগালে এঁকে দিতে চেয়েছিলে
তোমার গাঢ় লিপস্টিক
মাখানো ঠোঁটের দুটো প্রলেপ,
চুলে বিলি কেটে দিতে চেয়েছিলে,
মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে আদর
করতে চেয়েছিলে
নিজের সর্বস্ব উজাড় করে-সে প্রেমিকের ঘুমন্ত
রূপটা তখন বড় বিভত্স মনে হবে তোমার!
হয়তো ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে
ঘুমন্ত নিষ্কর্মা প্রেমিকটার গলা টিপে মেরে ফেলে
চলে যেতে ইচ্ছে হবে মায়ের কোলে!
এত কষ্ট সহ্য হবেনা তোমার,মেয়ে,
পারবেনা তুমি...
তখন তোমার হয়তো মনে হবে,
"ভালবাসা ঘোড়ার ডিম,
ভালবেসে ছাই হয়,
এত কষ্ট আগে জানলে কখনো
ভালোইবাসতাম না,
সব ওই হতচ্ছাড়ার দোষ!"
তাই বলছি,তারচেয়ে তুমি বরং ঘরেই
থাকো মেয়ে,মায়ের কোলেই থাকো!
খবরদার! বুকের ভেতর ফ্যান্টাসি ধারণ করে,
ভালবাসার জন্য ঘর ছাড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে-প্রেমিকের
কষ্টটা অহেতুক বাড়িওনা!
অহেতুক বাড়িওনা!!!


------------------------------------------------------------------------------

"নাঃ,ছেলেটার
একটা চাকরি হলনা,কোনো চেষ্টা নেই,
দিন আনা-দিন খাওয়া মোনোভাব চিরকাল।
গ্রাজুয়েট ছেলে হয়ে চাকরি না করে,
 কালিঝুলি ঘাঁটে,কম্পিউটার মেকানিক,
কোনোমতেদুবেলা-দুমুঠো জোটে ।"
এমনই হাজার কথা ওঠে,
সম্পর্কের নিত্য আঙিনাতে !
উফ্ ! সবাই কে একরকম হতে হবে,
একটাই ছক !
যে বাবা-মায়েরা সন্তানের
বদলে এক-একটা করে
রোবোট বানিয়ে নেয়না ?
আমার মাথায় ঢোকে না ।
সবার জীবনটা যে এক-
একটা আলাদা জীবন,
হাঁসি-কান্না-আনন্দের
মানেটা যে সবার কাছেই আলাদা,
নাঃ,সেটা তাদের আজও বোঝানো গেলনা ।
 তাই হয়ত আবার শুনতে হবে,
"নাঃ,ছেলেটার একটা চাকরি হলনা,"

------------------------------------------------------------------------------------

তুই কি আমার বন্ধু হবি
দুর্নিবার দ্বন্দ্বময় জীবন যাত্রায়
আমাকে আগলে রাখবি,
একাকিত্তের অভিশাপ
আলগোছে সরিয়ে
খুব যত্নে হাত টা ধরে থাকবি...

তুই কি আমার বন্ধু হবি?
প্রতিশোধ নয় রাগ অনুযোগ নয়
মান অভিমানের ছোঁয়ায় আমায় চাইবি,
কষ্ট যন্ত্রণায় ভেঙে পরা সময়ে
তোর ঘাড়ে আমার মাথাটা রাখতে দিবি...

------------------------------------------------------------------------------

অতএব আমি কোনো মেয়ের
চোখের দিকে তাকাব প্রথমে;
তারপর বাঁচি আর মরি তাকে ভালোবেসে,
 তার কাছে ভালোবাসা শিখে
আপ্রাণ চেষ্টার পরে ব্যর্থ হবো।
শেষে বিখ্যাত কষ্টকে ভালোবেসে
আমি কবি হবো

