একটা ব্যাকডেটেড মেয়ে খুজে নাও ।
যে ভালোবাসি বলার আগে তিনবার হোচট খাবে ।
মাঝে মাঝে হাল্কা শাসনে যে মনে করিয়ে দিবে
জীবনের কথা ।
এত্তোগুলা ভালোবাসা পুঁজি করে নেমে পড়
জীবনযুদ্ধে ।
বাসের ভিড়েপরম যত্নে শরীর
দিয়ে আড়াল কর তার খোপার
উদ্দেশ্যে কিনে নেয়া রক্তগোলাপটাকে।
একটা ভালো ছবি তুলে বেড়ে যাক
তোমাদের ভালোবাসা ।
শীতার্ত সন্ধ্যায় চায়ের কাপ টুকু ভাগাভাগি করে বুঝে নাও
তোমাদের ভাল থাকার অধিকার।
কপালে নেমে আসা ওর
দুএকটা চুলে আঙ্গুল বোলাও অবুঝ আহ্লাদে ।
কোন এক
শীতার্ত দুপুরে কোনও পার্কে ডুব দাও তার
ঠোঁটের আটলান্টিকে।
শুধু একটা ব্যাকডেটেড
মেয়ে খুজে নাও ... ভালোবাসার
থার্মোমিটার ফাটিয়ে দাও!!!
----------------------------------------------------------------------
আমার শব্দ
চয়নে আভিজাত্য নেই;
প্রতিদিনকার চাল,ডাল,
লবণ পিয়াজের মতো
নিত্যনৈমিত্তিক
খাবারে মতো সাধারণ
শব্দে আমার কাব্য
যেমন সাধারণ আমার
পরিধেয়।
তোমাকে ভালোবাসাই
আমার সবচেয়ে বড়
বিলাসিতা!
যদি আমাকে ভালবেসে পাশে থাকো তবে
আমি চিরকাল সাধারণই
থাকবো যা আমার
আমিত্বের প্রকাশ।
আমি সব হারাতে প্রস্তুত;
কিন্তু আমার সাধারণত্ব
হারাতে পারবোনা
ভালো থেকো তুমি আমার
প্রিয় কাশফুলের
শুভ্রতায়।
-------------------------------------------------------------------------
আমার,প্রতিটা শুরুর শেষ দেখতে সাধ হয়,
প্রতিটি ক্ষন যেমন শেষের জন্যই শুরু হয়,তেমনি ।
তেমনি আমি অনেক শুরুর শেষ খুঁজে ক্লান্ত হব,
তেমনি আমি কয়েক লক্ষ শুরুও করে যাব ।
জীবন থেমে নেই,একদিন মৃত্যুতে শেষ হয়ে যাবে,
প্রতিটা শুরুর যেমন শেষ হয়,জীবনও শেষ হবে ।
তবু সেই শেষের আগে যদি-
অনেক ছোটো ছোটো শুরু এবং শেষ করা যায়,
তবে দীর্ঘ জীবনের একঘেঁয়েমি কেটে যায় ।
তাই আমার,প্রতিটা শুরুর শেষ দেখতে সাধ হয় ।
সেই শেষের পর, হবে আবার নতুন কোনো শুরু,
আবার নতুন করে বুকের ভিতর দুরু দুরু,
আবার নতুন জীবন,আবার সহজ ভিরু চোখে চাওয়া,
জীবনের নতুন রঙে, আবার নতুন ভেসে যাওয়া ।
--------------------------------------------------------------------------
মাঝ বয়সে দাঁড়িয়ে যখন
অতিত দেখি,সেখানে
ছেলেবেলার সেই
ছেলেটাকে ঠিক
সেইভাবেই পাই,
বোকা বোকা চাহুনি,এলোমেলো চুল,আর
ভিরু দৃষ্টি ।
বড় ছোটো ছোটো কারণেই
সে বড় বেশি ভয় পেত,
যেমন স্কুলের
পড়া হয়নি,পরিক্ষার
ফলাফল,
ঘুম না আসলে মায়ের
বকুনি ইত্যাদি আরো অনেক
।
ভাবত কবে বড় হবে,স্কুলের
পাঁচিল পেরোবে,মায়ের
শাশনের
গন্ডি থেকে বেরিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবে ।
আর আজ ? বড় হতে বড় ভয়
করে,হাঁপ ধরে ।
আজ প্রতিদিন
প্রতিক্ষনে জীবনের
পরিক্ষা চলে,
সময়ের ইস্কুলে জীবনই
মাস্টার মশাই,পড়া ধরে,
শুধু আজ আর কোনো কিছুতেই
কখনও ভয় করে না,
ভয়-গুলো সব,ভয়
পেতে পেতে, ভয়েই
মরে গেছে ।
