Skip to main content

**নিঃশব্দ দহন**




সময়ের ধুলো মাখা পথে
হেঁটে চলে মন প্রতিদিন
প্রতিঘাত তবুও অবিচল
গন্তব্য খোঁজে না গন্তব্যহীন
করে না প্রতিপক্ষের খোঁজ
অথবা বিরুদ্ধ চারণ
এ কেবল জীবনকে জানানো
আর ভিতরের নিঃশব্দ দহন

-------------------------------------------------------

কত রাত তার কেটে গেছে,
কত চেনাশোনা আঘাতে,
সময় কেটেছে,কষ্ট নিয়ে তার
বদলে ভালোবাসা বিলাতে,
বিষ-দংশনে ক্ষতবিক্ষত
হৃদয় চেয়েছে মুক্তি,
বইয়ের পাতা উল্টে দেখেছে,
গুনিজনের উক্তি ।
সময় তাকে শিখিয়ে নিয়েছে 
কষ্ট নিয়ে কষ্ট
ফিরিয়ে দেওয়া,
যে জন প্রেমের মর্ম বোঝেনা,
তার থেকে প্রেম কেড়ে নেওয়া,
তাই আজ কোনো ফেলে আসা পথের বাঁকে,
চেনা মানুষ গুলো অচেনার মত,
পড়ে আছে ঝাঁকে-ঝাঁকে,
বসন্ত এসে দারে ঠোকা দিয়ে তার,
কতবার ফিরে গেছে,
যেদিন হতে সে নিজেকে চিনেছে,
নিজেকেই ভালোবাসে ।
আজ প্রেমের সওদায় নেই কোনো, 
মুক্তি বেচার পন,
আজ সময়
তাকে শিখিয়ে দিয়েছে,
কে তার আপনজন,
আজ সে বুঝেছে,
সম্পর্ক গুলোকে চিনতে হয় 
একটু দুর থেকে,
যেগুলো দুরের,দুরেই রবে,
যেগুলো কাছের,
কাছেই নেবে ডেকে ।


-----------------------------------------------------------------


যা-কিছু দুর হতে ভালো লাগে,নিকটে সেগুলো ততটাই ফাঁকা ।
প্রেম ও সেইরূপ কোনো এক দুরের বলাকা ।
পৃথিবীর মাটিতে দাঁড়িয়ে তাই লেখা যায় চাঁদের কবিতা,
চাঁদের মাটিতে গিয়ে দাঁড়ালেই হবে ব্যার্থ সবি তা ।
সেখানে চাঁদের মটিতে একরাশ ধুসর গর্তের সারি,
এখান থেকে লাগতেই পারে তাকে,চরকা ও চাঁদের বুড়ি,
তবু সেখানে দাঁড়িয়ে যদি প্রেমিক বলে তুমি চাঁদের মতই সুন্দর,
আদরের বদলে জুটবে হয়ত প্রেমিকার থাপ্পড় ।
প্রেম,তোকে দুর থেকে দেখলেই ভালো হত,
কাছে এসে হাত ধরে বাড়ালাম হৃদয়ের ক্ষত !


---------------------------------------------------------


সস্তা প্রেমের বাজারে,প্রেম তুমি নিলামে উঠেছ,
তোমার মান ভাঙানো কথায়,হাঁসতে হাঁসতে-
কখন যে নিলামের বুলি সাধ্য ছাড়িয়ে যায়,
কখন যে আকাশ-কুসুম সাধের জন্ম হয় জানিনা,
তাই তো আর আগের মত ভালোবাসিনা ।
সব মিলিয়ে প্রেম এখন পানকৌড়ি-র ডুব মেরেছে,
ভালোবাসার মাছরাঙারা বর্তমানে হাল-ছেড়েছে,
সমাজ নামক ইন্দ্রজ্বালে পাশাপাশি ভালই আছি,
সস্তা প্রেমের ফুলকো লুচি,এখন সস্তা তেলেই ভাজি ।


--------------------------------------------------------

কবিতারা বলবে,তার কাব্যরস চাইনা,
সেই কবিতারা বলবে,তার উপমার আবরণ চাইনা,
সেই কবিতারা কেবল নবজাতকের মত নগ্নতা চায়,
সেই কবিতারা মনের কথা সরাসরি বলতে চায় ,
ছকে বাঁধা ধারাপাতে,খোঁয়াড়ে যেমন শুয়োর চাষ হয়,
অথবা যেমন পোল্ট্রি ফার্মে জন্মায় মুরগি,
ঠিক তেমন করে প্রজননের ব্যাবসা এটা নয় ।
মা যেমন করে দশমাস,জন্মের আগেও যত্নে পালন করে,
ঠিক তেমন করেই সারাদিন কবিতাকে ধারন করতে হয়,
একটু অসাবধান হলেই কবিতার ভ্রুনের গর্ভপাত হয় ।
তারপর দিনের ব্যাস্ততা ফেলে,রাতের শুন্যতা এলে -
রাত্রি কলমের রক্ত চায়,প্রসব যন্ত্রনার রক্ত চায়,
যা কালি হয়ে ফুটে উঠবে সদ্যজাত কবিতার কান্নায় ।

---------------------------------------------------------


খোকা ঘুমালো,পাড়া জুড়ালো,শুধু-
দেশে বর্গি আসার জায়গা নেই,
দেশের শত্রু এখন জন্মায় দেশেতেই ।
বুলবুলি আর ধান খায় না-
রাজার মন্ত্রি আসেনা খাজনা নিতে,
খোকার চোখেও ঘুম আসেনা-
বেকারত্বের তিক্ত চুলকানিতে ।
মাসিপিসি পার্লারে যায়,কিসের বৃন্দাবন,
বুড়ো হলে তার বৃদ্ধাশ্রম আছে-
মা-বাবার কি প্রয়জন ? তাই যখন-
সস্তা দামের,সস্তা স্বপন, বস্তাবন্দী হল-
তখনই খোকা ঘুমালো,পাড়া জুড়ালো ।