------------------------------------------------------------------------

আমি বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
আমি দেখতে এসেছি তোমাকে,
কেমন আছো তুমি?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তোমার চোখের
কাজল ঠিক আছে কিনা!
তোমায় ছোঁয়া পেতে তোমার
পাশে বসিনি,
দেখতে এসেছি তোমার আমার
চোখাচোখি আগের মত হয় কিনা!
আমি বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি খোপায় তোমার
বেলীফুল জড়ানো কিনা?
মেহেদী রঙে আমার নামের অক্ষর
তোমার হাতে সাজানো আছে কিনা!
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তোমার চোখের
পলক
আগের মতো পড়ে কিনা!
দেখতে এসেছি তোমার
কানে আমার দুল আছে কিনা?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তোমার
মায়াবি হাসিটা এখনো আছে কিনা!
হাতের চুড়ির ঝুনঝুন শব্দ
কানে বাজে কিনা?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তুমি আগের
মতো আছো কিনা?
রাগলে তোমাকে লাল
বর্ণে দেখায় কিনা!
হাসির
শব্দে আমাকে এলোমেলো করে দাও
কিনা!
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি কপালের
তিলটা তোমার বড় হয়েছে কিনা!
দেখতে এসেছি মুখের
ভেংচি গুলো তোমার
এখনো আমার জন্য জমানো কিনা?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
শুধু এতোটুকু বলতে এসেছি,
আমি হীনা তুমি ঠিকই আছো
একদম আগের মত।

--------------------------------------------------------------------------------

কবিতার ছড়াছড়ি,
তথ্যের গড়াগড়ি,
ভুলত্রুটি ধরাধরি,
ব্লগের কড়াকড়ি,
কত কথা আহামরি।
কেহ করে বাড়াবাড়ি,
বন্ধুত্বের ছাড়াছাড়ি।
রঙ ছবি টুকটুক,
মনের মাঝে ধুকধুক,
এ সব নিয়ে ফেসবুক।
লেখা ছবি করে পোষ্ট,
বসে বসে করে নোট।
কতটা সে পায় ভোট,
অপেক্ষায় দাঁতে ঠোঁট।
লাইকে যদি দেয় খোট,
নোটিফিক গনে মোট।
না পেলে কোন ভোট,
মনে মনে পায় চোট।
তাই বলি বন্ধু ভাই,
মনটা করে হাই ফাই।
লাইক কমেন্ট দুই চাই।
বন্ধু ছাড়া জীবন নাই।

-----------------------------------------------------------------------------

একদা বদলে গেল আমার
ছেলেবেলা,
দিনগুলো কাটতে থাকল
বড্ড একেলা।
১৬ বছর ঘুরে আমাতে এল
বসন্ত,
পথ চলতে চলতে দিলাম
হসন্ত।
ছিলাম ভাল নিয়ে আমার
মধুর শৈশব,
মন মাঝারে এল
বাসন্তী পাখির কলরব।
দুষ্টুমিতে মেতে থাকতাম
বন্ধুদেরই মাঝে,
এখন আমার
সময়গুলো ব্যস্ত অন্য
কাজে।
চাঁদ ছিল নিতান্ত
পৃথিবীর একমাত্র
উপগ্রহ,
আজ সে আমায়
জোছনা বিলায়;
করে অনুগ্রহ।
এই সেদিনের শিশু আজ
টগবগে তরুণ,
রাত্রি শেষে পূর্বাকাশে জাগিছে অরুণ।
চারিদিকে শুনি জাগরণী গানের
আহবান,
কল্পনার
জগতে আমি করি নতুন
ভান।
লাল পেড়ে সফেদ
বসনে মন পড়ে বাঁধা,
কৃষ্ণ হয়ে খুঁজে নিই আমার
প্রেমের রাধা।
পান্তা-ইলিশ
জিভে এনে দেয় জল,
অন্তরে তখন ঝড়
উঠেছে প্রবল।
হাঁটু মুড়ে বলি,
“এসো হে বৈশাখী,
আঁচল উড়িয়ে আজ এসো।
আমি না হয়
বেশি বাসলাম
তুমি একটু কম
ভালোবেসো।”


------------------------------------------------------------------------------------