এমনি ভাবেই জীবনটা আজ
মাঝবয়সে দাঁড়িয়ে আছে ।
--------------------------------------------------------------------------------------
শীত আসছে
আলমারি থেকে সদ্য নামানো
ন্যাপথালিনের গন্ধ মাখা
মোটা কাপড়ে সাথে
শীত আসছে ।
ঘনিষ্ঠ হয়ে বসা প্রেমিকের
উষ্ণ নিঃশ্বাসে
প্রেমিকার বুকের ওমে
ভয় হারানো চুমে
শীত আসছে ।
গভীর রাতে দূর থেকে ভেসে আসা
ট্রেনের হুইসেল
আর শিশির ঝরার শব্দে
আশৈশব স্মৃতি নিয়ে
আবারো শীত আসছে ।
-----------------------------------------------------------------------------
এতদিন ধরে যে কাশগুলো
পথ ও নদীর দু পার আলো করেছিল
হেমন্তের প্রথম আবির্ভাবে
নিঃশব্দে কেমন ঝরে গেল ।
বলে গেল তারা এটাই নিয়ম
শরতের পর হেমন্ত আসে
থামলে পরে হিমেল হওয়া
শিশির পড়ে ঘাসে ঘাসে ।
----------------------------------------------------------------------------------
সে কত পুরনো কথা
যেন এ জীবনের ঢের আগে আরেক জীবন
তোমাকে বাড়ির পথে ছেড়ে দিয়ে -
অন্ধকারে যখন গেলাম চলে চুপে
তুমিও ফিরনি পিছে
তুমিও ডাকো নি আর
আমিও খুঁজিনি আন্ধকারে ।
তোমাকে বাড়ির পথে ছেড়ে দিয়ে -
অন্ধকারে যখন গেলাম চলে চুপে
তুমিও ফেরনি পিছে
তুমিও ডাকো নি আর
"আমার ও নিবিড় হলো মোন" ।
------------------------------------------------------------------------------
সম্পর্কের দুরত্বটা কিলোমিটার বা মাইলে মাপা যায়না,
কাছে থেকেও কতটাই বা কাছে আসতে পারি ?
আবার অনেক সময় দুরে থেকেও মনের হাতটা ধরতে পারি ।
সম্পর্ক অনেক রকম হয়,দুরত্বও অনেক রকম হয়,
শুধু চোখে চোখ পড়ে গেলে মুখ-ঘুরানো,সেটাই বিবাদ নয়,
পথ চলতে হঠাৎ দেখা হলে,হাঁসি মুখে খেজুরে আলাপ চলে,
হাসি মুখ গুলো মনের ভিতর মনের সাথে অন্য কথা বলে,
"এমনও অনেক সম্পর্ক আছে,যা মৃত্যুর কিনারায় বেঁচে রয়,
নাঃ,সর্বদাই কি সম্মানের বেড়া ভেঙে মুখ ফেরানো যায় ?"
তাই,সম্পর্কের দুরত্বটা কিলোমিটার বা মাইলে মাপা যায়না,
সবগুলোকে পরিমিতির নির্দিষ্ট ছকে ফেলা যায়না,
অনেক রকম মানুষ যেমন,তেমনি সম্পর্কের অনেক রকম রূপ,
কখনও ভালোবাসার চোরাবালি,কখনও প্রেমের অন্ধকুপ,
কখনও বন্ধুত্বের আলো আবার কখনও শত্রুতার বিষাক্ত ছায়া,
কখনও পিঠপিছে চোরা-গোপ্তা ছুরি,কখনও বা সম্মানের মায়া ।
"এমনই নাম না-জানা বেনামি বেজন্মা আরো কত সম্পর্ক আছে,
গোটাকতক হারিয়ে গেছে,আবার কয়েকটা আশেপাশেই আছে ।"
---------------------------------------------------------------------------------
সেই
কবে থেকে আমি দুটো চোখের আয়না খুঁজে চলেছি,
এমন দুটো চোখ,
যার আয়নায় নিজেকে সুন্দর মনে হয় ।
যেখানে নিজের ছায়াটা একেবারেই কলঙ্কিত নয় ।
সেই ১০ বছর বয়সে,
যখন সম্পর্কের মারপ্যাঁচ বুঝতাম না,
তখন টুকটুকি বলেছিল
তোর সাথে আর খেলব না,
তুই খেলায় চিটিং করিস,
তার চোখে তখন চোর দেখেছিলাম ।