--------------------------------------------------------


হৃদয় ভেঙে যাক, বুকভাঙা কান্না আসুক
ক্ষতি নেই,
প্রার্থনা শুধু এটুকুই,
চোখ মোছার শক্তি টুকু থাক ।
স্বপ্ন ভাঙুক যেমন করে আয়না ভাঙে,
ক্ষতি নেই তাতে,
প্রার্থনা এটুকুই,
চোখ দুটো আরেকটা নতুন স্বপন পাক ।
জীবন কারো হয়না দুটো জানি,
তবু শুরুর আছে শেষ,
তাই প্রার্থনা শুধু এটুকুই,
শেষের পরেও নতুন শুরু থাক ।
এক জীবনের মধ্যে থাকুক
হাজারটা শেষ, ক্ষতি নেই,
ভালো হোক বা মন্দ,
শুধু প্রতিটা শেষ-হাঁসি মুখেই থাক ।
মৃত্যু আসুক যখন খুশি,
সময়ের আগে হলেও ক্ষতি নেই,
প্রার্থনা শুধু এটুকুই,
তার আগে সব পিছুটান
মিটে যাক ।


-------------------------------------------------------------

তোকে যা কিছু বলার
ছিল,তা একটা তারার
কাছে বলেছি,
তারাটা তোকে বলতে চেয়েও
পারেনি,
কারণ,আকাশ
পানে তাকিয়ে তোর
আঁখি দুটো কভু জাগেনি,
তবুও
জানিস,তারাটা বোধহয়
এখোনো হাল ছাড়েনি ।
আজও দেখি রাত হলেই
আমাদের ঘরের চালের উপর
জাগে,
তোকে কিছু
বলবে বলে তক্কে তক্কে থাকে,
আমিও জাগি আশায় আশায়,
দেখব বলে,
তারা কখন পিয়ন
হয়ে আমার আমার
কথা দেবে তোকে বলে,
এইভাবে কত রাত আমার
বৃথাই গেল চলে,
শুধু তোর হলনা সময় কভু
জেগে থাকার,রাত্রি গভীর
হলে ।
হয়ত কোনোদইন অপেক্ষারত
তারা খসে যাবে,
ঘুম
আসবে আমারো,জেগে থাকার
প্রয়োজন শেষ হবে,
সেদিন হয়ত তুই
জাগবি,সেই কথাটাই
শোনার ইচ্ছা নিয়ে,
জেগে আর লাভ কি তখন,যখন
সে কথার প্রয়োজন
যাবে ফুরিয়ে ।


-----------------------------------------------------------


সবাই বলে সময় নষ্ট-সময় নষ্ট,কিসের জন্য সময় ?
ওরে সব পাগলের দল,সময় কি কখনো নষ্ট হয় ?
সময়ের কোনো হিসাবই নেই,সময় সীমাবদ্ধ ,
কার হাতে কত সময় আছে,তাও যদি কেউ জানত !
মুহর্তের সাথে সব বদলে যায়,জীবিতরা হয় মৃত,
পলকে আবার জীবন প্রসব,ভ্রুণ হয় গর্ভস্ত,
যার যেটাতে মনের খুশি,সময়টা যদি সেটায় কাটে,
সেটাকে সময় নষ্ট বলে,কিসের লোভে মানুষ ছোটে ?
আজকে যেটা লাগছে ভালো,কালকে ভালো লাগবে না,
তাই আজকে সেটা না করলে,কালের জন্য থাকবে না,
আজ সময় নষ্ট ভেবে যে ইচ্ছাটাকে কষ্ট দাও,
কাল হয়তো সেটারই জন্য স্মৃতির পাতা উল্টে যাও,
কিসের সময় ? কিসের জন্য ? কিভাবেই বা নষ্ট হয় ?
আমার মতে জীবিত সময়,বাঁচার জন্যই খরচ হয় ।

-------------------------------------------------------


কে বসন্ত ? এসেছিস ভাই ?
বেশ করেছিস।
গতকালই তো,একটা কোকিল
বলছিল-
তুই আসবি আর
পাতাঝরা গাছে পাতা গজাবে,
ফুলের বাগান
ফুলে ফুলে ভরে যাবে।
শুধু আমিই
মেনে নিতে পারছিলাম
না ।
চারিদিকের এত
ঝঞ্ঝাট,দুঃখ,অনা
হার,অকাল,
বেকার মানুষের চাকরির
সন্ধানে ক্ষয়ে যাওয়া জুতো,
নেতা-
মন্ত্রি ষড়যন্ত্রি,সবার
শুধু চোখফেরানোর ছুতো,
এত সমস্যার
মাঝে ভেবেছিলাম তুই
হারিয়ে যাবি।
আমি ভুল ছিলাম রে ভাই,
বুঝিনি,তোর এত-শত ভাবার
সময় নাই।
তোকে যে, ফুলে ফুলে-
গানে গানে, ভ্রমরের
গুঞ্জরনে,
কোকিলের কুহু-কেকায়,নতুন
পাতার আগমনে,
কবিদের কবিতায়-বসন্তের
মাতাল সমিরনে,
প্রতি বছর আসতে হয়
অনিবার্য কারণে।


-----------------------------------------------------------


রং নয়,আবির নয়,কাল
আমাদের রঙিন জলের
খেলা,
কাল জমাট বাঁধা রক্ত
চড়বে,মাতাল নেশার
ভেলা,
কি লাভ বসন্ত
উত্সবে,শরীর
রাঙিয়ে কিইবা লাভ হবে ?
আঁধার পথের পথিক
সবে,রং দিয়ে কি হৃদয়
রাঙানো যাবে ?
কাল তাই আর,রং নয় শুধু
রঙিন জলের খেলা ,
টলমল পায়ে,লাল-লাল
চোখে,হৃদয়ের
মাঝে জীবনের অবহেলা ।
তোর্ ইচ্ছা,হাঁসি-হাঁ
সি মুখে, আবির দিবি গালে,
লাভ কি হবে বল ? শুধু
মুখটা গোলাপী হলে ?
হৃদয়ের কালো,কখনো কি আর
মুখের আদলে চলে ?
সাময়িক রং সময়ের
সাথে,মুছে যাবে সব
সময়ের কোলাহলে ।


