কাল রাত থেকে শুরু হওয়া
মেঘের কান্না,
থামেনি আজও।
এই ক্ষণেও
তা চলছে অবিরাম-
কখনও ঝড়ো,
আবার মৃদু কখনও।
বারান্দার
কোণে বসা দাঁড়কাকটা
ভেঁজা শরীর
ঝাপটা দিয়ে জানান
দিচ্ছে
বর্ষার, বারবার।
মেঘের ডাকে আজ
বৃষ্টি কেঁদেছে।
রাস্তার পাশে কাঁদা-
জলে মাখামাখি
এক দঙ্গল বালক-
এলোমেলো পায়ে খেলছে ফুটবল,
দারুণ চিৎকারে তারাও
জানান দেয়
অবিরাম বর্ষার।
কিংবা দূরের রাস্তার
রিক্সাওয়ালা,
যখন অর্ধ-ভেঁজা তরুণীর
সাথে করছে দরদাম
কাকরাইল থেকে পল্টন -
তাদের অবয়বেও
বর্ষা পরিষ্কার।
মেঘের ডাকে আজ আবারও
বৃষ্টি কেঁদেছে;
তাতে সব কিছু ভেঁজা,
ঈষৎ আর্দ্র সবার
উপস্থিতি।
শুধু মনটা ভিঁজতে বাকি,
বর্ষা আসবে সেখানেও।
কেননা এমনি এক অফুরান
বর্ষায়, তুমি
বন্ধু বলেছিলে আমায়!
এখনও কি বন্ধু ভাবো,
যতটুকু
আমি তোমার হতে চাই।
মেঘের ডাকে আজ তাই
আবারও বৃষ্টি কেঁদেছে।
মেঘের ডাকে আজ
বৃষ্টি কেঁদেছে
-------------------------------------------------------------------------
বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ,
একবার
চোখ তুলে সেতু
আবার আলাদা দৃষ্টি,
টেবিলে রয়েছে শুয়ে
পুরোনো পত্রিকা
প্যান্টের নিচে চটি,
ওপাশে শাড়ির
পাড়ে
দুটি পা-ই ঢাকা
এপাশে বোতাম খোলা বুক,
একদিন
না-কামানো দাড়ি
ওপাশে এলো খোঁপা,
ব্লাউজের
নীচে কিছু
মসৃণনগ্নতা
বাইরে পায়ের শব্দ,
দূরে কাছে কারা যায়
কারা ফিরে আসে
বাতাস আসেনি আজ, রোদ
গেছে বিদেশ ভ্রমণে।
আপাতত প্রকৃতির
অনুকারী ওরা দুই
মানুষ-মানুষী
দু‘খানি চেয়ারে স্তব্ধ,
একজন
জ্বলে সিগারেট
অন্যজন
ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু
মুছেও মোছে না
আঙুলে চিকচিকে আংটি,
চুলের
কিনারে একটুঘুম
ফের চোখ তুলে কিছু
স্তব্ধতার
বিনিময়,
সময় ভিখারী হয়ে ঘোরে
অথচ সময়ই জানে,
কথা আছে,
ঢের
কথা আছে।
-----------------------------------------------------------------------------
আজ খুব মেঘ করুক..
টিপ টিপ সারাদিন..
যেখানে জল পায় তোর চিবুক..
আর
ইচ্ছেরা স্বাধীন..
চুপি চুপি..
দেখ তোর জন্যে..
রোদ্দুর নামিয়ে,
পর্দা টাঙানো..
কোথাও মন নেই,
সবচেয়ে দামী এই.
