আমারো আছে বুকের মধ্যে এক্ষুনি চাই ধ্বনি,
যখনই আমি তোমাকে ভাবি, তক্ষুনি তা শুনি ।
যখনই চাই সহজলভ্য নারীর কাছে যেতে,
একখানি মুখ ঝলসে ওঠে, তোমাকে চাই পেতে।
সময় বসে ভেংচি কাটে,--এক্ষুনি নয় সব,
আমিও বুঝি, তোমাকে পাওয়া একটু অসম্ভব ।
-------------------------------------------------------------------------------------
মনে আছে ?একদিন তুমি বৃষ্টি দিয়েছিলে আমায় ।
এই দেখো ,বুকের মাঠে আজ ফলেছে প্রেমের অগণন ফসল ।
মনে আছে ?একদিন তুমি ছায়া দিয়েছিলে আমায় ।
এই দেখো ,অবিরাম হৃদয় তোমারই নাম করে যায় জপ ।
মনে আছে ?একদিন কত শব্দ রেখেছো প্রকৃতির পৃষ্ঠায় ।
এই দেখো ,মনের মেশিনে স্নেহের ফোঁড়ে তারই ঝলমল কবিতা এই ।
------------------------------------------------------------------------------------
একটা বৃত্ত দিবে, সাথে কিছু রুপালী রং,
হলুদ হলেও চলবে, আমি একটা চাদ বানিয়ে নিব।
নইলে একটা সরলরেখা সাথে কিছু নীল রং,
আমি একটা সমুদ্র বানাবো।
তোমার পথের একটা ধুলা দিও সাথে কিছু বাদামি রং,
আমি মরুভূমি বানিয়ে নিব।
আর একটা হাসি সাথে কিছু মিষ্টি শব্দ, স্বর্গ বানিয়ে নিব।
কিছু অর্থহীন শব্দ দিও সাথে কিছু ছন্দ,
আমি গান বানিয়ে নিব।
আর যদি একটু উষঞ্চতা দাও, সাথে একটু অনুভূতি,
নতুন একটা জীবন বানিয়ে নিব ।।
পেয়ে গেলাম আমার পৃথিবী
কিন্তু পৃথিবী তো হল না ,
চেয়ে নেয়া মাটিতে নাকি পৃথিবী হয় না.........।।
শুধু মরিচিকা হয়।
কিন্তু মরিচিকার সাথে আর্তনাদ ও শুনতে পেলাম,
কিন্তু এ আর্তনাদ যে আমার না, তোমার - পৃথিবী না দিতে পারার।
তোমার আর্তনাদ সহ্য করার ক্ষমতা আমাকে দেইনি প্রভু।
তাই সব কিছু কে স্বপ্ন বানালাম,
ভোরের ডাকে চোখ মেলালাম,
এটাই আমার পৃথিবী।
সবকিছু না পেয়েও খুশি, কারন এখানে তোমার আর্তনাদ নেই ।।
------------------------------------------------------------------------------------------
অনেক দিন দেখা হবে না
হয়ত কয়েক বছর বা যুগ।
তারপর হঠাত একদিন দেখা হবে।
তখন কি আবেগের নদীটি শুকিয়ে যাবে,
নাকি উতলা হবে!
জড়িয়ে ধরবে নাকি-
অদৃশ্য দেয়ালের ওপারে নির্বাক দাড়িয়ে থাকবে!
মোটা চশমার ফাঁক গলে এক বিন্দু জল গড়াবে,
নাকি একরাশ অভিমান।
সম্মুখে সাঁই সাঁই করে ছুটছে নগর,
তার হাতে সময় নেই।
শুধু কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়াবে আমাদের সময়।
আবার হইতো মিশে যাব যন্ত্রের সাথে, দুজন দুই স্রোতে
---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতা মানে তোমার অসম্ভব মায়াবী চোখ,
অমল মসৃণ গাল, সূচের মতো নাক, চিবুক ।
কবিতা মানে তোমার মুখের স্নিগ্ধ-মধুর হাসি,
উত্সুক ওষ্ঠদ্বয়, আমাদের ভালোবাসাবাসি ।
---------------------------------------------------------------------------------------------
হয়তো সহজ কাছে আসা তাই কাছে আসি,
হয়তো সহজ ভালোবাসা তাই ভালোবাসি ।
যখন সহজে কিছু পাই, ভাবি,
হয়তো সহজ ছিল পাওয়া,
যখন হারাই ভাবি,--হায়,
এমন সহজে চলে যাওয়া শিখেছে মানুষ ।
------------------------------------------------------------------------------------
তুমি কি আমার গানের সুরের
পূবালী বাতাস হবে,
তুমি কি আমার মনের বনের
বাঁশীটি হইয়া রবে!
রাঙা অধরের রামধনুটিরে,
ছড়াবে কি তুমি মোর মেঘ-নীড়ে,
আমি কি তোমার কবি হব রাণী,
তুমি কি কবিতা হবে;
তুমি কি আমার মনের বনের
বাঁশীটি হইয়া রবে!
তুমি কি আমার মালার ফুলের
ফিরিবে গন্ধ বয়ে,
হাসিবে কি তুমি মোর কপালের
চন্দন ফোঁটা হয়ে!
তুমি কি আমার নীলাকাশ পরে,
ফুটাবে কুসুম সারারাত ভরে,
সাঁঝ-সকালের রাঙা মেঘ ধরে
অঙ্গে জড়ায়ে লবে;
তুমি কি আমার মনের বনের
বাঁশীটি হইয়া রবে!
-------------------------------------------------------------------------------------------
:এতো দেরী করলে কেন? সেই কখন
থেকে অপেক্ষা করছি।
– কি করবো বলুন ম্যাডাম? টিউশনি শেষ
করে বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। আমার জন্যে তো আর
গেইটের বাইরে মার্সিডিজ
দাঁড়িয়ে থাকে না যে ড্রাইভারের কুর্নিশ নিতে নিতে হুট
করে ঢুকে পড়বো। তাই ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, কাদা-জল
ভেঙ্গে, গরীবের গাড়ি মানে দু’পায়ের উপর ভরসা করেই
আসতে হয় আপনারআমন্ত্রণ রক্ষা করতে। তবে আজ
রিক্সায়করে এসেছি নইলে একেবারে কাকভেজা হয়ে যেতাম।
রিক্সা খুঁজে পেতেই যা দেরী হলো।
: ইস্ বেশ ভিজে গেছো দেখছি। কাছে এসো তো, রুমাল
দিয়ে মুছে দিই।
– ওহো, আমি তো ভেবেছিলাম তোমার শাড়ির আঁচল
দিয়ে মুছিয়ে দেবে। ঠিক আছে, রুমালই সই।
: না মিস্টার, ওটা ভবিষ্যতের জন্য জমা থাকুক। যখন
তোমার বউ হবো তখন ইচ্ছেটা পূরণ হবে।
– আচ্ছা। আর যদি তা না হও,
তবে আমি বুড়ো বয়েসে পান চিবোতে চিবোতে কোন
এক বাদলঘন দিনে বসে বসে রোমন্থন করবো আজকের
এই রুমালি ভালোবাসাময় সময়টাকে।নাতিপুতিকে তখন
প্রথম প্রেমিকা আর এইরুমালটার গল্প শোনাবো।
: প্লিজ, এভাবে বলো না। কেন
আমি তোমাকেপাবো না? তুমি কি আমাকে চাও না?
আমাকেভালোবাসো না?
– উত্তরটা আসলে একটু কঠিন। তোমাকে চাই আবার
চাই না। ভালোবাসি আবার বাসি না।
: হেয়াঁলি রাখো। আমি স্পষ্ট জানতে চাই।
– তবে শোন। আমার প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামের
নির্মম বাস্তবতা তোমার জানা নেই। সেই
জীবনে তুমি কখনো অভ্যস্ত হতে পারবেও না।
তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?