তুমি কি আমার দু'হাত
ভরা জোছনা হবে ?
আদর
দিয়ে,মাখবো তোমায়
আমার গালে ।
তুমি কি দক্ষিণ বাতাস
হয়ে আসবে কাছে ?
খরতাপে,দুঃখে,শোকে
পুড়বো যখন এক সকালে ?
বল,তুমি কি বৃষ্টি হয়ে ভেজাবে আমায় ?
ক্লান্তি এসে করবে যখন
দখল আমায় ?
তুমি কি হবে এক
আজলা জল আমার ?
তৃষ্ণা আমার
মিটিয়ে দিয়ে
ভিজিয়ে দেবে দেহের
খামার ?
তুমি আমার
একটুখানি অক্সিজেন
হবে ?
নিঃশ্বাস যদি বন্ধ
হতে চায় কখনও ?
তুমি কি আমার
একটি রাতের ঘুম হবে ?
ঘুম যদি আমার কাছে
নাইবা আসে আর কখনও ?
তুমি কি আমার
একমুঠো স্বপ্ন হবে ?
হাতটা ধরে দুজন মিলেই
দেখবো না হয় ।
তুমি কি আমার গোপন কোন
কষ্ট হবে ?
বুকের ভেতর খুব যতনে
লুকিয়ে তোমায়
রাখবো না হয় ?
তুমি কি আমার সুন্দরতম
মিথ্যা হবে ?
সত্যগুলো ভীষণ কঠিন হয়
আমায় তুমি মিথ্যে করেই
জড়িয়ে রেখো
তোমায় ছেড়ে দূরে যেতে
আমার ভীষণ ভয়...

------------------------------------------------------------------------

এই যে!
একটু এদিকে তাকাবে?
নাকি এখনো মুখটা ঢেকে রাখবে!
দেখবো তোমার কাজল
মাখা চোখ,
ওদিক
তাকিয়ে খেয়ো না আর
নোখ.
হাতটা একটু দিবে!
কিছু সময় ধরে রাখবো,
চাইলে তা ধরেই
হাটবো..
এই যে!
একটু হাসবে?
দেখবো তোমার কিছু দাত,
নাকি তাও
ঢেকে রাখবে মুখে রেখে হাত!
এই যে!
রাগ টা কি আরো রাখবে?
রাগের
কারনে যদি নাহি হাসো,
অভিমান নিয়েই আমার
পাশে বসো..
চলো একটু হাটি তোমার
হাত ধরে,
দিবে কখন রাগ
নিয়ে চিমটি অনেক
জোরে!
করবে কখন আমার
থেকে রাগটুকু শেষ,
এলোমেলো করার
অপেক্ষায় তোমার
বেধে রাখা কেশ...

----------------------------------------------------------------------------------

তুমি দরজা নাও
খুলতে পারো
আমি কি পাখি যে সারারাত
ভাঙ্গাগলায় তোমাকে
ডাকতে পারবো,
আমি কি নদীর ঢেউ
যে আছড়ে পড়তে পারবো
তোমার দুয়ারে এসে,
এমন কি কেউ যে অবিরাম
করাঘাত করতে করতে
চেনা কণ্ঠে বলতে পারবো,
দরজা খোলো;
আমি তেমন কেউ নই,
নদীর ঢেউ নই,
রাতের পাখি নই,
পুরনো প্রেমিক নই
যার মৃদু
করাঘাতে বিশ্বস্ত
ডাকে তুমি তৎক্ষণাৎ
দরজা খুলে দেবে।
আমি জলের স্রোতের মতো,
বাতাসের
কাঁপা কণ্ঠস্বরের মতো
অস্থির শিশিরবিন্দুর
মতো নিঃশব্দে তোমার
পায়ে ঝরে পড়ি
সেই জল কখনো তোমার
চোখে পড়ে, কখনো পড়ে না;
এই সামান্য সঞ্চয়
নিয়ে আমি তোমার
কাছে খুব
বেশি কী চাইতে পারি?
তুমি ডাক শুনতে পারো, নাও
পারো
ফিরে তাকাতে পারো, নাও
পারো,
তখনই
দরজা খুলে আমাকে অভ্যর্থনা জানাবে
সেতো আশাই করি না।