কথা জানানো
--------------------------------------------------
দিনের সব ব্যস্ততা,সব
অভিযোগ,অসম্পুর্নতা এখন
শান্ত,
মায়ের হাঁটুর
ব্যাথা নেই,বাবার হাই-
প্রেসার নেই,
বোনের টনসিলাইটিস
নেই,ছেলের
কাশি নেই,কিচ্ছু নেই ।
এখন,সংসার খরচের
তাগাদা নেই,বিদ্যুতের
বিল নেই,
বাজারের
মুল্যবৃদ্ধি নেই,কোথাও
কোনো চাহিদার স্রোত
নেই,
চারিদিকে অবিচ্ছিন্ন
শ্রান্তি ।
যদিও,জানি তা ঝড়ের
পুর্বাভাস,
তবুও,এমন একটা রাতের
জন্য সব চাপ
মাথা পেতে নেব,
হাঁসি মুখে সারা দিনের
রোজগার,ডাক্তারক
ে দিয়ে দেব,
দুটো কাঁধের উপর
সারা পৃথিবীর চাপ
সারাদিন বয়ে যাব-
যদি দিনের শেষে এমন
একটা একাকি রাত
পাওয়া যায়।
যে রাতে নিজের
সাথে কথা বলা যায়,আর
পাওয়া যায়-
সৃষ্টিশিল ভাবনার একটু
সময়,
সাথে নিয়ে রাত্রির
স্তব্ধ শান্তি ।
নদীর প্রতিদিনের
গতিপথের শেষে ওটুকুই
মোহোনার ক্লান্তি ।
-------------------------------------------------
লাইব্রেরি থেকে ফিরছি তখন
মুঠোয় জীবনানন্দ,
বুঁদ হয়ে আছি পয়ারের
ঝোঁকে
নির্জন চারপাশ,
বিকেল বেলায় গোধূলির
ছোঁয়া লেগে চারদিক
রক্তিম,
ঠিক সে সময়
চোখে পড়ে গেল উদাসীন
সেই কিশোরী
দাঁড়িয়ে রয়েছে,
মুঠোভরা তার
কাঁঠালিচাঁপার পাপড়ি,
সে ছিল আমার প্রথম
প্রেমিকা, সেদিনই
প্রথম চোখাচোখি;
মেয়েটিকে যেন কোথায়
দেখেছি, অথবা কোথাও
দেখিনি,
ফর্সা কপালে ছড়িয়ে ছিল
যে
চূর্ণচুলের আঁকিবুঁকি
চোখদুটি যেন ভরাট
সায়র দু-ভুরু
বাঁকানো ধনুকে
বিস্ময় কিছু থম্
হয়ে আছে,
চিবুকে লাল্চে রশ্মি,
ফ্রকের
বাইরে গমরঙা বাহু
নিটোল লতিয়ে রয়েছে
সে ছিল আমর প্রথম
প্রেমিকা, সেদিনই
প্রথম পরিচয়;
পরিচয়
ক্রমে রঙধরে ওঠে,
সে রঙ ক্রমেই গাঢ় হয়,
কলেজ ফেরার
পথে দেখি রোজ
দাঁড়িয়েরয়েছে একলা
কাঁঠালিচাঁপার পাপড়িও
ঠিক রয়েছেদু-মুঠো ভর্তি
চুপিচুপি দিত
কখনপকেটে,
সারারাততার সুবাসে
ঘুম ছুটে যেত, চোখ
বুজলেই তার
মুখখানা টলোমলো,
সে ছিল আমার প্রথম
প্রেমিকা, ভালবাসা সে-
ই শেখাল;
তার
ওশরীরে অক্ষরমালা,
অক্ষর গেঁথে শব্দ,
শব্দে শব্দ
গেঁথে গেঁথে তার
শরীরে পংক্তি জেগেছে,
শব্দব্রহ্মে হীরকদ্যুতিটি আমাকেকাঁপালো অবিরাম,
কখনো পয়ারে হেসে কথা বলে,
কখনো মাত্রাবৃত্তে
চলনে-বলনে নিপুণ ছন্দ,
কখনো গদ্যে উদাসীন,