: হ্যাঁ, করো।
– একটু আগে একটা টং-এর দোকানের
ছাউনিতে গা বাচিয়ে রিক্সা খুঁজছিলাম।খুব শীত শীত
লাগছিলো, তখন চা খেয়েছিলাম ভাঙ্গা কাপে।
আধধোয়া সে কাপে লেগেছিলো অনেক মেহনতি মানুষের
ঠোঁটের ছোঁয়া, লেগেছিলো থুতুও যা এখনোআমার
ঠোঁটে লেগে আছে। তুমি কি পারবে সেই ঠোঁটে চুমু
খেতে?
----------------------------------------------------------------------------------
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত
___তসলিমা নাসরিন
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত,
তবু এখনো কেমন যেন হৃদয় টাটায়-
প্রতারক পুরুষেরা এখনো আঙুল ছুঁলে পাথর শরীর
বয়ে ঝরনার জল ঝরে।
এখনো কেমন যেন কল কল শব্দ শুনি নির্জন
বৈশাখে, মাঘ-চৈত্রে-
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত,
তবু বিশ্বাসের রোদে পুড়ে নিজেকে অঙ্গার করি।
প্রতারক পুরুষেরা একবার ডাকলেই ভুলে যাই
পেছনের সজল ভৈরবী,
ভুলে যাই মেঘলা আকাশ, না-
ফুরানো দীর্ঘ রাত।
একবার ডাকলেই
সব ভুলে পা বাড়াই নতুন ভুলের দিকে,
একবার ভালোবাসলেই
সব ভুলে কেঁদে উঠি অমল বালিকা।
ভুল প্রেমে তিরিশ বছর গেল
সহস্র বছর যাবে আরো,
তবু বোধ হবে না নির্বোধ বালিকার।
----------------------------------------------------------------------------------------
কতদিন ধরে লিখা হয় না কবিতা
লিখতে পারলেই মনে পরে যায়
মন পাষাণী তোমার কথা।
ক্ষোভে দু:খে দম বন্ধ হয়ে আসে,
হাত করে নিশপিশ।
সময়রে স্রোতে শান্ত হয় মন
মনে পড়ে যায় তোমাকে
কেমন আছ মন পাষাণী ?
আমি কি তোমাকে
অভিশাপ দিতে পারি ?
সব সময তোমার মাথার উপর
শান্তির বর্ষণ ঝরে পড়ুক
এটাই হউক আমার প্রত্যাশা ।।
-------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এখন অভ্যস্ত আমার কষ্ট গুলোর সাথে ,
কখনো হাসি আমি ,
কখনো কাঁদি ।
স্বপ্ন অনুরূপ যা ছিল বদলে গেছে
মায়াবিনী , মহীয়সী সে মানবী
আজ গুছিয়ে নিয়েছে নিজেকে ।
আত্ম তৃপ্তির ছোঁয়া আছে আজ ।
শুধু আমিই পরে আছি সেই আমি তে ।
আমি তো বর্ষণ নই
আমি তো ঝরে যেতে পারি না
ছিটকে যাওয়া মেঘের মত গোলার্ধের
এ প্রান্তে নয় ও প্রান্তে ।
আমিও তো মানুষ ,
ভীষণ রকমের কিছু কষ্ট আমায় অভিনেতা করে তুলছে ।
একটু একটু করে কৃত্রিম ছোঁয়ায় আমি কে নিয়ে যায়
অচেনা অজানা এক নতুন আমি তে ,
পরিচিত আমার আমি যেন অপরিচিত একজন ।
আমি তো ঘাসের উপর জমে থাকা কোন শিশির নই ।
তপ্ত রোদে মলিন হয়ে মিলিয়ে যাওয়া ।
আমি তো পথ ভুলো শহরের পদ তলের অবহেলিত ধুলো নই ,
পা মাড়িয়ে যাবে , বুক চিরে কোন
মানবীর প্রত্যয় ।
-------------------------------------------------------------------------------
আমাকে ভালবাসতে হবে না,
ভালবাসি বলতে হবে না.
মাঝে মাঝে গভীর আবেগ
নিয়ে আমার ঠোঁট
দুটো ছুয়ে দিতে হবে না.
কিংবা আমার জন্য রাত
জাগা পাখিও
হতে হবে না.
অন্য সবার মত আমার
সাথে রুটিন মেনে দেখা
করতে হবে না. কিংবা
বিকেল বেলায় ফুচকাও
খেতে হবে না. এত
অসীম সংখ্যক ..না'এর ভিড়ে
শুধু মাত্র একটা কাজ
করতে হবে আমি যখন
প্রতিদিন এক বার ভালবাসি
বলব....তুমি প্রতিবার
একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে একটু
খানি আদর মাখা
গলায় বলবে ...পাগল.......
-------------------------------------------------------------------------------------
মানসী
........রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ
তুমি নারী!
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য
সঞ্চারি
আপন অন্তর হতে।
বসি কবিগণ
সোনার
উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।
সঁপিয়া তোমার 'পরে নূতন
মহিমা
অমর করেছে শিল্পী তোমার
প্রতিমা।
কত বর্ণ, কত গন্ধ, ভূষণ কত-
না -
সিন্ধু হতে মুক্তা আসে,
খনি হতে সোনা,
বসন্তের বন
হতে আসে পুষ্পভার,
চরণ রাঙাতে কীট দেয়
প্রাণ তার।
লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে,
দিয়ে আবরণ,
তোমারে দুর্লভ
করি করেছে গোপন।
পড়েছে তোমার
'পরে প্রদীপ্ত বাসনা -
অর্ধেক মানবী তুমি,
অর্ধেক কল্পনা।
---------------------------------------------------------------------------------------------------
ভেবেছিলাম প্রথম যেদিন
ফুটবে তুমি দেখব,
তোমার পুষ্প-বনের গাঁথা
মনের মতো লেখব।
তখন কালো কাজল মেঘ তো
ব্যস্ত ছিল ছুটতে,
ভেবেছিলাম আরো ক’দিন
যাবে তোমার ফুটতে।
সবে তা এই বর্ষা গেল
শরৎ এলো মাত্র,
এরই মধ্যে শুভ্র-কাশে
ভরলো তোমার গাত্র।
ক্ষেতের আলে, নদীর কূলে
পুকুরের ঐ পাড়টায়,
হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে
বাঁশবনের ঐ ধারটায়!
আকাশ থেকে মুখ নামিয়ে
মাটির দিকে নুয়ে,
দেখি ভোরের বাতাসে কাশ
দুলছে মাটি ছুঁয়ে।
কিন্তু কখন ফুটেছে তা
কেউ পারে না বলতে,
সবাই শুধু থমকে দাঁড়ায়
গাঁয়ের পথে চলতে।
পুচ্ছ তোলা পাখির মতো
কাশবনে এক কন্যে,
তুলছে কাশের ময়ূর-চূড়া
কালো খোঁপার জন্যে।
যেন শরত-রানী কাশের
বোরখাখানি খুলে,
কাশবনের ঐ আড়াল থেকে
নাচছে দুলে-দুলে।
প্রথম কবে ফুটেছে কাশ
সেই শুধু তা জানে,
তাই তো সে তা সবার আগে
খোঁপায় বেঁধে আনে।
ইচ্ছে করে ডেকে বলি:
‘ওগো কাশের মেয়ে,
আজকে আমার চোখ জুড়ালো
তোমার দেখা পেয়ে।
তোমার হাতে বন্দী আমার
ভালোবাসার কাশ,
তাই তো আমি এই শরতে
তোমার ক্রীতদাস।’
ভালোবাসার কাব্য শুনে
কাশ ঝরেছে যেই,
দেখি আমার শরত-রানী
কাশবনের আর নেই।
_________
----------------------------------------------------------------------------------------
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি ঠোঁট
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি চোখ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার কালো তিল
রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ভুরু
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার মরাল
গ্রীবা রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার পদযুগল
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার যুগল শীর্ষ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ক্ষীণ
কটি রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
এতো বেশি সুন্দরের
ভিড়ে কাউকে একাকী সুন্দর
বলার
ঝুঁকি আমি কীভাবে নেবো বলো
তোমার চাইতে আর
কে অধিক জানে
সুন্দরেরা বড়ো বেশি ঈর্ষাপ্রিয়
হয়….
