রং নেই
নেই
কোন গন্ধ
কিংবা অনুভূতি
সচরাচর যেরকম ভাবি
কেন জানি মনে হচ্ছে
বর্তমান ভিন্ন
[এখানে দু'টি চেয়ার
একখানা টেবিল এবং
তাদের পাশে স্থির নিরবতা]
ভাবছি মৃত্যু এবং ঝুলে থাকা
এসব স্থবির নিপুণতা-সব
এমন ধূসর ছবিতে
শৈল্পিক হবে কেন?
আমি বিস্মিত হয়ে দেখছি
এবং ছবিগুলো আমাকে
ভাবনার আকাশে রং-
তুলি হাতে ভাবাচ্ছে
আমাদের চোখাচোখি হলে
কেমন হয়?
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তোর আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল জড়িয়ে
ইচ্ছে ছিলো কাটাবো কতো অলস দুপুর,
তুই চেয়েরবি আমার চোখে
মোটা গ্লাসের চশমার ফাকে,
ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো একটি কবিতা
এলোমেলো অলস দুপুরের কবিতা।
একটি বর্ষা পেরিয়ে যায়
অঝোর বর্ষনে বিষন্নতার চাদর হয়ে,
শরতের স্নিগ্ধ বিকেলে
হাটবো কি দুজন আবারো একই ধারে?
অচেনা পথের ধুলো মাড়িয়ে
আঙ্গুলের ফাকে আঙ্গুল জড়িয়ে,
সেই মোটা গ্লাসের চশমা চোখে
পাড় হবে কতো শত গোধূলী বেলা।
ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো গোধুলি মাখা একটি কবিতা,
শত শত কবিতা
এলোমেলো কবিতা
কিছু তুচ্ছ কবিতা।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
দেখছি নিয়মে গড়িয়ে যাচ্ছে
লাল বাস, পুরনো শহর জড়িয়ে রাস্তা- মায়াবাঁধা
বুকের সুতোয় ক্ষরণ
খবর এসেছে, প্রতিদিন যে দেয়ালে এঁকে গেছি পূর্ণতার স্বপ্ন
সে অস্তিত্ব ভুলে -হারিয়ে গেছে সময়ে
মন্থর হয়ে আসছে চাকা, গতি খুঁজে নিবে দিশা--
পথভ্রান্তি তুমি আমি, কি ভেবে জেনে নিয়েছিলাম
বেঁচে থাকা এমনই?
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ভালোবাসা ভালো থাকার মহৌষধ। এটা কোনো আবেগের
কথা নয়, বরং অনেক গবেষণায় প্রমাণিত।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন,
প্রেমে পড়লে মানুষের মন এবং শরীর শান্ত হয়। এক
ধরনের হরমোন নিঃসৃত হওয়ার কারণে এটা হয়ে থাকে।
এই হরমোন মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে পুনর্গঠন করে।
এতে নতুন স্নায়ু কোষ তৈরি হয়। ফলে স্মৃতিশক্তিও
বৃদ্ধি পায়।
ভালোবাসলে মানুষের মনের ক্রোধ কমে আসে। শরীরের
জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এই অনুভূতি (ক্রোধ) কমে যাওয়ায়
রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিশেষভাবে উপকৃত হয়
হৃদযন্ত্র।
প্রিয় মানুষটির সঙ্গে থাকার সময় হৃৎকম্পন তিনগুণ
বেড়ে যায়। এতে শরীরে স্বাভাবিকের
চেয়ে বেশি মাত্রায় রক্ত চলাচল করে, যা স্বাস্থ্যের
পক্ষে ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষকরা জানিয়েছেন, যে প্রেমিক-প্রেমিকারা খুব
কাছাকাছি সময় কাটায়
এবং পাশাপাশি বসে ভালোবাসার কথা বলেন, তাদের
শরীর থেকে অক্সিটোসিন নামক এক প্রকার ‘লাভ
হরমোন’ উচ্চমাত্রায় নিঃসৃত হয়। এর ফলে উচ্চ
রক্তচাপ কমে স্বাভাবিক হয়।সুতরাং পাঠক,
ভালোবাসুন, ভালো থাকুন। ভালোবাসতে তো আর
পয়সা লাগে না।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আজ থেকে দু'বছর পরে
মনে করো তোমায় দেখেছি
চোখে চোখ বিরহে রেখেছি
কোনো এক সন্ধ্যার ঝড়ে ।
চুলের সিঁথিতে আঁকা লাল
চোখের মণিতে সংসার
চারপাশে গাঢ় ঝংকার !