সে ছিল আমার প্রথম
প্রেমিকা, প্রথম
প্রেরণা সে-ই দেয়;
তার কাছে বাঁধা ছিল
যে আমার কিশোরবেলার
দিনগুলি,
ঠোঁটের
দুকোণে মিষ্টি হাসিটি ঝড়
তুলে যেত সহসা,
কখনো দুচোখে শ্রাবণ
ঘনাত, কখনো মধুরফাল্গুন
কাঁঠালিচাঁপায়
মাখামাখি হয়ে এহেন
কত না দিনক্ষণ
কেটে গেছে সুখে, আবেগ-
উল্লাসে সেই সিরসির
দিনগুলো,
সে ছিল আমার প্রথম
প্রেমিকা, প্রথম স্পর্শ
সে-ই দেয়;
দুচোখে নিবিড়
চাউনিটি ছিল,
দুটি সুখী সাদা পায়রা,
তার ওশরীর মন্থন কর
এস্বর-ব্যঞ্জনবর
্ণ,
সাদা পায়রার
ডানাটি আমাকে টেনে নিয়ে গেল
কদ্দূর
ক্রমশ যাচ্ছি লোকালয়
ফেলে, পাহাড়, সাগর
ডিঙিয়ে
সে একনতুন অনুভূতি এল,
সে একনতুন বিশ্ব,
সে ছিল আমার প্রথম
প্রেমিকা, অন্য জন্ম সে-
ই দেয়;
তার বাবা হল
বদলি হঠাত্,
মালদা কিংবা হুগলি,
সে-ও চলে গেল,
কাঁঠালিচাঁপাকে করেছি দুহাতে টুকরো,
দু’চোখে উথালপাথাল
অশ্রু, বৈশাখীএল ঝড় হয়ে
আলুথালু করে দিয়ে গেল
সেই
দ্বিধাথরোথরো কৈশোর
সেই শেষ দেখা,
তারপরে কত দীর্ঘশ্বাস
ফেলেছি,
সে ছিল আমার প্রথম
প্রেমিকা, প্রথম দূ:খ সে-
ই দেয়;
চলে যাওয়া তার
যাওয়া নয়যেন, সে এল
আবার ফিরিয়া
ঘুমে জাগরণে কুরে কুরে খায়,
পোড়ায়, ডোবায় প্লাবনে,
ধ্বংস
করেছে পুরনো আমাকে,
ধ্বংসের পর সৃষ্টি,
ফিনিক্স
পাখিটি জেগে ওঠে,
দেখে সামনে পৃথিবী উর্বর,
কেউ যেন
তাকে উস্কে যাচ্ছে অন্তরীক্ষে ইশারায়,
সে ছিল আমার প্রথম
প্রেমিকা, প্রথম
কবিতা সে-ই দেয়
---------------------------------------------------------------------
ওগো স্বপ্নপুরের
পরী,কি করে বলো জীবনে তোমায়
ধরি ?
মনে হয়,তোমার জন্য
জীবন মোদের তোমার
জন্য মরি ।
জীবনের কাছে সময়
চেয়ে চেয়ে,বয়স
বেড়ে যায়,
তবু সময়
তো থেমে থাকেনা কোনো দিন,
স্বপ্নের কাছে আবদার
যত ছিল,ঘুম ভাঙার পর-
আচমকা তার
জাগরণে ফিরে,স্বপ্নকে ভুলে যায়
।
ওগো স্বপ্নপুরের
পরী,কি করে বলো জীবনে তোমায়
ধরি ?
মনে হয়,তোমার জন্য
জীবন মোদের তোমার
জন্য মরি ।
মৃত্যু-লোকের দরজার
দিকে,চলে প্রতিটা পদক্ষেপ,তবু-
কেন তারই মাঝে সব
গুছিয়ে নেওয়ার
এতটা প্রয়োজন ?
সময়ের কাছে আমরণ শুধু
সুযোগের সন্ধানে,
ব্যস্ত জীবন গুলো,কখনও
শোনেনি জীবনের গুঞ্জন
।
ওগো স্বপ্নপুরের
পরী,কি করে বলো জীবনে তোমায়
ধরি ?