------------------------------------------------------------


ফিরবেনা আর ছোটোবেলার দিন গুলো,
তারা আজ হারিয়ে গেছে ।
মনে পড়ে যায় শুধু ,
ধুলো মাখা দুটি হাত,
গর্ত গুলো আজ মুছে গেছে ।
খেলার জায়গা চিরে চলে গেছে বাইপাস,
আল্পনা একে যায় গাড়ির ধোয়া,
খেলার মাঠ জুড়ে ছোটো বড়
দোকান বাড়ি দিয়ে,
শৈশব স্মৃতি ঢেকে দেওয়া ।


----------------------------------------------------------


মাঝে মাঝে চারাগাছে 
জল দিতে বড় দেরী হয়ে যায়,
পাখিতে ঠোকড়ানোর আগে ফলটাও পেড়ে খাওয়া হয়না,
মাঝে মাঝে ইচ্ছা না থাকলেও 
সবকিছু ভুলেযেতে হয়,
আসলে জীবনের সবকিছু মনে রাখা সয়না ।
মাঝে মাঝে কাজ ভালো লাগে,
মাঝে মাঝে ভালো লাগে কাজের অভাব,
মাঝে মাঝে ভালো লাগে ফুল, 
কখনো বা বড়বড় ভুল,
আসলে একঘেঁয়ে সবকিছু পাল্টানো আমার স্বভাব ।
মাঝে মাঝে ভালবাসা,
তোমাকেও বেশ ভালো লাগে,
মাঝে মাঝে ভালবাসা-টাই লাগে 
বড় ফিঁকে-ফিঁকে,
কখনো হঠাৎ বড় বিরহের সাধ জাগে,
পাল্টানো স্বাদের মোড়কে 
চলে যাওয়া প্রেম থাকে টিকে ।
মাঝে মাঝে একাকী ক্ষণ
গুলো কাঁটার মত ফুটতে থাকে,
মাঝে মাঝে মানুষের
ভীড়ে মন বন্ধুত্ব খুঁজে থাকে,
কখনো ঘর ছাড়ার জন্য
মনটা কেবলি কাঁদতে থাকে,
আবার মাঝে মাঝে
অলস মন ফিরতে চায়
চেনা নিজের বিছানা-টাতে ।


----------------------------------------------------------


টানা টানা কাজলে আঁকা
কৃত্তিম চোখে,
ঢেউ তুলে আঁকা মাসকারা,
সাদা সাদা পউডারে
ঢাকা বিবর্ন মুখ,
চোয়ালেতে হালকা লাল
রং করা।
উচ্ছ সভ্যতার অর্ধনগ্ন উরু ,
বুক দুরু-দুরু ,আড়চোখে দেখে
নেওয়া
জিরো ফিগারের নামে
দধিচির পাঁজর।
আনমনে ছুঁয়ে যায় লোভের
নজর।
তবু চাপা রং,খসখসে
চামড়া আর
বোঁচা নাকের প্রেমিকা
আমার খাসা,
চোখে না-বলা অনেক
স্তব্ধতার ভাসা শোনায়।
লোভের চোখ দুটো নরম
আবেশে জুড়ায়।


---------------------------------------------------------


পাথরের আঘাতে,যখন
কাঁচের বিশ্বাস ভাঙে,
মেঘে মেঘে
ঘর্ষণে,হৃদয়ের গুড়-গুড়
শব্দে-
আকাশের চোখে ঘুম আর আসে
না ।
সময়ের সব রং মুছে
যায়,অসময়ে সন্ধ্যা নামে,
ধার করা আনন্দে,জীবনটা
আর মেতে ওঠে না ।
পাঁজরে তো দধীচির হাড়
নেই !
হৃদয়ে তো নেই কোনো
চকমকি পাথরের জোড়া !
তাই গর্জনে নেই কোনো
জোরালো বজ্রের হুঙ্কার,
শুধু মিথ্যে হাঁসি দিয়ে
ঠোঁটের পাপড়ি দুটো জোড়া

ধনুকে লাগানো তির
চালানোর আগে,
চেয়ে দেখি সামনে
সম্পর্কের শিখন্ডি
সারথী,
তাই কৃত্তিম হাঁসি দিয়ে
সাজানো সন্ধ্যা আরতি,
ভুল করে চোখে চোখ পড়ে
গেলে,ঝরে পড়ে লজ্জা,
এহেন জীবন যেন ভীষ্মের
জীবিত শরসজ্জা ।


--------------------------------------------------------


পরকিয়ার গোপন
নাগপাশে,প্রায় নিভে
আসা প্রেমের বাতাসে,
যদি কোনো পুরানো
একঘেঁয়ে মুখ চোখে ভেসে
আসে-
যদি উত্তেজিত অবুঝ
অঙ্গ,অজান্তে শিথিল হয়
নিষিদ্ধ বাহুপাশে-
তবে নিশ্চিত ভাবে জেনে
রেখো এখনো ভালবাসা
আছে ।
কর্মব্যস্ত জীবনের অবুঝ
ক্লান্তিতে,মন ভোলানো
মনের শান্তিতে,
অফিস ফেরত কোনো ঝলমলে
ক্যাফেটেরিয়ায় বসে-
যদি জানালার বাইরে
চোখ চলে যায়,দুরে কোনো
গাছের ছায়ায়-
যদি সেখানে বসে থাকা
বেকার কপোত-কপোতীর
প্রেমের দৃশ্য কাঁদায়,
তবে জেনে রেখো
ভালবাসা আছে হৃদয়ের
গভীর কোনায় ।
অন্যথায়,নামজাদা
প্রেমের বাজারে,শরীর
তো কিনতেও পাওয়া যায়,
শুধু বিশ্বাস অর্জিত
হয়,তাকে ধরে রাখা
হৃদয়ের দায়,
তার দাম সেই পারে
দিতে,সেই পারে বুক ঠুকে
প্রেম দিতে নিতে,
যে বুঝেছে ভালবাসা আজো
বেঁচে আছে,হৃদয়ের কোনায়
কোনায় ।