--------------------------------------------------------------------------------------
তোমার যখন পাশে ছিলাম
আমায় ভালো লাগতো না,
একটু খানি ভালোবাসার
ইচ্ছে টুকু জাগতো না।
এখন দুরে সরে আছি;
চাইছো আমায় কাছাকাছি!
বলছি শোনো কানে কানে
শুনবো না আর মন্ত্রণা ,
একা থাকাই সুখের কারণ
দোকা মানেই যন্ত্রণা।
-----------------------------------------------------------------------------------
ভালবাসা মানে কি ? হাত
ধরে থাকা...?,
পাশাপাশি হাটা...?
বিরহ-
বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি ?
শেষ হয়ে যাওয়া কথার
পরেও মুখোমুখি বসে থাকা ?
দেখা না হওয়া ভালবাসা নয় ?
ঝগড়া, খুনসুটি ?
আহারে, ক্লাসের
বোকা বোকা ছেলেটি আমায়
ভালোবাসতো...ভাল
োবাসা নয় ?
মোটর বাইকের নির্দিষ্ট
শব্দ শুনলেই কান সজাগ...
ভালোবাসা নয় ?
রোজ
রাতে ছেলেটিকে বকে তার
মা, শুনতে খারাপ লাগে...
ভালোবাসা নয় ?
দেখা হল একদিন আর
দেখা হবে না,
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে চোখে চোখ ?
শুধু বিরহ বা মিলন
ভালোবাসা নয়,
ভালোবাসা মানে অন্য
অনেক কিছু
কিছু মিল কবিতার
সাথে আছে তার ।
--------------------------------------------------------------------------------------------
প্রত্যাবর্তনের পথে
কিছু কিছু ‘কস্টলি' অতীত
থেকে যায়।
কেউ ফেরে, কেউ কেউ
কখনো ফেরে না।
কেউ ফিরে এসে কিছু পায়,
মৌলিক প্রেমিক আর
কবি হলে অধিক হারায়।
তবু ফেরে, কেউ তো ফেরেই,
আর জীবনের পক্ষে দাঁড়ায়,
ভালোবাসা যাকে খায়
এইভাবে সবটুকু খায়।
প্রত্যাবর্তনের পথে
পিতার প্রস্থান থেকে,
থাকে প্রণয়ের প্রাথমিক
স্কুল,
মাতার মলিন স্মৃতি ফোটায়
ধ্রুপদী হুল,
যুদ্ধোত্তর মানুষের
মূল্যবোধ
পালটায় তুমুল,
নেতা ভুল,
বাগানে নষ্ট ফুল,
অকথিত কথার বকুল
বছর পাঁচেক বেশ
এ্যানাটমিক
ক্লাশ করে বুকে।
প্রত্যাবর্তনের পথে
ভেতরে ক্ষরণ থাকে লাল-
নীল
প্রতিনিয়তই,
তাহকে প্রেসক্লাব–কার্
ডরুম, রঙিন
জামার শোক,
থাকে সুখী স্টেডিয়াম,
উদ্গ্রীব
হয়ে থাকে অভিজাত
বিপনী বিতান,
বাথরুম, নগরীর নিয়ন্ত্রিত
আঁধারের
বার,
থাকে অসুস্থ সচ্ছলতা,
দীর্ঘ রজনী
থাকে কোমল কিশোর,
প্রত্যাবর্তনের
পথে দুঃসময়ে এইভাবে
মূলত বিদ্রোহ
করে বেহালার সুর।
তারপর ফেরে, তবু ফেরে,
কেউ
তো ফেরেই,
আর জীবনের পক্ষে দাঁড়ায়,
ভালোবাসা যাকে খায়
এইভাবে সবটুকু খায়।
----------------------------------------------------------------------------------------
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা; না!
না! কাম তৃপ্ত হবার জন্য
নয়, নয় তোমাকে চুম্বন
করতে।
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা; শুধু
দু'হাতে তোমায় একবার
জড়িয়ে ধরবো বলে..।
পথের
মধ্যে একটা ছোট্টমেয়ে হাতে বকুল
ফুলের
মালা নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো;
আমাকে বলেনি একটা মালা কিনতে,
আমি নিজেই
একটা মালা কিনেছি তোমার
জন্য; তোমার নোটন খোঁপায়
পরিয়ে দেবো ভেবে।
সদরঘাটে এক বৃদ্ধ আতর
নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো;
আমাকে বলেনি এক
শিশি কিনতে, কিন্তু
আমি এক শিশি বেলীফুলের
সুঘ্রাণ কিনেছি আমার
পরিশ্রান্ত
ঘামেভেজা জামার
গন্ধে যেন তুমি বিরক্ত
না হও।
লঞ্চের ডেকে বসে এক
কেজি আমড়া কিনেছি তোমার
খুব পছন্দ বলে; একটা সুন্দর
ফুটফুটে বাচ্চার
ছবিওয়ালা পোস্টার
কিনেছি তোমার
সিথানে টানিয়ে রাখার
জন্য।
এবার অফিসের বড়বাবু
বেতন দেয়নি বলে তোমার
জন্য বিশেষ কিছু
নিতে পারিনি....নেয়ার
মধ্যে এই যা...।
আমি জানি হে প্রিয়তমা!
চাওয়ার তোমার কিছু নেইও
বটে; কেবলি আমার
ভালোবাসা ছাড়া।
জানালার ধারে বসে শুধু
দূরের ঢেউ দেখছিলাম;
দেখছিলাম পাল
তোলা নৌকাগুলো;
ভাবছিলাম আমার হৃদয়
নৌকায় গুনটানা একমাত্র
মাঝিকে।
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা;
তোমার ঐ ঠোঁটের কোণে এক
চিলতে হাসি দেখার জন্য।
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা; শুধু
হাসাতে নয়...বিদায়বেলায়
আরো একবার কাঁদাতে।
---------------------------------------------------------------------------------------
অবশেষে হাত পাতলাম
পদ্যটুকুই দাবি...
গদ্য নাইবা চাইলাম
শব্দের জল ছবি।
গোলাপ তো আমি চাইনা-
সে যত্নলালিত
ঘেঁটু ফুলই করি বায়না
যে অবহেলিত।
আদরের ঐ কুসুমডালা
দেবীর তরে?
মানবীর খোঁপার মালা
হোক অনাদরে।
গদ্যের ঠাসবুননে
থাক ভালোবাসা,
কবিতার তাগিদ মনে
প্রতিবাদের ভাষা।
গল্পের রত্নরাজি
প্রেমের চাবি-
পদ্যের ফুলের সাজি
আমার দাবি।
--------------------------------------------------------------------------------------
স্নেহসবুজ দিন
তোমার কাছে ঋণ
বৃষ্টিভেজা ভোর
মুখ দেখেছি তোর
মুখের পাশে আলো
ও মেয়ে তুই ভালো
আলোর পাশে আকাশ
আমার দিকে তাকা--
তাকাই যদি চোখ
একটি দীঘি হোক
যে-দীঘি জ্যোৎস্নায়
হরিণ হয়ে যায়
হরিণদের কথা
জানুক নীরবতা--
নীরব কোথায় থাকে
জলের বাঁকে বাঁকে
জলের দোষ? --- নাতো!
হাওয়ায় হাত পাতো!
হাওয়ার খেলা? সেকি!
মাটির থেকে দেখি!
মাটিরই গুণ? -- হবে!