মনে হয়,তোমার জন্য
জীবন মোদের তোমার
জন্য মরি ।
----------------------------------------------------------------
ভুলে যাও বন্ধু,উন্মাদ
প্রেমের সে দিনকাল
চলে গেছে,
প্রেমিকাদের বায়নার
জন্য প্রান
দেওয়া প্রেমিকরা বোকা ।
নিজের সাধ্যের
বাইরে গিয়ে যদি প্রেমকে পেতে হয়,
তবে অমন প্রেমে কাজ
নেই । বলতে আমার লাজ
নেই ।
আমার সাধ্য- তিরিশ
টাকার টিকিট
কেটে নন্দনে সিনেমা,
তারপর
সিনেমা শেষে অ্যাকাডেমির
ক্যান্টিনে দশ টাকার-
আলুর
রোল,গাড়িভাড়া সমেত
মোট পঞ্চাশ টাকা ।
তোমার যদি আইনক্স
বা ফেম
ছাড়া সিনেমা না ভালোলাগে,
তবে অমন প্রেমে কাজ
নেই । বলতে আমার লাজ
নেই ।
মানছি তোমার
স্ট্যাটাসের
সাথে নাকটা একটু উঁচু,
আমি না থাকলেও অনেক
প্রেমিক ঘুরবে পিছু-পিছু,
এই সময় মানে-
মানে প্রেমকে ভুলে প্রেমিক
পাল্টে নাও,
তবু আমায়
পাল্টে ফেলে প্রেমিক
করবে, চিন্তাও কোরোনা,
কারণ,নিজের সাধ্যের
বাইরে গিয়ে যদি প্রেমকে পেতে হয়,
তবে অমন প্রেমে কাজ
নেই । বলতে আমার লাজ
নেই ।
--------------------------------------------------------------------
আমি ছেড়ে যেতে চাই,
কবিতা ছাড়ে না।
বলে,–’কি নাগর
এতো সহজেই
যদি চলে যাবে
তবে কেন ঘর
বেঁধেছিলে উদ্ধাস্তু ঘর,
কেন করেছিলে চারু
বেদনার এতো আয়োজন।
শৈশব কৈশোর
থেকে যৌবনের
কতো প্রয়োজন
উপেক্ষার ‘ডাস্টবিনে’
ফেলে
মনে আছে সে-ই কবে
চাদরের
মতো করে নির্দ্বিধায়
আমাকে জড়ালে,
আমি বাল্য-
বিবাহিতা বালিকার
মতো
অস্পষ্ট দু’চোখ
তুলে নির্নিমেষে তাকিয়েছিলাম
অপরিপক্ক তবু
সন্মতি সূচক
মাথা নাড়িয়েছিলাম
অতোশতো না বুঝেই
বিশ্বাসের দুই হাত
বাড়িয়েছিলাম,
ছেলেখেলাচ্ছলে
সেই থেকে অনাদরে,
এলোমেলো
তোমার কষ্টের
সাথে শর্তহীন সখ্য
হয়েছিলো,
তোমার হয়েছে কাজ, আজ
প্রয়োজন আমার ফুরালো’?
আমি ছেড়ে যেতে চাই,
কবিতা ছাড়ে না।
দুরারোগ্য ক্যান্সারের
মতো
কবিতা আমার
কোষে নিরাপদ আশ্রম
গড়েছে
সংগোপনে বলেছে,–’হে কবি
দেখো চারদিকে মানুষের
মারাত্মক দুঃসময়
এমন
দুর্দিনে আমি পরিপুষ্ট
প্রেমিক আর
প্রতিবাদী তোমাকেই
চাই’।
কষ্টে-সৃষ্টে আছি
কবিতা সুখেই আছে,–থাক,
এতো দিন-রাত
যদি গিয়ে থাকে
যাক তবে জীবনের
আরো কিছু যাক।
------------------------------------------------------------------
আমি যাকে বিশ্বাসযোগ্য
ভেবে
মনে মনে এক নির্জন
স্বপ্নকে স্বাস্থ্যবান
কোরে তুলি ,
আমার বিশ্বাস
নিয়ে সুবর্ণ চোর
শুধু সেই পালিয়ে যায় ।
আমি যাকে ফুল দিই সে-ই
ভুল বোঝে ,
চিরদিন এরকম বিপরীত
হয় ।
আমি যার শিয়রে রোদ্দুর
এনে দেব বোলে
কথা দিয়েছিলাম
সে আঁধার
ভালবেসে রাত্রি হয়েছে ।
এখন তার
কৃষ্ণপক্ষে ইচ্ছের মেঘ
জোনাকির আলোতে স্নান
করে ,
অথচ
আমি তাকে তাজা রোদ্দুর
দিতে চেয়েছিলাম ।
বয়সে মাথা রেখে জেগে আছে একজন
তাকে ত দি ই নি কিছুই -
অথবা যে ফুলের মৌলিক
অর্থ কখনো শেখেনি
ভালবেসে রাত্রি জাগরণ ,
চোখের নিচে অনিদ্রার
শোকচিহ্ন
রাখেনি সাজিয়ে
আমি যার হাতে ফুল
তুলে দিই
সে-ই প্রথম ভুল
বোঝে আমাকে ।
আমি ভুল বুঝলে কে আমার
হাতে তুলে দেবে ফুলের
স্বপ্ন ?