----------------------------------------------------------


মরে যাওয়া ইঁদুরের চোখ,আর পেট ভরা
প্যাঁচার চাহুনি,
আমি-তুই এমনি প্রেমিক প্রেমিকা,এমনি
প্রেমের কাহানি ।
ল্যাম্প-পোষ্টের নিচে মরে পড়ে থাকা
অভাগার দেহ,
বলে যায়,শুধু আলো আছে,মরণকালে জল
পায়নি মৃতদেহ,
একপায়ে দাঁড়ানো যত বক পাখি বলে ক্লান্তি
দারুন,
চাতক করুন স্বরে বলে যায়,একফোঁটা জল
দেয়নি বরুন,
তলপেটে গেঁথে গেছে ঘাতকের ছুরি,তাই
আওয়াজে গোঙানি,
আমি-তুই এমনি প্রেমিক প্রেমিকা,এমনি
প্রেমের কাহানি ।
কলম-ও তাই লিখে চলে,যারা পড়ে সেগুলোকে
কবিতা বলে,
আমি বলি ব্যর্থ কবিতা,সেগুলোতে তোর চোখ
পড়েনি বলে ।


সময়ের ধুলো মাখা পথে
হেঁটে চলে মন প্রতিদিন
প্রতিঘাত তবুও অবিচল
গন্তব্য খোঁজে না গন্তব্যহীন
করে না প্রতিপক্ষের খোঁজ
অথবা বিরুদ্ধ চারণ
এ কেবল জীবনকে জানানো
আর ভিতরের নিঃশব্দ দহন

-------------------------------------------------------

কত রাত তার কেটে গেছে,
কত চেনাশোনা আঘাতে,
সময় কেটেছে,কষ্ট নিয়ে তার
বদলে ভালোবাসা বিলাতে,
বিষ-দংশনে ক্ষতবিক্ষত
হৃদয় চেয়েছে মুক্তি,
বইয়ের পাতা উল্টে দেখেছে,
গুনিজনের উক্তি ।
সময় তাকে শিখিয়ে নিয়েছে 
কষ্ট নিয়ে কষ্ট
ফিরিয়ে দেওয়া,
যে জন প্রেমের মর্ম বোঝেনা,
তার থেকে প্রেম কেড়ে নেওয়া,
তাই আজ কোনো ফেলে আসা পথের বাঁকে,
চেনা মানুষ গুলো অচেনার মত,
পড়ে আছে ঝাঁকে-ঝাঁকে,
বসন্ত এসে দারে ঠোকা দিয়ে তার,
কতবার ফিরে গেছে,
যেদিন হতে সে নিজেকে চিনেছে,
নিজেকেই ভালোবাসে ।
আজ প্রেমের সওদায় নেই কোনো, 
মুক্তি বেচার পন,
আজ সময়
তাকে শিখিয়ে দিয়েছে,
কে তার আপনজন,
আজ সে বুঝেছে,
সম্পর্ক গুলোকে চিনতে হয় 
একটু দুর থেকে,
যেগুলো দুরের,দুরেই রবে,
যেগুলো কাছের,
কাছেই নেবে ডেকে ।


-----------------------------------------------------------------


যা-কিছু দুর হতে ভালো লাগে,নিকটে সেগুলো ততটাই ফাঁকা ।
প্রেম ও সেইরূপ কোনো এক দুরের বলাকা ।
পৃথিবীর মাটিতে দাঁড়িয়ে তাই লেখা যায় চাঁদের কবিতা,
চাঁদের মাটিতে গিয়ে দাঁড়ালেই হবে ব্যার্থ সবি তা ।
সেখানে চাঁদের মটিতে একরাশ ধুসর গর্তের সারি,
এখান থেকে লাগতেই পারে তাকে,চরকা ও চাঁদের বুড়ি,
তবু সেখানে দাঁড়িয়ে যদি প্রেমিক বলে তুমি চাঁদের মতই সুন্দর,
আদরের বদলে জুটবে হয়ত প্রেমিকার থাপ্পড় ।
প্রেম,তোকে দুর থেকে দেখলেই ভালো হত,
কাছে এসে হাত ধরে বাড়ালাম হৃদয়ের ক্ষত !


---------------------------------------------------------


সস্তা প্রেমের বাজারে,প্রেম তুমি নিলামে উঠেছ,
তোমার মান ভাঙানো কথায়,হাঁসতে হাঁসতে-
কখন যে নিলামের বুলি সাধ্য ছাড়িয়ে যায়,
কখন যে আকাশ-কুসুম সাধের জন্ম হয় জানিনা,
তাই তো আর আগের মত ভালোবাসিনা ।
সব মিলিয়ে প্রেম এখন পানকৌড়ি-র ডুব মেরেছে,
ভালোবাসার মাছরাঙারা বর্তমানে হাল-ছেড়েছে,
সমাজ নামক ইন্দ্রজ্বালে পাশাপাশি ভালই আছি,
সস্তা প্রেমের ফুলকো লুচি,এখন সস্তা তেলেই ভাজি ।


--------------------------------------------------------

কবিতারা বলবে,তার কাব্যরস চাইনা,
সেই কবিতারা বলবে,তার উপমার আবরণ চাইনা,
সেই কবিতারা কেবল নবজাতকের মত নগ্নতা চায়,
সেই কবিতারা মনের কথা সরাসরি বলতে চায় ,
ছকে বাঁধা ধারাপাতে,খোঁয়াড়ে যেমন শুয়োর চাষ হয়,
অথবা যেমন পোল্ট্রি ফার্মে জন্মায় মুরগি,
ঠিক তেমন করে প্রজননের ব্যাবসা এটা নয় ।
মা যেমন করে দশমাস,জন্মের আগেও যত্নে পালন করে,
ঠিক তেমন করেই সারাদিন কবিতাকে ধারন করতে হয়,
একটু অসাবধান হলেই কবিতার ভ্রুনের গর্ভপাত হয় ।
তারপর দিনের ব্যাস্ততা ফেলে,রাতের শুন্যতা এলে -
রাত্রি কলমের রক্ত চায়,প্রসব যন্ত্রনার রক্ত চায়,
যা কালি হয়ে ফুটে উঠবে সদ্যজাত কবিতার কান্নায় ।