কাছে আসুক তবে!
কাছে কোথায়? -- দূর!
নদী সমুদ্দুর
সমুদ্র তো নোনা
ছুঁয়েও দেখবো না
ছুঁতে পারিস নদী--
শুকিয়ে যায় যদি?
শুকিয়ে গেলে বালি
বালিতে জল ঢালি
সেই জলের ধারা
ভাসিয়ে নেবে পাড়া
পাড়ার পরে গ্রাম
বেড়াতে গেছিলাম
গ্রামের কাছে কাছে
নদীই শুইয়ে আছে
নদীর নিচে সোনা
ঝিকোয় বালুকণা
সোনা খুঁজতে এসে
ডুবে মরবি শেষে
বেশ, ডুবিয়ে দিক
ভেসে উঠবো ঠিক
ভেসে কোথায় যাবো?
নতুন ডানা পাবো
নামটি দেবো তার
সোনার ধান, আর
বলবোঃ শোন, এই
কষ্ট দিতে নেই
আছে নতুন হাওয়া
তোমার কাছে যাওয়া
আরো সহজ হবে
কত সহজ হবে
ভালোবাসবে তবে?বলো
কবে ভালোবাসবে?
------------------------------------------------------------------------------------
সহজে যে প্রেম আসে,
সহজে ফিরে যায়,
শীতের মত হাড়
কাঁপিয়ে প্রেম আসুক,
প্রেম আসুক
বুকে সর্দি বসিয়ে।
না থাকুক পুরো বছর জুড়ে,
যতদিন
থাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাক,
শাল সোয়েটার
মাফলারে জড়িয়ে থাক,
লিপজেল
ভ্যাসলিনে মাখামাখি করে থাক,
কাঁপুনি ধরা হাতে গরম
চা ফেলে দে শাদা শার্টে,
দাগ বসে যাক,দাগ
হয়ে থাক।
প্রেম আসুক,
শীতের মতো ছুঁয়ে যাক,
বদ্ধ মনের ঘরে হু হু বাতাস
ঢুকিয়ে
এসে চলে গেলে যাবে,
আবার ফিরে আসবে।
বিংশ শতাব্দীর শীত
তোমাকে নিয়ে গেলে,
একবিংশ শতাব্দীর শীত
বিষাদ বয়ে আনে,
শাল চাদরে বিষাদ,
লিপজেলে বিষাদ,
তেল
চিটচিটে লোশনে পিচ্ছিল
স্মৃতি
পড়ে থাক টঙে!
সেই পুরনো দাগ শুধু থাক
আগের মতো
আমার শাদা শার্টে।
অতিথি পাখির শাদা মনে।
—
----------------------------------------------------------------------------------------------------
শীত খুব তোমার পছন্দ, কিন্তু আমি
শীত-গ্রীষ্ম-বসন্তের চেয়ে তোমাকেই
বেশি ভালোবাসি;
যে-কোনো ঋতু ও মাস,
বৃষ্টি কিংবা বরফের চেয়ে
মনোরম তোমার সান্নিধ্য, আমি তাই
কার্ডিগান নয় বুকের
উষ্ণতা দিয়ে ঢেকে দেই
তোমার শরীর-
আমি হই তোমার শীতের যোগ্য গরম
পোশাক;
কোল্ড ক্রিম আর এই তুচ্ছ প্রসাধনী রেকে
আমি তোমাকে করতে চাই আরো হই
শীত, হই শীতের উদ্ভিদ;
আমি হই সবচেয়ে বেশি তোমার শীতের
উষ্ণ কাঁথা,
হই সকালের উপাদেয রোদ, সারো শুভ্র
সানবাথ।
আমিজানি নগ্নতাই শীতের স্বভাব,
আমি তাই
তোমার নগ্ন গায়ে দিব্য শতিের
কামিজ;
তুমি অবহেলা ভরে যাও আমি
শীরেত শিশির হই ঘাসে-
দুপায়ে মাড়িয়ে যাও, তবু তোমার
পায়ের রাঙা আলতা
হই আমি
এই শীতে তোমার নিবিড়
উষ্ণতা ছাড়া নিউ ইয়ার্স গিফট
কী আর চাওয়ার বলো আছে!
-----------------------------------------------------------------------------------------
বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ
তুলে সেতু
আবার আলাদা দৃষ্টি, টেবিলে রয়েছে শুয়ে
পুরোনো পত্রিকা
প্যান্টের নিচে চটি, ওপাশে শাড়ির পাড়ে
দুটি পা-ই ঢাকা
এপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-
কামানো দাড়ি
ওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু
মসৃণ নগ্নতা
বাইরে পায়ের শব্দ, দূরে কাছে কারা যায়
কারা ফিরে আসে
বাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ
ভ্রমণে।
আপাতত প্রকৃতির অনুকারী ওরা দুই মানুষ-
মানুষী
দু‘খানি চেয়ারে স্তব্ধ, একজন
জ্বলে সিগারেট
অন্যজন ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু মুছেও মোছে না
আঙুলে চিকচিকে আংটি, চুলের কিনারে একটু
ঘুম
ফের চোখ তুলে কিছু স্তব্ধতার বিনিময়,
সময় ভিখারী হয়ে ঘোরে
অথচ সময়ই জানে, কথা আছে, ঢের কথা আছে।
---------------------------------------------------------------------------------------------
যদি আপনি দুইজন মানুষকে
একই সাথে ভালবাসেন,
নির্বাচন করুন দ্বিতীয় জনকে।
কারণ
যদি আপনি সত্যিই প্রথম
জনকে ভালোবাসতেন
তাহলে কখনই দ্বিতীয় জনের
প্রেমে পড়তেন না।
____ জনি ডেপ
------------------------------------------------------------------------------------
আমার শুধু ইচ্ছে করে
সঙ্গে বসে থাকি ।
হঠাৎ করে তোমার গায়ে
গোপনে হাত রাখি ।
রাখতে রাখতে সাহস হবে
সাহস থেকে প্রেম,
বুঝবে আমি শিকড়গুলো
কিভাবে ছড়ালেম ।
আমার শুধু ইচ্ছে করে
সঙ্গে ভেসে যেতে,
ভাসতে ভাসতে সবটা নদী
বুকের কাছে পেতে ।
এমনি করেই সাহস হবে
সাহস থেকে প্রেম,
তখন তুমি বুঝবে না যে
কিভাবে জড়ালেম ।
--------------------------------------------------------------------------------
আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে
গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে
বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আর দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক
আমার গ্রহ জুড়ে বিশাল মরুভূমি
সবুজ পাতা নেই সোনালি লতা নেই শিশির
কণা নেই
ঘাসের শিখা নেই জলের রেখা নেই
আমার মরুভূর গোপন কোনো কোণে একটু নীল হয়ে
বাতাসে কেঁপে কেঁপে একটি শীষ আজ উঠুক
আমার গাছে গাছে আজ একটি কুঁড়ি নেই
একটি পাতা নেই
শুকনো ডালে ডালে বায়ুরঘষা লেগে
আগুন জ্ব’লে ওঠে তীব্র লেলিহান
বাকল ছিঁড়েফেড়ে দুপুর ভেঙেচুরে আকাশ লাল ক’রে
আমার গাছে আজ একটা ছোট ফুল ফুটুক
আমার এ-আকাশ ছড়িয়ে আছে ওই
পাতটিনের মতো ধাতুর চোখ জ্বলে প্রখর
জ্বালাময়
সে-তাপে গ’লে পড়ে আমার দশদিক
জল ও বায়ুহীন আমার আকাশের অদেখা দূর কোণে
বৃষ্টিসকাতর একটু মেঘ আজ জমুক
আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে
গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে
বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আজ দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক। —
----------------------------------------------------------------------------------------
কী আশ্চর্য
কখনই তুমি তো কাঁদো না
পুঁটুলি পাকিয়ে রেখে গেছ
এ-বাড়ির আনাচে-কানাচে
যে মনোবেদনা
পুড়ে যাচ্ছি আমি তার আঁচে
এ একরকম ভালো
শুনতে পাই না কানে
কে কী বলল, কে কেন চাইছে বেশি আরও
থাকতে হয় না সাতে পাঁচে কারও
গলিতে তোমার ছোট্ট এক চিলতে বাগানে
লঙ্কাগাছে ফুল ধরেছে সবে
তুমি আসছ কবে
ছেঁড়া সেলাইয়ের ছুঁচে,
ভাঙা জোড়া দেয়ার আঠায়
তুমি আছো
ছুঁলেই টের পাই
লাঠি হাতে উঠে
এ-ঘর ও-ঘর করি খোঁড়াতে খোঁড়াতে
কখনও সাক্ষাতে
বলি নি লজ্জার মাথা খেয়ে মুখ ফুটে
তবু খুব জানতে ইচ্ছা করে
কখনও না-কেঁদে
সমস্ত বর্ষার জল কেন তুমি হাসিমুখে
তুলে নাও দু-চোখের কোলে—
একদিন বাঁধ ভেঙে দিয়ে
আমাকে ভাসিয়ে দেবে ব’লে ?