----------------------------------------------------
বালক,পেয়েছো কি তোমার
উত্তর?
____মনের কথা
বালক,,
তোমার নীল খামের
চিঠির
ভাষা আমি না দেখেও
বুঝতে পারি!
ভাবছো কিভাবে আমি জানি?
আমার ও একটা হ্নদয়
আছে, ঠিক বুকের
বাম পাশ টায়....
আমার বাস্তব
বেশে আমি পথ চলি,
আনমনে নিজের অনর্থক
কথা বলি.........
তোমাকে দেখি প্রতিদিন
ই,
কিছু একটা বলতে চাও,
তবে প্রকাশ করার সাহস
টা নেই!
উত্তর ই তো চেয়েছো?
আমি বালিকা আসলেই
উদাসীন!
কখনো নিজেকে ভালবাসায়
উত্সর্গ
করতে পারবোনা,
পারবোনা নিজের
মতো করে পছন্দের
জীবন সঙ্গী পেতে!
চাইলেই লাল
শাড়ী পড়ে আয়নায়
নিজের
সৌন্দর্য
দেখতে পারবোনা..
বালক,,
একাকী কখনো রাতের
আকাশ দেখেছো?
হয়তো মাঝ রাতে আলোর
ভ্রষ্টতায়
একটু দেখেছো!
হয়তো গভীর
ঘুমে স্বপ্নে আকাশ
খুঁজেছো..
অথচ,, প্রতি রাতের
আকাশের রঙ এক হয়না!
কখনো মেঘাচ্ছন্ন
হয়ে আকাশ হয়
শোকের কালো,
কখনো বিজলী থেকে আকাশের
মাঝে ছড়াতে থাকে আলো..
অন্ধকার সেই আকাশের
নিচে আমি দাড়িয়ে থাকি এক
অভাগিনী,
আলোর মাঝে ও
দাড়িয়েছিলাম তবে সেই
আলোর আকাশে আমায়
মানায়নি!
বালক,,
মাঝে মাঝে লক্ষ্য
করি আমার ছাঁয়ায়
তোমার ছাঁয়াকে,
কিন্তু
তুমি ছাঁয়াতে সীমাবদ্ধ!
কখনো সাহস করে ছাঁয়ার
থেকে একটু
এগিয়ে যাওনি,
বাস্তবতায়
কিভাবে আমায়
নিয়ে সামনে আগাবে!
বালক,,
একাকীত্ব আমার
সঙ্গী নয়...
তবে একাকীত্বের
অভিনয়ে আমাকে থাকতে হয়,
অভিমান নিয়ে তৃতীয়
নয়নে বালক
কে দেখতে হয়...!
বালক,,
আসলে আমি এই সমাজে এক
বন্দি বালিকা!
কখনো খেয়াল
করেছো আমার মুখ?
হয়তো তা দেখে তোমার
ভালো লাগে,
হয়তো তা দেখে তোমার
ভিতরে বয়ে যায়
আনন্দের সুখ!
অথচ সেই মুখের
ভাষা অস্পষ্ট!
চাইলেও চিত্কার
করে তোমাকে কিছু
বলতে পারবেনা?
চাইলেও
তোমাকে বালিকার
জমানো কথাগুলো বলতে পারবেনা!