বাকি আমি হব কঙ্কাল ।
আজ থেকে দু'বছর পর
কোনো এক দিনে আগ্রাসী
আমার গলাতে ঝুলে ফাঁসি
তুমি বাঁধো দম্পতি ঘর ।
মধুচন্দ্রিমা বাঁকা চাঁদে
তোমার এ দেহ কেউ ছুঁবে
বিস্তৃত হয়ে কেউ শুবে
পূর্ণিমা ঘর ঢাকা ছাদে ।
আজ থেকে দু'বছর পর
বাঁধবে গোপন সংসার
মনে কোরো আমি নেই আর
থেমে গেছে প্রাণ মর্মর ।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
চৈত্রে হয়তো ফোটেনি কৃষ্ণচুড়া
তাতে ক্ষতি নেই; তোমার ঠোঁটেই
দেখি
এসেছে আবার কৃষ্ণচুড়ার ঋতু
তুমি আছো তাই অভাব বুঝিনি তার;
না হলে চৈত্রে কোথায়ইবা পাবো বল
কৃষ্ণচুড়ার অযাচিত উপহার,
বর্ষায় সেই ফুটবে কদম ফুল
তোমার খোঁপায় চৈত্রেই আনাগোনা।
তাই সন্দেহে চোখ মেলে কেউ কেউ
তাকায় কোথায় ফুটেছে কৃষ্ণচুড়া,
কেউ খোঁজে এই নিরিবিলি ফুলদানি;
চৈত্রে কোথাও ফোটেনি কৃষ্ণচুড়া
কিন্তু ফুটেছে তোমার দুইটি ঠোঁটে,
কবির দুচোখ এড়াতে পারেনি, তাই
ধরা পড়ে গেছে কবিতার পঙক্তিতে।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বাতাসে বারুদের গন্ধ, ধোঁয়া,
অন্ধকার
রাতের সংবাদ-টেলিভিশনের
রঙ্গিন পর্দায়
কয়েকজন যুবকের হুটোপুটি ছুটোছুটি
আকাশী-নীল পোশাকে কালো কালো বুট
খেটে খাওয়া মানুষের ভয়ার্ত মুখ।
যুবকের উদ্ভ্রান্ত নিউজ কভারেজ।
রাতের সংবাদ-টেলিভিশনের
রঙ্গিন পর্দায়
একজন রাজনীতিকের হাসি হাসি মুখ
ইয়ার বন্ধুদের সাথে নিজের
কামরায়
লেবু সোডার সাথে তৃপ্ত ঢেঁকুর।
যুবকের উদ্বিগ্ন নিউজ কভারেজ।
আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায়
ভালোবাসি
গেয়ে যায় বঙ্গবাসী......
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
জীবনটাকে আরো একটু সরল
করে ভাবতে পারিস ?
যেমন করে রিক্সাওয়ালা সরল
রেখায় চলে,
মুটে-রা যেমন করে মাথায়
বোঝা তোলে,
শিশু যেমন ঘুমিয়ে পড়ে ক্লান্ত
মায়ের কোলে।
তেমন
করে জীবনটাকে দেখতে পারিস ?
কেবল ভাবিস বাঁকা পথে,সকল সময়
বাঁকাই দেখিস ?