তারপর থেকে চোখের দিকে চাইতে ভয় পেতাম,
পৃথিবীর সব সুন্দর চোখ গুলোকে সভয়ে এড়িয়ে যেতাম ।
তবু একদিন কলেজের পথে,কোনো এক চোখে চোখ পড়াতে,
চোখ দুটো ফের আটকে গেল,
হৃদয়টার ফের তৃষ্ণা পেল,
কয়েক মাস চোখাচোখির পরেই নন্দিনি বলেছিল-
"এইভাবে আমার পিছু নিওনা,আমার জীবনে অন্য কেউ আছে,"
তার চোখে সেদিন অনাহুত এক নিজেকে দেখেছিলাম ।
তার কয়েক বছর পর কিছুদিন সুদেষ্ণার চোখে নিজেকে দেখতাম,
বেশ ভালোই লাগছিল নিজেকে,কিন্তু যেদিন
সে বড়লোকের ব্যাবসায়ি ছেলেটার সাথে পালিয়ে গেল,
সেদিন তার চোখে নিজেকে বড় কাঙাল,
ভিখারি মনে হয়েছিল ।
তারপর অনেক বছর
পেরিয়ে গেছে,জীবনটাও
বেশ পাল্টে গেছে,
আজ সারাক্ষন তোর
দুটো চোখের আয়না আমায় ঘিরে থাকে,
আমিও তাতে আমায় খুঁজি সারাক্ষন,
কিন্তু পাইনা আমাকে,
সুন্দর কুতসিতের বোধ
আমি আজ ভুলে গেছি,
শুধুই আমাকে খুঁজি,
কিন্তু দুঃখের বিষয়,তোর চোখের আয়না জুড়ে কেবল তুই,
সেখানে আমার জন্য বিন্দুমাত্র জায়গা নেই ।
তাই-
সেই কবে থেকে আজো আমি দুটো চোখের
আয়না খুঁজে বেড়াই ।
------------------------------------------------------------------------------
মিথ্যে দিয়েই না হয় শুরু হোক সম্পর্কটা
না হয় ভুল করেই ভালোবেসো
আমার আপত্তি নেই তাতে
নিজের অজান্তে হলেও যদি
চোখ রাখ চোখে।
হাতটি বাড়িয়ো আমার দিকে,
আমি সর্বদাই ধরতে প্রস্তুত,
হোক সেটা ঘৃনা থেকে
না হয় ঘৃনা থেকেই শুরু করি।
খুব বেশি যখন রাগান্বিত হবে
কাউকে খুব বেশি বকতে ইচ্ছে করবে তোমার
মিথ্যে করে নয়
সত্যি করেই আমায় বকা দিয়ো
আমি সহস্র বার প্রস্তুত
তোমায় শুনতে।
না হয় স্বপ্নে না রাখলে আমায়
বাস্তবতার বাহিরেও থাকলাম
তবুও আমার নামটি মনে রেখ
আর মনে রেখ মিথ্যে করে নয়
ভিতর থেকেই যে
সত্যি করে ভালোবেসেছিলাম !
---------------------------------------------------------------------------
রাত্রি দেখেছে আমায় আরও একবার কাঁদতে
রাত্রি দেখেছে হাজার লোকের ভিড়ে নিজেকে হারাতে
রাত্রি দেখেছে ভীষণ কাছের মানুষটি কত দূরে থাকে
দেখেছে আমার ওই একলা ঘরটায় নির্বিকারচিত্তে তাকাতে
নিজের স্বপ্ন সাজাতে আর ভাঙ্গতে..................!!!!!
--------------------------------------------------------------------------
তোমাকে বোঝানোর ক্ষমতা আমার
নেই.....।
জীবনে অনেক মিথ্যা বলেছি,
তার মধ্যে অন্যতম মিথ্যেটা ছিল
"তোমাকে ছাড়া বাঁচব না"
কিন্তু দেখো র্নিলজ্জের মত,
এখনো বেঁচে আছি....।
ভেবেছিলাম,
তোমায় ছাড়া থাকতে পারব না,
কিন্তু, এখন তোমাকে ছাড়াই
থাকি....।
তোমার অবাক হওয়ার মত কিছু নেই,
কারন অবাক তো আমি নিজেই....।
তোমার উপর রাগ নেই,
কারন, তুমি তো আর
তোমার স্বভাব এর
বিরুদ্ধে যেতে পারবে না...।
তবে একটা কথা মনে রেখ,
আমার প্রতিটি নিশ্বাসের হিসাব
তোমায় দিতে হবে
আজ না হয় কাল, অথবা কোন এক
দিন.......