---------------------------------------------------------
সাজিয়েছি ছোটো একফালি সুখ
রাজি আছি আজকে বৃষ্টি নামুক
তুমি আমি ভিজবো দুজনে খুব
– ভরসা দিলে..
-------------------------------------------------------------
বৃষ্টি হয়ে যাবার পর
সর্বশেষ কিছু জলবিন্দু
ঝুলছিল পাতার ডগায়
ডগায়,
মেয়েটি তার সমস্ত
সৌন্দর্য গায়ে মেখে
আড়মোড়া ভেঙ্গে দেখছিল
জলের শেষ নির্যাস ।
যে বিন্দুটিতে মেয়েটির
গাঢ় প্রতিচ্ছবি
সেটি ভূ-মধ্যাকর্ষণ
সইতে না পেরে
টুপ করে ঝরে পড়লো তার
নাকের চূড়ায়,
এরপর অলিগলি পেরিয়ে,
সুডৌল স্তন দুটির
মাঝখান বরাবর - হৃদয়
ভিজিয়ে
এসে লেপটে থাকলো -
নাভিপদ্ম গোঁড়ায় ।
পরবর্তী জনমে আমি ঐ
জলের ফোঁটার
সাথে জীবন বদল
করেছি আমার ।
-------------------------------------------------------------------
কোথাও শব্দ নেই ,
নিশ্চুপ কর্মকোলাহল ,
কোথাও
বৃষ্টি নেই তারপরও
ভিজছে সবই , মৃদু
প্রেমে ভিজে যায়
রৌদ্রস্নাত একটি দুপুর ।
----------------------------------------------------------------
আমার
পুরাণো জানালা দিয়ে আবার
ঢুকছে তোমার মত সকাল।
নিঃশ্বাসে মেখে নিচ্ছি জামা।
কুঁচকানো বিছানা,
বাসী চুমু, বেদনার সবুজ-
সব। নিচ্ছি আর্দ্রতা।
যা সুরক্ষিত তোমার
গোপনে। আর
তুমি নারী হয়ে, ঘাম
হয়ে,
বৃষ্টি হয়ে মিশে যাচ্ছো আবার।
জমাট বাঁধা দহনে।.....
--------------------------------------------------------------------------------------
মেয়েদের অনেক কথার
পিছনে আসলে কি অর্থ
থাকে, জানেন কি?
আসুন মেয়েদের
ভাষা বুঝতে চেষ্টা করি…
মেয়েদের ভাষার অর্থঃ
হ্যাঁ - না।
না - হ্যাঁ।
হয়তো - না।
আমি দু:খিত - তোমার খবর
আছে।
আমাদের দরকার -
আমি চাই।
যা মনে চায় করো -
পরে এর জন্য
তোমাকে ভুগতে হবে।
আমাদের
কথা বলা দরকার - আমার
অভিযোগ শোন।
ঠিক আছে, করো -
আমি চাই না তুমি করো।
আমি আপসেট না - অবশ্যই
আমি আপসেট, গবেট।
এই কিচেনে কাজ
করা যায়? - আমার নতুন
বাড়ি দরকার।
জানালার জন্য
পর্দা কিনতে হবে - সেই
সাথে, ম্যাচ
করা কার্পেট,
ফার্নিচার আর
ওয়ালপেপার।
একটা আওয়াজ শুনলাম
মনে হলো - তুমি মনে হয়
ঘুমিয়ে যাচ্ছো?
তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
- আমি তোমার কাছ
থেকে দামী কিছু
চাইতে যাচ্ছি।
তুমি আমাকে কতটুকু
ভালোবাসো? - আজকে এমন
কাজ
করেছি যা তুমি মনেপ্রাণে অপছন্দ
করো।
এক
মিনিটে রেডি হয়ে আসছি।
- জুতা খুলে টিভিতে কোন
প্রোগ্রাম দেখতে থাকো।
কথাবার্তা তোমার
আরো ভালো করে শেখা উচিত।
- আমার কথা মেনে নাও।
```
----------------------------------------------------
তুই কি আমার বন্ধু হবি
দুর্নিবার দ্বন্দ্বময় জীবন
যাত্রায়
আমাকে আগলে রাখবি,
একাকিত্তের অভিশাপ
আলগোছে সরিয়ে
খুব যত্নে হাত
টা ধরে থাকবি...