-----------------------------------------------------------------------------------------
পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার বেড়াজালে
সম্পর্কগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে
খুব কাছের সম্পর্কগুলো আধুনিকতার
প্রয়াসে দূরে সরে যাচ্ছে
ভালবাসার আর ভাললাগার সম্পর্ক কি
ভুলতে বসেছে
স্রধা আর আদরের সম্পর্ক কি
তা নেয়াও বিভ্রান্তি
কোন সম্পর্ক আগলাতে গিয়ে
আগলে রাখা সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
প্রায় ভুলতেই বসেছে বিধাতার সাথে সম্পর্ক..........!!
--------------------------------------------------------------------------------------
কালো আধাঁর রাত,
নীলাভ হলুদ তারা,
আমি আত্নহারা,
তোমার আসার পথে,
উদাস হাওয়ার সাথে,
দরজা দিলাম খুলে,
মান অভিমান ভুলে,
আসবে তুমি কখন,
রাত ফুরালে তখন-
হবেনা না আর বলা;
অল্প সময় বাকি,
তবে দিলেই আমায় ফাঁকি!
করলে ছলা কলা!
----------------------------------------------------------------------------------------
কথোপকথন ৬
– পূর্ণেন্দু পত্রী
কালকে এলে না, আজ চলে গেল দিন
এখন মেঘলা, বৃষ্টি অনতি দূরে !
ভয়াল বৃষ্টি, কলকাতা ডুবে যাবে ।
এখনো কি তুমি খুঁজছো নেলপলিশ ?
শাড়ি পরা ছিল ? তাহলে এলে না কেন ?
জুতো ছেঁড়া ছিল ? জুতো ছেঁড়া ছিল নাকো ?
কাজল ছিল না ? কি হবে কাজল পরে
তোমার চোখের হরিণকে আমি চিনি ।
কালকে এলে না, আজ চলে গেল দিন
এখন গোধূলি, এখুনি বোরখা পরে
কলকাতা ডুবে যাবে গাঢ়তর হিমে ।
এখনো কি তুমি খুঁজছো সেফটিপিন ?
--------------------------------------------------------------------------------------
কাছে যতটুকু পেরেছি আসতে,
জেনো দূরে যেতে আমি তারো চেয়ে বেশী পারি।
ভালোবাসা আমি যতটা নিয়েছি লুফে
তারো চেয়ে পারি গোগ্রাসে নিতে ভালোবাসা হীনতাও।
জন্মের দায়, প্রতিভার পাপ নিয়ে
নিত্য নিয়ত পাথর সরিয়ে হাঁটি।
অতল নিষেধে ডুবতে ডুবতে ভাসি,
আমার কে আছে একা আমি ছাড়া আর?
-------------------------------------------------------------------------------------
সূর্য্য ডুবলেই পাল্টে যাও তুমি।
পাতাখসা দিনে সোনাঝুরি লতাটির মত
আরও সুন্দর হয়ে ওঠো ;
আঙ্গুলের ডগা ছোঁয় গোলাপী সোহাগ।
মেঝেভর্তি ভাঙ্গা ভাঙ্গা চাঁদের আলোয়
আল্ট্রা মড ঠোটে দাপাদাপি করে
মানুষ মারার ইচ্ছে !
ওগো নিশীরাতের চাঁদ,
কেন বোঝনা..
বালিশের নীচে রাখা জমানো ব্যথায়
সেই চেনা আর নেই তুমি !
আগে একটু আগুন খুঁজি সেঁকতে হৃদয়
কাদা জল মাটি, বিকেলের সুখ ;
তারপর ডাকবো তোমায়।
ভিজে চুল শোকানোর আগেই
এনে দেব নীলাম্বরী
পাশাপাশি নিঃশ্বাসে পেতে দেব পুরুষালী বুক,
যত খুশী নক্সা এঁকো সূঁচে।
---------------------------------------------------------------------------------------
মনে নেই,
আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম, অথবা
তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম,
এখন
আর কিছু মনে নেই, তবু দুঃখ হয়
এখন, যখন একেকদিন খুব বৃষ্টি নেমে আসে
এখন, যখন একেকদিন খুব শীতের বাতাস
শুধু পাতা উড়িয়ে উড়িয়ে
আমার চারদিকে বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাস ঘুরে ঘুরে;
এমন কি যখন সেই পুরনো কালের সাদা রোদ
হঠাত্ ভোরবেলা ঘর ভাসিয়ে ছাপিয়ে,
'কি ব্যাপার এবার কোথাও যাবে না?'
এখন আর কোনোখানে যাওয়া নেই,
এখন কেবল ঠান্ডা বাতাস, এখন বৃষ্টি, জল
আমার চারপাশ ঘিরে পাতা ওড়ে আর জল পড়ে ।
এখন তোমার জন্য দুঃখ হয়,
এখন আমার জন্য দুঃখ হয়,
আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম অথবা
তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, এখন দুঃখ হয় ।
------------------------------------------------------------------------------
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি ঠোঁট
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি চোখ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার কালো তিল
রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ভুরু
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার মরাল
গ্রীবা রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার পদযুগল
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার যুগল শীর্ষ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ক্ষীণ
কটি রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
এতো বেশি সুন্দরের
ভিড়ে কাউকে একাকী সুন্দর
বলার
ঝুঁকি আমি কীভাবে নেবো বলো
তোমার চাইতে আর
কে অধিক জানে
সুন্দরেরা বড়ো বেশি ঈর্ষাপ্রিয়
হয়….
--------------------------------------------------------------------------------------
কোনদিন আচমকা একদিন
''ভালোবাসা'' এসে যদি হুট করে বলে বসে,
চলো যেদিকে দু'চোখ যায় চলে যাই;
যাবে..............?
----------------------------------------------------------------------------------
মিস করছি ভালোবাসা
মিস করছি তোকে,
বিনিদ্র রাত জেগে আছি
কষ্ট নিয়ে বুকে
------------------------------------------------------------
প্রেম যখন আসে অগুনন নক্ষত্র নিয়ে আসে।
যখন চলে যায় দুঃখ টুকুও আর নিজের থাকে না।
থাকে শুধু তীব্র শুন্যতা-
অন্ধকারের থেকেও গাঢ়,
মৃত্যুর থেকেও নীল...