-------------------------------------------------------------------------
' দুরে সরে যাচ্ছি আমি,
হয়তোবা চোখের আড়ালে না হয়
রাতের আধারে,
কুয়াশা ডাকা মেঠো পথ আমায় আর
ডাকে না, বাশের বাশি আর
বাজে না, বিদায়ের অন্তিম বেলায়
খনিকের দেখা, না হয় কুয়াশার
চাদরে মোড়া থাক, বিলিন অস্তিত
আমার না হয় অজানাই থাক, শুভ
কামনা রইলো ।
------------------------------------------------------------------------
''কেউ আঘাত দিলে
ভেঙ্গে না পরে সামনে এগিয়ে যান,
কেউ চলে যাওয়ার অর্থ,
আপনার জীবনে তার অধ্যায়টির সমাপ্তি হয়েছে মাত্র,
বইটি নয় !!
পৃষ্ঠাটি উল্টান,
সামনে বইয়ের অনেক বড় অংশ বাকি আছে ............
-------------------------------------------------------------------------
নিজেকে খুব বেশি অসহায় আর অযোগ্য মনে হয় মাঝে মাঝে ।
সামাজিক প্রেক্ষাপট আর বাস্তবের রণভূমিতে স্বপ্ন গুলো সব ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ।
কিছু গদ্য বাঁধা কাব্যলিপি বা গদ্যমালায় জীবনের কোনো অপ্রকাশিত অধ্যায় প্রকাশ পায় না ।
প্রতিনিয়ত সাবলিল অভিনয় শৈলীর গোলক ধাঁধায় আটকে রাখি নিজেকে ।
কখনই বুঝতে পারবে না কতটা অসুখী ছিলাম বা আছি ।
জীবনের নিয়ম মেনে নিয়েছি তাই আমি বড় বেশি তালমাতাল ।
বারংবার মনে পথিক হব ধুলোমাখা কোনো এক অচেনা পথের,
যেথায় থাকবে না কোনো পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্ব,
আশাহত হবে না মন কিছুতেই ।
সত্যি চলে যাব সেই নিরুদ্দেশ পানে ।
পুরনো ঠিকানার আস্তরণ সময়ের পরিক্রমায় মলিন হবে ।
ভুলে যাবে সবাই একদিন আমিও ছিলাম ।
ভুলে যাওয়া মানুষের ভীড়ে তুমি না অগ্রবর্তীর মশালবাহক হলে ক্ষতি কি তাতে ?
আমার অভিযোগের ইস্পাত বক্সে কঠিন তালা ।
-----------------------------------------------------------------------------
রাতের আকাশে হাজার তারার ভিড়ে আমি একাকী হারিয়ে যেতে চাই, পারি না!
আনমনে অবাক হই...হারিয়ে যেতেও কি তবে সঙ্গী লাগে?
যদি তা-ই হয়...আমি অপেক্ষায় আছি...
দুপুরের ব্যস্ত রোদে আমি একলা হাঁটি,
হাতের আইসক্রিমটা আধ খাওয়াই রয়ে যায়।
আমি অপেক্ষায় আছি...পাশাপাশি হাঁটবো বলে...
ভরা সন্ধ্যায় উতলা হাওয়ায় বারান্দার গ্রিল ধরে অপেক্ষার জন্য
আমি অপেক্ষায় আছি...
মাঝরাতে ফোনে কেউ আমায় মনে করিয়ে দেয় না, আজ কোজাগরী পূর্ণিমা।
জ্যোৎস্না তাই অধরাই থেকে যায়।
সেই জ্যোৎস্নায় স্নানের অপেক্ষায় আছি..
শীতের ভোরে আগুন গরম চা কাপ হাতে যখন দাঁড়িয়ে থাকি ছোট বারান্দায়...
তখন কোনো গভীর চোখ আমাকে জোড়া শালিক খুঁজে দেয় না।
আমার চোখে পড়ে শুধু ডানা ভাঙ্গা বিষণ্ণ শালিকটা।
আমি অপেক্ষায় আছি...সেই জোড়া শালিক দেখার...
যখন আমার এলোমেলো ভাবনাগুলো ক্লান্ত হয়ে আমার মধ্যেই মিশে যায়...
যখন অচেনা সুরে আমি গাই কষ্টগুলো...
আবেগে গদ্যের মত ছন্দ না পাওয়া কবিতাটা যখন অপিরিচিত মনে হয়...
তখন কেউ আমায় ছুঁয়ে দেয় না।
আমি অপেক্ষায় আছি...সেই ভালোবাসার স্পর্শের . . . .

Comments
Post a Comment