---------------------------------------------------------


খোকা ঘুমালো,পাড়া জুড়ালো,শুধু-
দেশে বর্গি আসার জায়গা নেই,
দেশের শত্রু এখন জন্মায় দেশেতেই ।
বুলবুলি আর ধান খায় না-
রাজার মন্ত্রি আসেনা খাজনা নিতে,
খোকার চোখেও ঘুম আসেনা-
বেকারত্বের তিক্ত চুলকানিতে ।
মাসিপিসি পার্লারে যায়,কিসের বৃন্দাবন,
বুড়ো হলে তার বৃদ্ধাশ্রম আছে-
মা-বাবার কি প্রয়জন ? তাই যখন-
সস্তা দামের,সস্তা স্বপন, বস্তাবন্দী হল-
তখনই খোকা ঘুমালো,পাড়া জুড়ালো ।

--------------------------------------------------------


হৃদয় ভেঙে যাক, বুকভাঙা কান্না আসুক
ক্ষতি নেই,
প্রার্থনা শুধু এটুকুই,
চোখ মোছার শক্তি টুকু থাক ।
স্বপ্ন ভাঙুক যেমন করে আয়না ভাঙে,
ক্ষতি নেই তাতে,
প্রার্থনা এটুকুই,
চোখ দুটো আরেকটা নতুন স্বপন পাক ।
জীবন কারো হয়না দুটো জানি,
তবু শুরুর আছে শেষ,
তাই প্রার্থনা শুধু এটুকুই,
শেষের পরেও নতুন শুরু থাক ।
এক জীবনের মধ্যে থাকুক
হাজারটা শেষ, ক্ষতি নেই,
ভালো হোক বা মন্দ,
শুধু প্রতিটা শেষ-হাঁসি মুখেই থাক ।
মৃত্যু আসুক যখন খুশি,
সময়ের আগে হলেও ক্ষতি নেই,
প্রার্থনা শুধু এটুকুই,
তার আগে সব পিছুটান
মিটে যাক ।


-------------------------------------------------------------

তোকে যা কিছু বলার
ছিল,তা একটা তারার
কাছে বলেছি,
তারাটা তোকে বলতে চেয়েও
পারেনি,
কারণ,আকাশ
পানে তাকিয়ে তোর
আঁখি দুটো কভু জাগেনি,
তবুও
জানিস,তারাটা বোধহয়
এখোনো হাল ছাড়েনি ।
আজও দেখি রাত হলেই
আমাদের ঘরের চালের উপর
জাগে,
তোকে কিছু
বলবে বলে তক্কে তক্কে থাকে,
আমিও জাগি আশায় আশায়,
দেখব বলে,
তারা কখন পিয়ন
হয়ে আমার আমার
কথা দেবে তোকে বলে,
এইভাবে কত রাত আমার
বৃথাই গেল চলে,
শুধু তোর হলনা সময় কভু
জেগে থাকার,রাত্রি গভীর
হলে ।
হয়ত কোনোদইন অপেক্ষারত
তারা খসে যাবে,
ঘুম
আসবে আমারো,জেগে থাকার
প্রয়োজন শেষ হবে,
সেদিন হয়ত তুই
জাগবি,সেই কথাটাই
শোনার ইচ্ছা নিয়ে,
জেগে আর লাভ কি তখন,যখন
সে কথার প্রয়োজন
যাবে ফুরিয়ে ।


-----------------------------------------------------------


সবাই বলে সময় নষ্ট-সময় নষ্ট,কিসের জন্য সময় ?
ওরে সব পাগলের দল,সময় কি কখনো নষ্ট হয় ?
সময়ের কোনো হিসাবই নেই,সময় সীমাবদ্ধ ,
কার হাতে কত সময় আছে,তাও যদি কেউ জানত !
মুহর্তের সাথে সব বদলে যায়,জীবিতরা হয় মৃত,
পলকে আবার জীবন প্রসব,ভ্রুণ হয় গর্ভস্ত,
যার যেটাতে মনের খুশি,সময়টা যদি সেটায় কাটে,
সেটাকে সময় নষ্ট বলে,কিসের লোভে মানুষ ছোটে ?
আজকে যেটা লাগছে ভালো,কালকে ভালো লাগবে না,
তাই আজকে সেটা না করলে,কালের জন্য থাকবে না,
আজ সময় নষ্ট ভেবে যে ইচ্ছাটাকে কষ্ট দাও,
কাল হয়তো সেটারই জন্য স্মৃতির পাতা উল্টে যাও,
কিসের সময় ? কিসের জন্য ? কিভাবেই বা নষ্ট হয় ?
আমার মতে জীবিত সময়,বাঁচার জন্যই খরচ হয় ।

-------------------------------------------------------


কে বসন্ত ? এসেছিস ভাই ?
বেশ করেছিস।
গতকালই তো,একটা কোকিল
বলছিল-
তুই আসবি আর
পাতাঝরা গাছে পাতা গজাবে,
ফুলের বাগান
ফুলে ফুলে ভরে যাবে।
শুধু আমিই
মেনে নিতে পারছিলাম
না ।
চারিদিকের এত
ঝঞ্ঝাট,দুঃখ,অনা
হার,অকাল,
বেকার মানুষের চাকরির
সন্ধানে ক্ষয়ে যাওয়া জুতো,
নেতা-
মন্ত্রি ষড়যন্ত্রি,সবার
শুধু চোখফেরানোর ছুতো,
এত সমস্যার
মাঝে ভেবেছিলাম তুই
হারিয়ে যাবি।
আমি ভুল ছিলাম রে ভাই,
বুঝিনি,তোর এত-শত ভাবার
সময় নাই।
তোকে যে, ফুলে ফুলে-
গানে গানে, ভ্রমরের
গুঞ্জরনে,
কোকিলের কুহু-কেকায়,নতুন
পাতার আগমনে,
কবিদের কবিতায়-বসন্তের
মাতাল সমিরনে,
প্রতি বছর আসতে হয়
অনিবার্য কারণে।