Comments

Popular posts from this blog

*** শ্রীজাত **

ভাঙছে ঠুনকো আড্ডা সাতটা লাল চা, বিস্কুট দাম মেটাচ্ছে খুচরো। অল্প-অল্প বৃষ্টি একলা হাঁটছি, আস্তে স্বপ্ন বলতে চাকরি অস্ত্র বলতে ধান্দা সত্যিমিথ্যে বন্ধু পেট গোলাচ্ছে, যাক গে ফিরতে ফিরতে রাত্তির ভাত সামান্য ঠান্ডা খাচ্ছি, গিলছি, ভাবছি ছোট্টো একটা জানলার পাল্লা ভিজছে হয়তো, নীলচে শান্ত পর্দা একটু-একটু দুলছে, চুল গড়াচ্ছে বিছনায়, পাতলা, স্বচ্ছ নাইটি… -------------------------------------------------------------------------- সহজভাবে পড়তে আসি দরাজ পাঁচিল, রোদের চিকন হালকা সেসব শব্দ, তবু তোমরা বল দেওয়াল লিখন সহজভাবে দেখতে আসি টুকরো কাপড়, রঙের মজা হাওয়ায় কেমন দিব্যি ওড়ে, তোমরা বল জয়ধ্বজা সহজভাবে শুনতে আসি ভালই লাগে আমারও গান সুরের যত রকমসকম - তোমরা বল দাবি, স্লোগান সহজভাবে হাঁটতে আসি আলগা পায়ে আলতো হোঁচট পথের ধারে খোলামকুচি তোমরা বল বিরুদ্ধজোট এসব যদি সহজ না হয় সহজ তবে বলব কাকে? তার চাইতে তোমরা বরং জটিল করে দাও আমাকে। ------------------------------------------------------------------------- সারারাত ঝড়ের পরে তোমার কাছে আসা ভেবেছি শিখিয়ে দেব সকালবেলার ভাষা সকালের গাছগুলো সব নিথর, জড়োসড়ো অভি...

***ভালোবাসা পুঁজি করে নেমে পড় জীবনযুদ্ধে ***

একটা ব্যাকডেটেড মেয়ে খুজে নাও । যে ভালোবাসি বলার আগে তিনবার হোচট খাবে । মাঝে মাঝে হাল্কা শাসনে যে মনে করিয়ে দিবে জীবনের কথা । এত্তোগুলা ভালোবাসা পুঁজি করে নেমে পড় জীবনযুদ্ধে । বাসের ভিড়েপরম যত্নে শরীর দিয়ে আড়াল কর তার খোপার উদ্দেশ্যে কিনে নেয়া রক্তগোলাপটাকে। একটা ভালো ছবি তুলে বেড়ে যাক তোমাদের ভালোবাসা । শীতার্ত সন্ধ্যায় চায়ের কাপ টুকু ভাগাভাগি করে বুঝে নাও তোমাদের ভাল থাকার অধিকার। কপালে নেমে আসা ওর দুএকটা চুলে আঙ্গুল বোলাও অবুঝ আহ্লাদে । কোন এক শীতার্ত দুপুরে কোনও পার্কে ডুব দাও তার ঠোঁটের আটলান্টিকে। শুধু একটা ব্যাকডেটেড মেয়ে খুজে নাও ... ভালোবাসার থার্মোমিটার ফাটিয়ে দাও!!! ---------------------------------------------------------------------- আমার শব্দ চয়নে আভিজাত্য নেই; প্রতিদিনকার চাল,ডাল, লবণ পিয়াজের মতো নিত্যনৈমিত্তিক খাবারে মতো সাধারণ শব্দে আমার কাব্য যেমন সাধারণ আমার পরিধেয়। তোমাকে ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় বিলাসিতা! যদি আমাকে ভালবেসে পাশে থাকো তবে আমি চিরকাল সাধারণই থাকবো যা আমার আমিত্বের প্রকাশ। আমি সব হারাতে প্রস্তুত; কিন্তু আমার...