--------------------------------------------------------------
তবু আমরা অপেক্ষা করি,
হলদে হওয়া বিকেলে
কিংবা জুড়িয়ে যাওয়া চায়ের কাপে।
আর তারা আমাদের প্রত্যাশার পারদে উত্তাপ বাড়াতে থাকে,
তবু কেন জানি আমরা অপেক্ষা করতে ভালবাসি।
অপেক্ষার প্রহর গুণে ঘুমিয়ে পরি
কিংবা ফিকে হওয়া বিকেলে জেগে উঠি।
তারা তো জানেই না,
তবুও আমরা অপেক্ষা করি
এক বিকেলের অথবা হলুদ খামের।
----------------------------------------------------------------
তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়
তবু তোমার টুকরো ছায়ায়
ডুবে আছে কত মিথ্যে আগুন অন্ধকারময়
কত স্মৃতি কত সময়
তোমার জন্য পৃথিবীতে আজকে ছুটির রোদ
নিজের মাঝে তোমায় খোঁজা
আকাশ নীলে তাকিয়ে থাকা
তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়
মেঘাচ্ছন্ন ব্যস্ত ঢাকায়
মানুষগুলো শূন্য চোখে দুঃখ দ্বিধায়
আকাশ পানে তাকায়
তোমার জন্য পৃথিবীতে থেমে যায় সময়
আমার দেহে রাত্রি নামায়
মিথ্যে আগুন অন্ধকারময়
ভীড়ের মাঝে আবার ভীড়ে
আমার শরীর মিশে কোলাহলে
দুঃখ ভুলে মিশে যাই মুখোশ স্রোতে
অনেক দুরের একলা পথে
ক্লান্ত আমি ফিরি তোমার কাছে
মুখোশ খুলে বসে রই জানলা ধরে
আমার গানের শব্দ সুরের অন্তরালে
তোমায় আঁকি কান্না চেপে
মহাকালের ক্লান্ত পথে
তোমার জন্য বৃষ্টি ঝরে আমার লেখায়
আলোর মতন মিথ্যে ছায়ায়
পাথর হয়ে ঘুরে মরে আমার হৃদয়
কত স্মৃতি কত মিথ্যে ভয়
তোমার জন্য গলার ভেতর
আটকে থাকে ক্রোধ
আমার চোখে স্মৃতির ঘোলা জল
নির্জনতায় তোমার কোলাহল
তোমার না থাকা অস্তিত্ব
রয়ে গেছে আমার নিঃশ্বাসে
ফেলে আসা এই পথে দুজনেই একসাথে
আমার অবশ
অনুভূতির দেয়াল জুড়ে কত সময়
হেটে এসে আমরা দু’জন
হারিয়েছি পথ কোথায় কখন
আমার দেহে খুঁজে ফিরি
তোমার অনুভূতি
তোমার চোখের দুরের আকাশ
মিশে থাকে রূপক হয়ে
তোমার জন্য
বিষন্ন এক নিথর হৃদয় আমার ভেতর
দাঁড়ায় সরব একা
তোমার পৃথিবী স্বর্গের মতন
চির অদেখা
তোমার জন্য পথ হারিয়ে অজানায়
তবু তোমার লেখায় কথায়
ফেরে ক্লান্ত আমার অলস সময়
কত স্মৃতি অন্ধকারময়
------------------------------------------------------------
পুরনো পকেট থেকে উঠে এল কবেকার শুকনো গোলাপ |
কবেকার ? কার দেওয়া ? কোন্ মাসে ? বসন্তে না শীতে ?
গোলাপের মৃতদেহে তার পাঠযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন নেই |
স্মৃতি কি আমারও আছে ? স্মৃতি কি গুছিয়ে রাখা আছে
বইয়ের তাকের মত, লং প্লেইং রেকর্ড-ক্যাসেটে
যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত থাকে গান, আলাপচারীতা ?
আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল, দমকা হাওয়া যেন
লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি, ওলোটপালটে মহাখুশি
দুঃখেরও দুপুরে গায়, গাইতে পারে, আনন্দ-ভৈরবী |
আকাঙ্খার ডানাগুলি মিশে গেছে আকাশের অভ্রে ও আবীরে
আগুনের দিনগুলি মিশে গেছে সদ্যজাত ঘাসের সবুজে
প্রিয়তম মুখগুলি মিশে গেছে সমুদ্রের ভিতরের নীলে |
স্মৃতি বড় উচ্ছৃঙ্খল, দুহাজার বছরেও সব মনে রাখে
ব্যাধের মতন জানে অরণ্যের আদ্যোপান্ত মূর্তি ও মর্মর |
অথচ কাল বা পরশু কে ডেকে গোলাপ দিল কিছুতে বলবে না |
----------------------------------------------------------------------------
আমি কত বোকা তাইনা?
একটু আদুরে স্বরে কথা বললেই ভেবে নিই তোমাকে নিজের সম্পত্তি।
কল্পনায় তোমার সাথে গল্প করে হেসে কুটি কুটি হই!
হাজারটা আবদার করে ফেলি নির্দ্বিধায়।
আমি কত বোকা তাইনা?
চলতি পথে অন্যমনস্ক তোমায় দেখে ভেবে নেই
আমাকেই বুঝি ভাবছো তুমি।
ঐ
উসখুশকো বিবর্ণ চুলের কারণ
যে মাস খরচের টাকা ফুরিয়েছে, বন্ধুর সুন্দরী প্রেমিকা পাওয়া কিংবা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি হতে পারে এটা মাথায়ই আসেনা।
এটাও ভাবতে পারিনা যে আমি শুধুই তোমার কাছে অবসরের খেলনা,
ভালোবাসার পাত্রী হয়ে উঠতে পারিনি আজো!
-----------------------------------------------------------------------------
তোমায় দেখার পর বুঝেছি
খুঁজছিলাম তোমাকেই
তোমার মাঝে সকালের মত কিছু আছে
যার আশায় বিনিদ্র কাটিয়েছি সারা রাত,
তুমি এসে বুনে দাও স্বপ্নজাল আমার!
তোমার মাঝে মেঘের মত কিছু আছে
যার জন্য আমি অতীব পিপাসিত,
এসো, আমার পিয়াস মিটিয়ে দাও।
--------------------------------------------------------------------
কবিতা আমার ওষ্ঠ কামড়ে আদর করে
ঘুম থেকে তুলে ডেকে নিয়ে যায়
ছাদের ঘরে
কবিতা আমার জামার বোতাম ছিঁড়েছে অনেক
হঠাৎ জুতোর পেরেক তোলে!
কবিতাকে আমি ভুলে থাকি যদি
অমনি সে রেগে হঠাৎ আমায়
ডবল ডেকার বাসের সামনে ঠেলে ফেলে দেয়
আমার অসুখে শিয়রের কাছে জেগে বসে থাকে
আমার অসুখ কেড়ে নেওয়া তার প্রিয় খুনসুটি!
আমি তাকে যদি
আয়নার মতো
ভেঙ্গে দিতে যাই
সে দেখায় তার নগ্ন শরীর
সে শরীর ছুঁয়ে শান্তি হয় না, বুক জ্বলে যায়
বুক জ্বলে যায়, বুক জ্বলে যায়…..
----------------------------------------------------------------------------
শীত খুব তোমার পছন্দ, কিন্তু আমি
শীত-গ্রীষ্ম-বসন্তের চেয়ে তোমাকেই
বেশি ভালোবাসি;
যে-কোনো ঋতু ও মাস,
বৃষ্টি কিংবা বরফের চেয়ে
মনোরম তোমার সান্নিধ্য, আমি তাই
কার্ডিগান নয় বুকের
উষ্ণতা দিয়ে ঢেকে দেই
তোমার শরীর-
আমি হই তোমার শীতের যোগ্য গরম
পোশাক;
কোল্ড ক্রিম আর এই তুচ্ছ প্রসাধনী রেকে
আমি তোমাকে করতে চাই আরো হই
শীত, হই শীতের উদ্ভিদ;
আমি হই সবচেয়ে বেশি তোমার শীতের
উষ্ণ কাঁথা,
হই সকালের উপাদেয রোদ, সারো শুভ্র
সানবাথ।
আমিজানি নগ্নতাই শীতের স্বভাব,
আমি তাই
তোমার নগ্ন গায়ে দিব্য শতিের
কামিজ;
তুমি অবহেলা ভরে যাও আমি
শীরেত শিশির হই ঘাসে-
দুপায়ে মাড়িয়ে যাও, তবু তোমার
পায়ের রাঙা আলতা
হই আমি
এই শীতে তোমার নিবিড়
উষ্ণতা ছাড়া নিউ ইয়ার্স গিফট
কী আর চাওয়ার বলো আছে!