-----------------------------------------------------------


রং নয়,আবির নয়,কাল
আমাদের রঙিন জলের
খেলা,
কাল জমাট বাঁধা রক্ত
চড়বে,মাতাল নেশার
ভেলা,
কি লাভ বসন্ত
উত্সবে,শরীর
রাঙিয়ে কিইবা লাভ হবে ?
আঁধার পথের পথিক
সবে,রং দিয়ে কি হৃদয়
রাঙানো যাবে ?
কাল তাই আর,রং নয় শুধু
রঙিন জলের খেলা ,
টলমল পায়ে,লাল-লাল
চোখে,হৃদয়ের
মাঝে জীবনের অবহেলা ।
তোর্ ইচ্ছা,হাঁসি-হাঁ
সি মুখে, আবির দিবি গালে,
লাভ কি হবে বল ? শুধু
মুখটা গোলাপী হলে ?
হৃদয়ের কালো,কখনো কি আর
মুখের আদলে চলে ?
সাময়িক রং সময়ের
সাথে,মুছে যাবে সব
সময়ের কোলাহলে ।


------------------------------------------------------------


ফিরবেনা আর ছোটোবেলার দিন গুলো,
তারা আজ হারিয়ে গেছে ।
মনে পড়ে যায় শুধু ,
ধুলো মাখা দুটি হাত,
গর্ত গুলো আজ মুছে গেছে ।
খেলার জায়গা চিরে চলে গেছে বাইপাস,
আল্পনা একে যায় গাড়ির ধোয়া,
খেলার মাঠ জুড়ে ছোটো বড়
দোকান বাড়ি দিয়ে,
শৈশব স্মৃতি ঢেকে দেওয়া ।


----------------------------------------------------------


মাঝে মাঝে চারাগাছে 
জল দিতে বড় দেরী হয়ে যায়,
পাখিতে ঠোকড়ানোর আগে ফলটাও পেড়ে খাওয়া হয়না,
মাঝে মাঝে ইচ্ছা না থাকলেও 
সবকিছু ভুলেযেতে হয়,
আসলে জীবনের সবকিছু মনে রাখা সয়না ।
মাঝে মাঝে কাজ ভালো লাগে,
মাঝে মাঝে ভালো লাগে কাজের অভাব,
মাঝে মাঝে ভালো লাগে ফুল, 
কখনো বা বড়বড় ভুল,
আসলে একঘেঁয়ে সবকিছু পাল্টানো আমার স্বভাব ।
মাঝে মাঝে ভালবাসা,
তোমাকেও বেশ ভালো লাগে,
মাঝে মাঝে ভালবাসা-টাই লাগে 
বড় ফিঁকে-ফিঁকে,
কখনো হঠাৎ বড় বিরহের সাধ জাগে,
পাল্টানো স্বাদের মোড়কে 
চলে যাওয়া প্রেম থাকে টিকে ।
মাঝে মাঝে একাকী ক্ষণ
গুলো কাঁটার মত ফুটতে থাকে,
মাঝে মাঝে মানুষের
ভীড়ে মন বন্ধুত্ব খুঁজে থাকে,
কখনো ঘর ছাড়ার জন্য
মনটা কেবলি কাঁদতে থাকে,
আবার মাঝে মাঝে
অলস মন ফিরতে চায়
চেনা নিজের বিছানা-টাতে ।


----------------------------------------------------------


টানা টানা কাজলে আঁকা
কৃত্তিম চোখে,
ঢেউ তুলে আঁকা মাসকারা,
সাদা সাদা পউডারে
ঢাকা বিবর্ন মুখ,
চোয়ালেতে হালকা লাল
রং করা।
উচ্ছ সভ্যতার অর্ধনগ্ন উরু ,
বুক দুরু-দুরু ,আড়চোখে দেখে
নেওয়া
জিরো ফিগারের নামে
দধিচির পাঁজর।
আনমনে ছুঁয়ে যায় লোভের
নজর।
তবু চাপা রং,খসখসে
চামড়া আর
বোঁচা নাকের প্রেমিকা
আমার খাসা,
চোখে না-বলা অনেক
স্তব্ধতার ভাসা শোনায়।
লোভের চোখ দুটো নরম
আবেশে জুড়ায়।


---------------------------------------------------------


পাথরের আঘাতে,যখন
কাঁচের বিশ্বাস ভাঙে,
মেঘে মেঘে
ঘর্ষণে,হৃদয়ের গুড়-গুড়
শব্দে-
আকাশের চোখে ঘুম আর আসে
না ।
সময়ের সব রং মুছে
যায়,অসময়ে সন্ধ্যা নামে,
ধার করা আনন্দে,জীবনটা
আর মেতে ওঠে না ।
পাঁজরে তো দধীচির হাড়
নেই !
হৃদয়ে তো নেই কোনো
চকমকি পাথরের জোড়া !
তাই গর্জনে নেই কোনো
জোরালো বজ্রের হুঙ্কার,
শুধু মিথ্যে হাঁসি দিয়ে
ঠোঁটের পাপড়ি দুটো জোড়া

ধনুকে লাগানো তির
চালানোর আগে,
চেয়ে দেখি সামনে
সম্পর্কের শিখন্ডি
সারথী,
তাই কৃত্তিম হাঁসি দিয়ে
সাজানো সন্ধ্যা আরতি,
ভুল করে চোখে চোখ পড়ে
গেলে,ঝরে পড়ে লজ্জা,
এহেন জীবন যেন ভীষ্মের
জীবিত শরসজ্জা ।