যেমন করে মন্ত্রীরা সব
সন্ত্রি দিয়ে হাতায় গদি,
অথবা নদীর বুকে সেতু গড়ে পেরায়
নদী,
পারলে একটু সরল করে মাঝির মত
ভাবিস,
দেখবি জলের ছলাতছলেই
আছে পাড়ের হদিস।
ভাবিস কেবল জটিল পথে,জীবনের
জয়রথে -
পায়ের উপর পা-তুলে রাজপুত্রই চলে,
সময় করে চেয়ে দেখিস,কত মানুষ
সরল পথে-
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,জীবনের
কথা বলে।
তেমনি করে সাদা মনে জীবনের হাত
ধরতে পারিস ?
সাদামাটা জীবনটাকে সরল রেখায়
ভাবতে পারিস ?
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------
কিসের আশাতেই স্বপ্নময় অরণ্যের
সীমানায়
পার করে দিচ্ছি এতগুলো দিন বড়
নিঃশব্দে!
আমার এতগুলো স্বপ্নহীন সুখের মুহূর্ত
শুধু ঘুরপাক খেয়ে ফিকে হয়ে যায়
বড় আত্মকেন্দ্রিক ভাবে।
কখনো অনুশোচনায়,
কখনো বা ক্ষোভের জোয়ারে।
উগ্র লাল,হলুদ,সবুজের অতীত
স্মৃতিকে নিয়ে
ক’দিন আর বেঁচে থাকা যায়?
গভীর উজ্জ্বল চাহনী ম্লান
প্রণয় কথা স্মৃতি ভ্রষ্ট।
শুধু আজ বিমূর্ত চিত্রকল্প নিয়ে
বেঁচে থাকার বহুরুপী মূর্ত প্রয়াস।
কিসের আশাতেই
জীবনকে বাজি রেখে
ছুটে চলছি অন্ধকার হতে অন্ধকারে ?
হাজার ভুলের মাঝেও যে দেখি আজ
পবিত্রতার নির্দয় হাতছানি!
স্বপ্নের সিঁড়িতে লেগেছে যানজট
এবং এভাবেই ক্রমাগত......
অজান্তেই ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় আমার
আবেগ।
অঘোষিত সংশয় চোখে মুখে
তবু ছোট ছোট স্বপ্নগুলোর কাছে
পরাজিত হয় চারপাশের
প্রতিকূলতার
বিশুদ্ধ আবহাওয়া।
স্বপ্ন
ভাঙ্গা রাজকন্যা একদা শুনিয়েছিল
আমাকে,
জীবন এমনই
স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে জীবনের
আড়ালে।
তাই তো স্বপ্নের ছায়াপথে
হেঁটে হেঁটে পাড়ি দেয়ার আশাতেই
বাঁচিয়ে রাখি আমার স্মৃতি,স্বপ্ন ও
অস্তিত্বকে প্রতিনিয়ত….।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কারও কি দু দন্ড সময় হবে ?
আমি প্রেম ভাড়া নেব।
আছো কি কোন প্রেয়সী প্রেম ভাড়া দেওয়ার?
এই কিছুটা সময় আমরা একসাথে ঘুরব, হাঁটবো বহু পথ
রাস্তায় দাঁড়িয়ে একসাথে ফুচকা খাব। কিংবা কোনদিন সময়
পেলে সমুদ্রে যাব। (শুনেছি প্রেমিক -প্রেমিকা দের নাকি সমুদ্র খুব
টানে)
কিংবা কোনদিন পাহাড়ে?
আচ্ছা তোমার পাহাড় পছন্দ তো? আমরা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে একসাথে চন্দ্র
ছোব। কেউ কি আছো প্রেম ভাড়া দেওয়ার?