তুই কি আমার বন্ধু হবি?
প্রতিশোধ নয় রাগ অনুযোগ
নয়
মান অভিমানের ছোঁয়ায়
আমায় চাইবি,
কষ্ট যন্ত্রণায়
ভেঙে পরা সময়ে
তোর ঘাড়ে আমার
মাথাটা রাখতে দিবি
-----------------------------------------------------
অতএব আমি কোনো মেয়ের
চোখের দিকে
তাকাব প্রথমে; তারপর
বাঁচি আর মরি
তাকে ভালোবেসে, তার
কাছে ভালোবাসা শিখে
আপ্রাণ চেষ্টার
পরে ব্যর্থ হবো। শেষে
বিখ্যাত
কষ্টকে ভালোবেসে
আমি কবি হবো
-----------------------------------------------------
কাংখিত বৃষ্টি ধারার
শেষে চকচকে রোদ
প্রকৃতি জানান দেয়
ভালোবাসা মানবতাবোধ
সারি সারি গাছেরাও
একসাথে মিলেমিশে থাকে
পাখিরাও
নিরিবিলি প্রেমময়
ভালোবাসা আঁকে
----------------------------------------------------
কে বলেছে কবি মানে খোঁচা
-খোঁচা দাড়ি,
ঢিলে পাজামা পরা,
আধমরা নরম মানুষ ?
কবিও পেটের
দায়ে প্যান্ট-
শার্টে অফিস করে,
বাসের ভিড়ে কবিতার
গলা টিপে মারে।
শুধু একলা-ক্ষণে যখন
মরে যাওয়া কবিতায়
ভরে ওঠে চারিপাশ,
তখন খাতা খুলে সাজায়
কবিতার লাশ।
সবার থাকে না অলস সময়,
কবি এমনও হয়।
-------------------------------------------------------------
আম্মা বলেন, পড়রে সোনা
আব্বা বলেন, মন দে;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।
তখন কেবল ভাবতে থাকি
কেমন করে উড়বো,
কেমন করে শহর ছেড়ে
সবুজ গাঁয়ে ঘুরবো !
তোমরা যখন শিখছো পড়া
মানুষ হওয়ার জন্য,
আমি না হয় পাখিই হবো,
পাখির মতো বন্য।
-------------------------------------------------------------
কে বলেছে কবি মানে
কাঁধে ঝোলা ব্যাগ,
নন্দন চত্তরে বসা আঁতেল
মার্কা উদাস প্রাণী ?
কবিও পেটের
দায়ে জামার
হাতা গুটায়, মোট বয়,
হাতুড়ির আঘাতে কবিতার
মাথা ফাটায়।
শুধু একলা-ক্ষণ গুলো যখন
মাথা ফাটা কবিতার
রক্তে ভিজে ওঠে,-
তখন হলদে খাতার
মাঝে কবিতার ফুল ফোটে।
সবার থাকে না অলস সময়,
কবি এমনও হয়।
------------------------------------------------------------
'প্রেমে পড়, তারপর
ব্যর্থ হও।'
কবি হতে হলে এটুকু
প্রাথমিক যোগ্যতা
নাকি দরকার —
--------------------------------------------------------
তোর কষ্টে নীল হলাম
তুই দেখলি শাড়ির রং,
তোর বিরহে সাগর হলাম
তুই খুঁজলি স্নানের জল..
------------------------------------------------------
আমি বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
আমি দেখতে এসেছি তোমাকে,
কেমন আছো তুমি?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তোমার চোখের
কাজল ঠিক আছে কিনা!
তোমায় ছোঁয়া পেতে তোমার
পাশে বসিনি,
দেখতে এসেছি তোমার আমার
চোখাচোখি আগের মত হয় কিনা!
আমি বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি খোপায় তোমার
বেলীফুল জড়ানো কিনা?
মেহেদী রঙে আমার নামের অক্ষর
তোমার হাতে সাজানো আছে কিনা!