--------------------------------------------------------


পরকিয়ার গোপন
নাগপাশে,প্রায় নিভে
আসা প্রেমের বাতাসে,
যদি কোনো পুরানো
একঘেঁয়ে মুখ চোখে ভেসে
আসে-
যদি উত্তেজিত অবুঝ
অঙ্গ,অজান্তে শিথিল হয়
নিষিদ্ধ বাহুপাশে-
তবে নিশ্চিত ভাবে জেনে
রেখো এখনো ভালবাসা
আছে ।
কর্মব্যস্ত জীবনের অবুঝ
ক্লান্তিতে,মন ভোলানো
মনের শান্তিতে,
অফিস ফেরত কোনো ঝলমলে
ক্যাফেটেরিয়ায় বসে-
যদি জানালার বাইরে
চোখ চলে যায়,দুরে কোনো
গাছের ছায়ায়-
যদি সেখানে বসে থাকা
বেকার কপোত-কপোতীর
প্রেমের দৃশ্য কাঁদায়,
তবে জেনে রেখো
ভালবাসা আছে হৃদয়ের
গভীর কোনায় ।
অন্যথায়,নামজাদা
প্রেমের বাজারে,শরীর
তো কিনতেও পাওয়া যায়,
শুধু বিশ্বাস অর্জিত
হয়,তাকে ধরে রাখা
হৃদয়ের দায়,
তার দাম সেই পারে
দিতে,সেই পারে বুক ঠুকে
প্রেম দিতে নিতে,
যে বুঝেছে ভালবাসা আজো
বেঁচে আছে,হৃদয়ের কোনায়
কোনায় ।


----------------------------------------------------------


মরে যাওয়া ইঁদুরের চোখ,আর পেট ভরা
প্যাঁচার চাহুনি,
আমি-তুই এমনি প্রেমিক প্রেমিকা,এমনি
প্রেমের কাহানি ।
ল্যাম্প-পোষ্টের নিচে মরে পড়ে থাকা
অভাগার দেহ,
বলে যায়,শুধু আলো আছে,মরণকালে জল
পায়নি মৃতদেহ,
একপায়ে দাঁড়ানো যত বক পাখি বলে ক্লান্তি
দারুন,
চাতক করুন স্বরে বলে যায়,একফোঁটা জল
দেয়নি বরুন,
তলপেটে গেঁথে গেছে ঘাতকের ছুরি,তাই
আওয়াজে গোঙানি,
আমি-তুই এমনি প্রেমিক প্রেমিকা,এমনি
প্রেমের কাহানি ।
কলম-ও তাই লিখে চলে,যারা পড়ে সেগুলোকে
কবিতা বলে,
আমি বলি ব্যর্থ কবিতা,সেগুলোতে তোর চোখ
পড়েনি বলে ।


------------------------------------------


ময়ুরাক্ষী,তুমি বল আজো ভালোবাসা আছে ! আমাদের আশেপাশে ?
তবুও মানুষের বাচ্ছারা কেন মানুষের পেটে জন্মাতে ভয় পায় ?
তবু কেন হায়নার সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে চলে এই বাংলায় ?
তুমি বল আজো ভালোবাসা আছে আশেপাশে !
তবু কেন চায়ের দোকানে ৬ বছরের ছেলেটা আমায়,চা দিয়ে যায় ?
জানো,আজ সকালে ভিড় বাসে কবিতাকে কোলে নিয়ে ছিলাম,
পাঁচ বছরের কবিতার নাকে,সর্দি শুকিয়ে দগদগে লাল ঘা হয়ে ছিল,
তাই আর কারো হাত এগিয়ে আসেনি তাকে কোলে তুলে নিতে,
তবুও তুমি বল ভালোবাসা আছে আশেপাশে !
ময়ুরাক্ষী,ভালোবাসারা আজ শুধু বিছানায় স্পর্শকাতর,
ভালোবাসারা আজ ব্যাস্ত শুধু সবকিছু নিজের করে গুছিয়ে নিতে,
আমিও তোমার সাথে মিলে স্বপ্নে দেখেছি সোনার সংসার,
লাল আর সবুজের মোড়োকে ঢাকা হায়নারা রাবন সেজেছে লঙ্কার,
দিনশেষে আমি তুমি প্রত্যেকে ব্যাস্ত শুধু নিজেদের আখের গুছাতে,
তবুও ময়ুরাক্ষী তুমি বল ভালোবাসা আছে ! আমাদের আশেপাশে !

------------------------------------------

--------------ময়ুরাক্ষী,তুমি বল আজো ভালোবাসা আছে ! আমাদের আশেপাশে ?
তবুও মানুষের বাচ্ছারা কেন মানুষের পেটে জন্মাতে ভয় পায় ?
তবু কেন হায়নার সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে চলে এই বাংলায় ?
তুমি বল আজো ভালোবাসা আছে আশেপাশে !
তবু কেন চায়ের দোকানে ৬ বছরের ছেলেটা আমায়,চা দিয়ে যায় ?
জানো,আজ সকালে ভিড় বাসে কবিতাকে কোলে নিয়ে ছিলাম,
পাঁচ বছরের কবিতার নাকে,সর্দি শুকিয়ে দগদগে লাল ঘা হয়ে ছিল,
তাই আর কারো হাত এগিয়ে আসেনি তাকে কোলে তুলে নিতে,
তবুও তুমি বল ভালোবাসা আছে আশেপাশে !
ময়ুরাক্ষী,ভালোবাসারা আজ শুধু বিছানায় স্পর্শকাতর,
ভালোবাসারা আজ ব্যাস্ত শুধু সবকিছু নিজের করে গুছিয়ে নিতে,
আমিও তোমার সাথে মিলে স্বপ্নে দেখেছি সোনার সংসার,
লাল আর সবুজের মোড়োকে ঢাকা হায়নারা রাবন সেজেছে লঙ্কার,
দিনশেষে আমি তুমি প্রত্যেকে ব্যাস্ত শুধু নিজেদের আখের গুছাতে,
তবুও ময়ুরাক্ষী তুমি বল ভালোবাসা আছে ! আমাদের আশেপাশে !