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি তোমাকে শাঁখা দিতে চাইলাম,
তুমি চাইলে অর্থহীন সোনার কাঁকন।
আমি তোমাকে সংসার দিতে চাইলাম,
তুমি চাইলে সুসজ্জিত স্তব্ধ অবকাশ।
আমি তোমাকে সন্তান
দিতে চাইলাম,তুমি চাইলে বাস্তবের
বিদির্ণ পলাশ।
আমি তোমাকে স্বপ্ন দিতে চাইলাম,
তুমি ঘুমের ওষুধ কিনে নিলে।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ভুল করেও ভুল
নামে ডাকবো না তোমায়
বলছিনা "আমি বাঁচব
না"তোমাকে ছাড়া।
স্বপ্নের ব্যাকুলতায় গড়েছি শব্দের
পাহাড়
তোমাকে রেখেছি সব ঋতুতেই সমান-
এখানেই আমার সব স্বার্থকতা....
কস্টের মিছিলে সুখ
দেখাবো না তোমায়
আবেগে আপ্লুত হয়ে দেব না বিবেক
বিসর্জন,
অতৃপ্ত বন্দরে বিছিয়েছি তৃষার্ত
হৃদয়-
এখানেই আমার সব আকুলতা....
ভাঙ্গনের মুখে দেয়াল বানাব
নিজেকে
উজাড় করে দেব প্রাপ্য স্বচ্ছতা,
দুঃখের
সাথে পাঞ্জা লড়ে জমিয়েছি বিশুদ্ধ
ভালবাসা
আর এখানেই সৃস্টি হবে নতুন
ইতিহাস....
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মেয়ে তোমার মন দেবে কি?
তোমার পথের পথিক হবো
শুস্ক হাতে হাতটি রেখে
বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে যােবা
ফাল্গুনেতে বৃষ্টি এনে
ধারাস্নানের যন্ত্র খুলে জল
ঝড়াবো।
মেয়ে তোমারমন দেবে কি?
ভেজা চোখের রুমাল হবো
দু:খ পেলে খোলা বুকে
মাথা েগঁাজার শান্তি দেবো
চতুস্কোন ঐ জানালা খুলে
সমচতুর্ভুজ আকাশ দেখােবা
সেই আকাশেই চাঁদ উঠিয়ে
তমসাবৃত গিলে খাবো।
মেয়ে তোমার মন দেবে কি?
বুকের বাদামী ঘাসের শেকড় তুলে
নিপুন হাতে অঙ্গুরীয় গড়ে
হলুদ
বিকেলে পড়িয়ে দেবো অনামিকাতে
একটিবার কি ভরসা করে
মনটি তোমার দিতে পারো।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------
তোমার চোখের চেয়ে বেশি নীল অন্য
কোনও আকাশ ছিল না
যেখানে উড়াল দিতে পারি
তোমার স্পর্শের চেয়ে সুগভীর অন্য
কোনও সমুদ্র ছিল না
যেখানে তলিয়ে যেতে পারি
তোমাকে দ্যাখার চেয়ে নির্নিমেষ
অন্য কোনও দ্রষ্টব্য ছিল না
যেখানে নিমগ্ন হতে পারি
তোমাকে খোঁজার চেয়ে বেশি দূর অন্য
কোনও গন্তব্য ছিল না
যেখানে হারিয়ে যেতে পারি।
কেবল তোমার চেয়ে বেশি দীর্ঘ
তুমিহীন একাকী জীবন।