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তোমার চোখের
পলক
আগের মতো পড়ে কিনা!
দেখতে এসেছি তোমার
কানে আমার দুল আছে কিনা?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তোমার
মায়াবি হাসিটা এখনো আছে কিনা!
হাতের চুড়ির ঝুনঝুন শব্দ
কানে বাজে কিনা?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি তুমি আগের
মতো আছো কিনা?
রাগলে তোমাকে লাল
বর্ণে দেখায় কিনা!
হাসির
শব্দে আমাকে এলোমেলো করে দাও
কিনা!
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
দেখতে এসেছি কপালের
তিলটা তোমার বড় হয়েছে কিনা!
দেখতে এসেছি মুখের
ভেংচি গুলো তোমার
এখনো আমার জন্য জমানো কিনা?
বলতে আসিনি তোমাকে ভালবাসি,
শুধু এতোটুকু বলতে এসেছি,
আমি হীনা তুমি ঠিকই আছো
একদম আগের মত।
---------------------------------------------------------------
ভালবাসা শব্দ
টা হয়তো একটা থার্ড
ক্লাস শব্দ ।
আমার নিজেরও
তা মনে হয় ।
এ বয়স টায় তরুণ
তরুণীরা এই শব্দটাকেই
গায়ে মেখে পৌড়তায়
উপনিত হয় ।
অষ্টাদশী কোনো মেয়ে যখন
বেলকোনীতে দাড়িয়ে কফির
কাপে চুমুক বসায় ,
তখন কিন্তু তার ঠোঁটে ,
মুখে , আর কফির কাপের
বৃত্তে ,
হয়তোবা তর্জনী আর
বৃদ্ধা আঙুলেও ভালবাসার
স্পষ্ট ছাপ পড়ে থাকে ।
তরুন হয়তো পৃথীবির জন্য
এক সমুদ্র বিদ্বেশ
রেখে তোমাকেই
ভালবাসে ।
তবে এটা জানকি ?
ভালবাসা শব্দ
টা কে বরাবর ই আমার
কাছে থার্ড ক্লাস শব্দ
মনে হয় ।
আমার মতো অনেক যুবক ই
এই চিরন্তন
শব্দটাকে পা মাড়িয়ে মহান
সাজার চেষ্টা করে ।
তবু কিন্তু আমি আর
অন্যরা এই শব্দটাকেই
ভালবেসে দিন পার
করি ।
আচ্ছা এটাতো জানই শুদ্ধ
ভালবাসা কতোটাই
বাজে হয় ।
না পাওয়ার তীব্র
ব্যাথা টার থেকেও
গলায় কাটা হয়ে দাড়ায়
আর
কাউকে ভালবাসতে না পারা।
আর
কাউকে হয়তো বলতে পারবনা “তুমি অনেকটা চাঁদের
আলোর মতন ।”
তবে এটা কিন্তু আসলেই
সত্যি ,
আর তা হলো আমি খুব ই
ভাগ্যবান ।
এই কাঠখোট্টা মানুষ
টা তবুও
কাউকে তো ভালবাসতে পেরেছে ।
হোক না সেটা বাজে শব্দ
।
আর হোকনা থার্ড ক্লাস ।
আমি না হয় একা ঝিনুক
হয়ে একা সমুদ্রে আমার
যৌবন , পৌড়তা , বার্ধক্য
কাটাবো ।
-------------------------------------------------------
এই যে দূরত্ব আমাদের
মাঝে তুমি
চাইলেই মেটাতে পার
তা
আমার কাছে যা যোজন
কয়েক
তোমার কাছে সখী মাত্র
কয়েক পা।
পেলেও
বাতাসে সুরভি তোমার
চাইলেও পাই না পরশ
সামান্য
তুমি চাইলেই
তা সহজে দিয়ে
করতে পার আমায় ধন্য।
তাই আমি ভাবি এমন
প্রেমের
গুরুত্ব কতটা আছে এ
জীবনে
এই আছে আবার এই নাই
যা
আলো ছায়ার মত
শয়নে স্বপনে।

Comments
Post a Comment