Comments

Popular posts from this blog

**কষ্টকে ভালোবেসে আমি কবি হবো**

আমাদের দুজনার পৃথিবী দুটো শুরু থেকে আলাদা, তোর পুতুল খেলার সংসার, রংচঙে সাজানো গোছানো, তোর চুলের ক্লিপ, ধোয়া তোয়ালে,পোশাক রং মেলানো, আমিও সেই জগতের পভোলা এক পথিক শুধু, কখনও ভ্রমর হয়ে ফুলের থেকে চুরি করে একটু মধু, বাদবাকি খোঁচা-খোঁচা দাড়ি-গোঁফে,আমি কালো সাদা, আমাদের দুজনার পৃথিবী দুটো শুরু থেকেই আলাদা । আমার ভালো লাগে মেঘলা আকাশ, এক-পশলা ইলশেগুঁড়ি, রাতজাগা পাখির ডাক আর পুর্নিমাতে চাঁদেরবুড়ি, সেই জগতে কোনোখানেও ভুল করেও আসবিনা তুই, অথচ সবের পরেও দুইজনেতে একই খাটেই শুই, একই ঘরে দুজনার দুই পৃথিবী বাঁচবে আধা-আধা, আমাদের দুজনার পৃথিবী দুটো শুরু থেকেই আলাদা । তোর সাথে রং মিলিয়ে আমি, চাইলে হয়ত পাল্টাতেও পারি, তোকেও হয়ত ভুল বুজিয়ে, আমার জগতে ডেকে নিতে পারি, কিন্তু সেতো নিছক জীবনের সাথে সমঝোতাই হবে, দুই পৃথিবীর দুটো জীবন তখন কি আর জীবন-খুঁজে পাবে ? ----------------------------------------------------------------------------- সমুদ্র হোক বা পাহাড়, নদী হোক বা পর্বত, দৃষ্টির আরাম-খুজতে আমরা সবাই ছুটে যেতে চাই । আর,শুধু কি চোখের আরাম ? সাথে কাজের বিরাম, মুখের আরাম,সঙ্গে পেটে একটু রঙিন জল পড়লে, প...

*** শ্রীজাত **

ভাঙছে ঠুনকো আড্ডা সাতটা লাল চা, বিস্কুট দাম মেটাচ্ছে খুচরো। অল্প-অল্প বৃষ্টি একলা হাঁটছি, আস্তে স্বপ্ন বলতে চাকরি অস্ত্র বলতে ধান্দা সত্যিমিথ্যে বন্ধু পেট গোলাচ্ছে, যাক গে ফিরতে ফিরতে রাত্তির ভাত সামান্য ঠান্ডা খাচ্ছি, গিলছি, ভাবছি ছোট্টো একটা জানলার পাল্লা ভিজছে হয়তো, নীলচে শান্ত পর্দা একটু-একটু দুলছে, চুল গড়াচ্ছে বিছনায়, পাতলা, স্বচ্ছ নাইটি… -------------------------------------------------------------------------- সহজভাবে পড়তে আসি দরাজ পাঁচিল, রোদের চিকন হালকা সেসব শব্দ, তবু তোমরা বল দেওয়াল লিখন সহজভাবে দেখতে আসি টুকরো কাপড়, রঙের মজা হাওয়ায় কেমন দিব্যি ওড়ে, তোমরা বল জয়ধ্বজা সহজভাবে শুনতে আসি ভালই লাগে আমারও গান সুরের যত রকমসকম - তোমরা বল দাবি, স্লোগান সহজভাবে হাঁটতে আসি আলগা পায়ে আলতো হোঁচট পথের ধারে খোলামকুচি তোমরা বল বিরুদ্ধজোট এসব যদি সহজ না হয় সহজ তবে বলব কাকে? তার চাইতে তোমরা বরং জটিল করে দাও আমাকে। ------------------------------------------------------------------------- সারারাত ঝড়ের পরে তোমার কাছে আসা ভেবেছি শিখিয়ে দেব সকালবেলার ভাষা সকালের গাছগুলো সব নিথর, জড়োসড়ো অভি...

***ভালোবাসা পুঁজি করে নেমে পড় জীবনযুদ্ধে ***

একটা ব্যাকডেটেড মেয়ে খুজে নাও । যে ভালোবাসি বলার আগে তিনবার হোচট খাবে । মাঝে মাঝে হাল্কা শাসনে যে মনে করিয়ে দিবে জীবনের কথা । এত্তোগুলা ভালোবাসা পুঁজি করে নেমে পড় জীবনযুদ্ধে । বাসের ভিড়েপরম যত্নে শরীর দিয়ে আড়াল কর তার খোপার উদ্দেশ্যে কিনে নেয়া রক্তগোলাপটাকে। একটা ভালো ছবি তুলে বেড়ে যাক তোমাদের ভালোবাসা । শীতার্ত সন্ধ্যায় চায়ের কাপ টুকু ভাগাভাগি করে বুঝে নাও তোমাদের ভাল থাকার অধিকার। কপালে নেমে আসা ওর দুএকটা চুলে আঙ্গুল বোলাও অবুঝ আহ্লাদে । কোন এক শীতার্ত দুপুরে কোনও পার্কে ডুব দাও তার ঠোঁটের আটলান্টিকে। শুধু একটা ব্যাকডেটেড মেয়ে খুজে নাও ... ভালোবাসার থার্মোমিটার ফাটিয়ে দাও!!! ---------------------------------------------------------------------- আমার শব্দ চয়নে আভিজাত্য নেই; প্রতিদিনকার চাল,ডাল, লবণ পিয়াজের মতো নিত্যনৈমিত্তিক খাবারে মতো সাধারণ শব্দে আমার কাব্য যেমন সাধারণ আমার পরিধেয়। তোমাকে ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় বিলাসিতা! যদি আমাকে ভালবেসে পাশে থাকো তবে আমি চিরকাল সাধারণই থাকবো যা আমার আমিত্বের প্রকাশ। আমি সব হারাতে প্রস্তুত; কিন্তু আমার...