------------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রিয়তমা,বড় আকাল এখন
পাপের নেশায় ঈশ্বর
করেছে শয়তানের
সাথে শান্তিচুক্তি
শয়তান-ঈশ্বরের যৌথ দল আজ অসহায়
মানবতার মুখোমুখি ।
একাকি পরস্ত্রীর সাথে রাত
কাটিয়ে বড় সহজেই
বলে ফেলি তোমাকে
"স্বপ্নে কাল তোমাকে দেখেছি।"
তুমিও পরপুরুষের কাছে দেহ
দিয়ে এসে বলো
"দেখো তোমার জন্য সেজে এসেছি ।
বড় আকাল আজ প্রিয়তমা
প্রিয়তমা শব্দটার ভিতরেই
ঢুকে গেছে
পতিতালয়ের নষ্ট ঘ্রাণ।
আর ঈশ্বর আর শয়তান মানেই হলো
একটা রাজনৈতিক ঐক্যজোট
------------------------------------------------------------------------------------------------------
সুখের মাঝে তোমায়
দেখেছি,
দুঃখে তোমায়
পেয়েছি প্রাণ ভ'রে।
হারিয়ে তোমায় গোপন
রেখেছি,
পেয়ে আবার হারাই মিলন-
ঘোরে।
চিরজীবন আমার বীণা-
তারে
তোমার আঘাত লাগল
বারে বারে,
তাই তো আমার নানা সুরের
তানে
তোমার পরশ প্রাণে নিলেম
ধ'রে।
আজ তো আমি ভয় করি নে আর
লীলা যদি ফুরায়
হেথাকার।
নূতন আলোয় নূতন অন্ধকারে
লও যদি বা নূতন
সিন্ধুপারে
তবু তুমি সেই তো আমার তুমি,
আবার তোমায় চিনব নূতন
ক'রে।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------
ওরা দুজন ফুটপাতে ঘুমায় ।
একটা ছেলে আর
একটা মেয়ে ।
ছেলেটার বয়স ছয় আর
মেয়েটার
এইতো সবে চার - ভাই বোন
ওরা !
ল্যামপোস্ট ঝরা সোডিয়াম
ল্যাম্পের
বিচিত্র আলোর
সাথে চাঁদের
আলো একাকার হয়ে সুখ
সুন্দর
আভা ফোটায় ওদের মুখে ।
ওরা চাঁদটাকে ঝলসানো রুট
তারা গুলোকে নিয়ে মন্ডা ম
স্বপ্ন দেখেনা,
আসলে ওরা কখনোই
স্বপ্ন দেখেনা । ছোট্ট
মেয়েটা একসময়
স্বপ্ন দেখত একটা লাল
টুকটুকে গাড়িতে চড়ার ,
একটা লাল
টুকটুকে ফ্রক পরার !
রোদভরা এক
লালচে বিকেলে ওদের
সামনে একটা লাল
টুকটুকে গাড়ি থেমেছিল,
রক্তের মত
লাল জামা পরা পুতুলের মত
ছোট্ট
একটা মেয়েও বের হয়েছিল
গাড়ি থেকে ! ছোট
মেয়েটা ছুঁয়ে দিয়েছিল
স্বপ্নের
গাড়িটাতে ,শুধু
আলতো করেই
ছুয়ে দিয়েছিলো,
গাড়ি থেকে এক
মোটাসোটা মহিলা এসে থা
মেরেছিল মেয়েটিকে যার
আঘাতে সে আছড়ে পড়েছিল
শক্ত
ফুটপাতে - তার
সাথে সাথে তার মন
থেকে ছিটকে গিয়েছিল
অনেক দিনের
পুরনো ভন্ড স্বপ্নটা ।
এরপর আর
ওরা স্বপ্ন
দেখেনি কোনদিন !! স্বপ্ন
ওদের জন্য নয় !