--------------------------------------------------------------------------
"ভালোবাসা একটা পাখি। যখন খাঁচায় থাকে তখন মানুষ তাকে মুক্ত করে দিতে চায়। আর যখন খোলা আকাশে তাকে ডানা ঝাপটাতে দেখে তখন খাঁচায় বন্দী করতে চায়।"
-------------------------------------------------------------------
মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়
___জয় গোস্বামী
বেণীমাধব, বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাব
বেণীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাব?
বেণীমাধব মোহন বাঁশি তমাল তরু মূলে
বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী স্কুলে।
ডেস্কে বসে অংক করি, ছোট্ট ক্লাস ঘর
বাইরে দিদিমণির পাশে দিদিমণির বর।
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন শাড়ি,
আলাপ হলো, বেণীমাধব, সুলেখাদের বাড়ি।
বেণীমাধব, বেণীমাধব, পড়াশুনায় ভাল
শহর থেকে বেড়াতে এলে, আমার রঙ কালো।
তোমায় দেখে পালিয়ে গেছি একদৌড়ে ঘরে
বেণীমাধব, আমার বাবা দোকানে কাজ করে।
কু্ন্জে তবু গু্ন্জে অলি ফুটেছে মন্জরী
সন্ধ্যা বেলা পড়তে বসে অঙ্কে ভুল করি।
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন ষোলো
ব্রীজের ধারে, বেণীমাধব, লুকিয়ে দেখা হলো।
বেণীমাধব, বেণীমাধব, এতোদিনের পরে
সেসব কথা এখনো কি আর তোমার মনে পড়ে?
সেসব কথা বলেছ কি তোমার প্রেমিকাকে?
আমি কেবল এ একটিবার তোমার পাশে তাকে,
দেখেছিলাম আলোর নীচে, অপূ্র্ব সে আলো।
স্বীকার করি দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো।
জুড়িয়ে দিল চোখ আমার, পুড়িয়ে দিল চোখ
বাড়ীতে এসে বলেছিলাম - ওদের ভালো হোক।
রাতে এখন ঘুমোতে যাই - একতলার ঘরে
মেঝের পরে বিছানা পাতা, জো্ত্স্না এসে পড়ে।
আমার পরে যে বোন ছিল, চোরাপথের বাঁকে
হারিয়ে গেছে, জানি না আজ কার সঙ্গে থাকে।
আজ জুটেছে? কাল কি হবে? আমার ঘরে শনি
আমি এখন এই পাড়ায় সেলাই দিদিমণি।
তবু, আগুন - বেণীমাধব, আগুন জ্বলে কই?
কেমন হবে আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?
--------------------------------------------------------------
ঐদিন এক বিকেল বেলা
তোমায় পেলাম কাছে,
বললাম শোনো কিছু কথা
তোমায় বলার আছে।
ন্শান্ত তুমি উদাস চোখে
তাকিয়ে ছিলে দূরে,
নাম না জানা পাখি
ডাকছিলো বিষন্ন এক সুরে।
খোঁপা খুলে ছড়িয়ে দিলাম
মেঘের কালো রাশি,
ভেবেছিলামকপাল ছুঁয়ে
বলবে ভালোবাসি।
বললে এক নতুন কথা
ভেঙে নিরবতা,
যুদ্ধ যাচ্ছি তোমার জন্য
আনবো স্বাধীনতা!
যখনই আমি তোমাকে ভাবি, তক্ষুনি তা শুনি ।
যখনই চাই সহজলভ্য নারীর কাছে যেতে,
একখানি মুখ ঝলসে ওঠে, তোমাকে চাই পেতে।
সময় বসে ভেংচি কাটে,--এক্ষুনি নয় সব,
আমিও বুঝি, তোমাকে পাওয়া একটু অসম্ভব ।
-------------------------------------------------------------------------------------
মনে আছে ?একদিন তুমি বৃষ্টি দিয়েছিলে আমায় ।
এই দেখো ,বুকের মাঠে আজ ফলেছে প্রেমের অগণন ফসল ।
মনে আছে ?একদিন তুমি ছায়া দিয়েছিলে আমায় ।
এই দেখো ,অবিরাম হৃদয় তোমারই নাম করে যায় জপ ।
মনে আছে ?একদিন কত শব্দ রেখেছো প্রকৃতির পৃষ্ঠায় ।
এই দেখো ,মনের মেশিনে স্নেহের ফোঁড়ে তারই ঝলমল কবিতা এই ।
------------------------------------------------------------------------------------
একটা বৃত্ত দিবে, সাথে কিছু রুপালী রং,
হলুদ হলেও চলবে, আমি একটা চাদ বানিয়ে নিব।
নইলে একটা সরলরেখা সাথে কিছু নীল রং,
আমি একটা সমুদ্র বানাবো।
তোমার পথের একটা ধুলা দিও সাথে কিছু বাদামি রং,
আমি মরুভূমি বানিয়ে নিব।
আর একটা হাসি সাথে কিছু মিষ্টি শব্দ, স্বর্গ বানিয়ে নিব।
কিছু অর্থহীন শব্দ দিও সাথে কিছু ছন্দ,
আমি গান বানিয়ে নিব।
আর যদি একটু উষঞ্চতা দাও, সাথে একটু অনুভূতি,
নতুন একটা জীবন বানিয়ে নিব ।।
পেয়ে গেলাম আমার পৃথিবী
কিন্তু পৃথিবী তো হল না ,
চেয়ে নেয়া মাটিতে নাকি পৃথিবী হয় না.........।।
শুধু মরিচিকা হয়।
কিন্তু মরিচিকার সাথে আর্তনাদ ও শুনতে পেলাম,
কিন্তু এ আর্তনাদ যে আমার না, তোমার - পৃথিবী না দিতে পারার।
তোমার আর্তনাদ সহ্য করার ক্ষমতা আমাকে দেইনি প্রভু।
তাই সব কিছু কে স্বপ্ন বানালাম,
ভোরের ডাকে চোখ মেলালাম,
এটাই আমার পৃথিবী।
সবকিছু না পেয়েও খুশি, কারন এখানে তোমার আর্তনাদ নেই ।।
------------------------------------------------------------------------------------------
অনেক দিন দেখা হবে না
হয়ত কয়েক বছর বা যুগ।
তারপর হঠাত একদিন দেখা হবে।
তখন কি আবেগের নদীটি শুকিয়ে যাবে,
নাকি উতলা হবে!
জড়িয়ে ধরবে নাকি-
অদৃশ্য দেয়ালের ওপারে নির্বাক দাড়িয়ে থাকবে!
মোটা চশমার ফাঁক গলে এক বিন্দু জল গড়াবে,
নাকি একরাশ অভিমান।
সম্মুখে সাঁই সাঁই করে ছুটছে নগর,
তার হাতে সময় নেই।
শুধু কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়াবে আমাদের সময়।
আবার হইতো মিশে যাব যন্ত্রের সাথে, দুজন দুই স্রোতে
---------------------------------------------------------------------------------------
কবিতা মানে তোমার অসম্ভব মায়াবী চোখ,
অমল মসৃণ গাল, সূচের মতো নাক, চিবুক ।
কবিতা মানে তোমার মুখের স্নিগ্ধ-মধুর হাসি,
উত্সুক ওষ্ঠদ্বয়, আমাদের ভালোবাসাবাসি ।
---------------------------------------------------------------------------------------------
হয়তো সহজ কাছে আসা তাই কাছে আসি,
হয়তো সহজ ভালোবাসা তাই ভালোবাসি ।
যখন সহজে কিছু পাই, ভাবি,
হয়তো সহজ ছিল পাওয়া,
যখন হারাই ভাবি,--হায়,
এমন সহজে চলে যাওয়া শিখেছে মানুষ ।
------------------------------------------------------------------------------------
তুমি কি আমার গানের সুরের
পূবালী বাতাস হবে,
তুমি কি আমার মনের বনের
বাঁশীটি হইয়া রবে!