স্বপ্ন দেখা ওদের
সাজে না ।
ছোট ছোট দু'টি ভাইবোন
ওরা । ছোট
দুটি পাপহীন মুখ ওদের ।
রাস্তার
ধারে ছিমছাম দোকান
গুলোতে পরিপাটি করে সজা
খাবার ।
কখনো মাছি ভনভন
করে তার
ওপর, পিঁপড়ার মত
সারিবদ্ধ
ভাবে সেখানে ঢোকে মানুষ-
তৃপ্ত
হয়ে বেরিয়ে আসে ।
ওরা দুজন অতৃপ্ত
ছোখে চেয়ে থাকে সেদিকে
কিন্তু
কখনো ওরা যাই
না ওখানে । একদিন
খিদে পেয়েছিল ওদের ;
তাই
দোকানে খাবার চেয়েছিল
ওরা । খুব
ভদ্র ভাবেই চেয়েছিল ,
কিন্তু
দোকানিটা ওদের
ভদ্রতাকে হয়তো বুঝতে পার
থাপ্পড় দিয়ে দুজনকে বের
করে দিয়ে ছিলো দোকান
থেকে ।
খাবার
না পেয়ে দুজনে একদিন
চুরিও
করেছিল । তেমন কিছু না,
দুটো অবাধ্য
ক্ষুদ্র পেটকে শান্ত করার
মত ছোট ছোট
দুটি রুটি । তাতেই
দোকানী আর
আশেপাশের লোকজন ওদের
খুব
পিটিয়েছিলো । রাস্তার
এককোনের
গুদামঘরের পাশে সেই
রাতটি ওদের
কেটেছিল
পুরো অস্তিত্বে মায়াময়
যন্ত্রনা নিয়ে !
সত্যিকারের
যন্ত্রনা !! এরপর আর
ওরা কখনো চাইনি কারো কা
কোনদিন চুরিও করেনি ।
চাওয়া আর
চুরি করা দুটোকেই
ওরা এখন অপরাধ
মনে করে । অপরাধই
যদি না হবে তাহলে ওরা ম
খেলো কেন ?
একটা ছেলে আর
একটা মেয়ে ।
মিষ্টি দু'টি ভাই বোন
ওরা !
হাতে ত্রিশুল,
পায়ে ইয়া বড়
ফাটা গামবুট আর
পরনে হাবিজাবি কাপড়ের
বস্তার মত
ছেঁড়াখোড়া জামা পরে ট্রা
কন্ট্রোল করে মনা ।
তথাকথিত
স্বাভাবিক
মানুষেরা তাকে মনা পাগল
ডাকে, ভাই বোন
দু'টি ডাকে মনাকা বলে ।
ছোট
বোনটি একদিন ওদের
মনাকাকাকে জিঞ্জেস
করছিলো "আইচ্চা মনাকা,
হগ্গোলেরই ত
মা-বাপ থাকে...তাইনা ?"
একটু
হেসে মনা পাগল
বলেছিলো " হ মা,
থাকতো না ক্যান ? মা বাপ
হগ্গোলরই
থাকতো, হ্যারা যদি না রই
পুলাপান
আইবো কৈত্তে !!"
অনুযোগের সুরে ছোট্ট
মেয়েটি বলেছিল
"তাইলে আমাগোর নাই
ক্যান ?"
চমকে উঠে বিষন্ন
চোখে একরাশ
হতাশা নিয়ে তাকানো ছাড়
জবাব
দিতে পারেনি মনা পাগল
।
মেয়েটিকে একথাটাও
বোঝাতে পারেনি সবার
সবকিছু
থাকেনা, সবার সব কিছু
থাকতে নেই !
মিষ্টি দুটি ভাইবোন
ওরা ।
সাহসী একটা সম্পর্ক ওদের
।
যে সাহসটুকু ওদের সাহস
যোগায়
বেঁচে থাকার , কষ্ট সহ্য
করার ।
পৃথিবীর সব অবাধ্য
এলোমেলো দুঃখ
গুলোকে নিজেদের সব
থেকে আপন
ভুবনে সাজিয়ে ওরা এভাবে
বেঁচে ছিল,
আছে এবং প্রতিনিয়ত
বেঁচে থাকবে, বারেবারে -
প্রতিদিন !
তীব্র ছায়ায়
ডুবে থাকা ছোট
দুটি ভাললাগা ওরা !
ল্যামপোস্ট
ঝরা সোডিয়াম ল্যাম্পের
বিচিত্র
আলোর সাথে চাঁদের
আলো একাকার
হয়ে সুখ সুন্দর আভা ফোটায়
ওদের মুখে ।
ওর দুজন ফুটপাতে ঘুমায় !!
-------------------------------------------------------------------------------------------------------

Comments
Post a Comment