রাঙা অধরের রামধনুটিরে,
ছড়াবে কি তুমি মোর মেঘ-নীড়ে,
আমি কি তোমার কবি হব রাণী,
তুমি কি কবিতা হবে;
তুমি কি আমার মনের বনের
বাঁশীটি হইয়া রবে!
তুমি কি আমার মালার ফুলের
ফিরিবে গন্ধ বয়ে,
হাসিবে কি তুমি মোর কপালের
চন্দন ফোঁটা হয়ে!
তুমি কি আমার নীলাকাশ পরে,
ফুটাবে কুসুম সারারাত ভরে,
সাঁঝ-সকালের রাঙা মেঘ ধরে
অঙ্গে জড়ায়ে লবে;
তুমি কি আমার মনের বনের
বাঁশীটি হইয়া রবে!
-------------------------------------------------------------------------------------------
:এতো দেরী করলে কেন? সেই কখন
থেকে অপেক্ষা করছি।
– কি করবো বলুন ম্যাডাম? টিউশনি শেষ
করে বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। আমার জন্যে তো আর
গেইটের বাইরে মার্সিডিজ
দাঁড়িয়ে থাকে না যে ড্রাইভারের কুর্নিশ নিতে নিতে হুট
করে ঢুকে পড়বো। তাই ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, কাদা-জল
ভেঙ্গে, গরীবের গাড়ি মানে দু’পায়ের উপর ভরসা করেই
আসতে হয় আপনারআমন্ত্রণ রক্ষা করতে। তবে আজ
রিক্সায়করে এসেছি নইলে একেবারে কাকভেজা হয়ে যেতাম।
রিক্সা খুঁজে পেতেই যা দেরী হলো।
: ইস্ বেশ ভিজে গেছো দেখছি। কাছে এসো তো, রুমাল
দিয়ে মুছে দিই।
– ওহো, আমি তো ভেবেছিলাম তোমার শাড়ির আঁচল
দিয়ে মুছিয়ে দেবে। ঠিক আছে, রুমালই সই।
: না মিস্টার, ওটা ভবিষ্যতের জন্য জমা থাকুক। যখন
তোমার বউ হবো তখন ইচ্ছেটা পূরণ হবে।
– আচ্ছা। আর যদি তা না হও,
তবে আমি বুড়ো বয়েসে পান চিবোতে চিবোতে কোন
এক বাদলঘন দিনে বসে বসে রোমন্থন করবো আজকের
এই রুমালি ভালোবাসাময় সময়টাকে।নাতিপুতিকে তখন
প্রথম প্রেমিকা আর এইরুমালটার গল্প শোনাবো।
: প্লিজ, এভাবে বলো না। কেন
আমি তোমাকেপাবো না? তুমি কি আমাকে চাও না?
আমাকেভালোবাসো না?
– উত্তরটা আসলে একটু কঠিন। তোমাকে চাই আবার
চাই না। ভালোবাসি আবার বাসি না।
: হেয়াঁলি রাখো। আমি স্পষ্ট জানতে চাই।
– তবে শোন। আমার প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামের
নির্মম বাস্তবতা তোমার জানা নেই। সেই
জীবনে তুমি কখনো অভ্যস্ত হতে পারবেও না।
তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?
: হ্যাঁ, করো।
– একটু আগে একটা টং-এর দোকানের
ছাউনিতে গা বাচিয়ে রিক্সা খুঁজছিলাম।খুব শীত শীত
লাগছিলো, তখন চা খেয়েছিলাম ভাঙ্গা কাপে।
আধধোয়া সে কাপে লেগেছিলো অনেক মেহনতি মানুষের
ঠোঁটের ছোঁয়া, লেগেছিলো থুতুও যা এখনোআমার
ঠোঁটে লেগে আছে। তুমি কি পারবে সেই ঠোঁটে চুমু
খেতে?
----------------------------------------------------------------------------------
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত
___তসলিমা নাসরিন
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত,
তবু এখনো কেমন যেন হৃদয় টাটায়-
প্রতারক পুরুষেরা এখনো আঙুল ছুঁলে পাথর শরীর
বয়ে ঝরনার জল ঝরে।
এখনো কেমন যেন কল কল শব্দ শুনি নির্জন
বৈশাখে, মাঘ-চৈত্রে-
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত,
তবু বিশ্বাসের রোদে পুড়ে নিজেকে অঙ্গার করি।
প্রতারক পুরুষেরা একবার ডাকলেই ভুলে যাই
পেছনের সজল ভৈরবী,
ভুলে যাই মেঘলা আকাশ, না-
ফুরানো দীর্ঘ রাত।
একবার ডাকলেই
সব ভুলে পা বাড়াই নতুন ভুলের দিকে,
একবার ভালোবাসলেই
সব ভুলে কেঁদে উঠি অমল বালিকা।
ভুল প্রেমে তিরিশ বছর গেল
সহস্র বছর যাবে আরো,
তবু বোধ হবে না নির্বোধ বালিকার।
----------------------------------------------------------------------------------------
কতদিন ধরে লিখা হয় না কবিতা
লিখতে পারলেই মনে পরে যায়
মন পাষাণী তোমার কথা।
ক্ষোভে দু:খে দম বন্ধ হয়ে আসে,
হাত করে নিশপিশ।
সময়রে স্রোতে শান্ত হয় মন
মনে পড়ে যায় তোমাকে
কেমন আছ মন পাষাণী ?
আমি কি তোমাকে
অভিশাপ দিতে পারি ?
সব সময তোমার মাথার উপর
শান্তির বর্ষণ ঝরে পড়ুক
এটাই হউক আমার প্রত্যাশা ।।
-------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এখন অভ্যস্ত আমার কষ্ট গুলোর সাথে ,
কখনো হাসি আমি ,
কখনো কাঁদি ।
স্বপ্ন অনুরূপ যা ছিল বদলে গেছে
মায়াবিনী , মহীয়সী সে মানবী
আজ গুছিয়ে নিয়েছে নিজেকে ।
আত্ম তৃপ্তির ছোঁয়া আছে আজ ।
শুধু আমিই পরে আছি সেই আমি তে ।
আমি তো বর্ষণ নই
আমি তো ঝরে যেতে পারি না
ছিটকে যাওয়া মেঘের মত গোলার্ধের
এ প্রান্তে নয় ও প্রান্তে ।
আমিও তো মানুষ ,
ভীষণ রকমের কিছু কষ্ট আমায় অভিনেতা করে তুলছে ।
একটু একটু করে কৃত্রিম ছোঁয়ায় আমি কে নিয়ে যায়
অচেনা অজানা এক নতুন আমি তে ,
পরিচিত আমার আমি যেন অপরিচিত একজন ।
আমি তো ঘাসের উপর জমে থাকা কোন শিশির নই ।
তপ্ত রোদে মলিন হয়ে মিলিয়ে যাওয়া ।
আমি তো পথ ভুলো শহরের পদ তলের অবহেলিত ধুলো নই ,
পা মাড়িয়ে যাবে , বুক চিরে কোন
মানবীর প্রত্যয় ।
-------------------------------------------------------------------------------
আমাকে ভালবাসতে হবে না,
ভালবাসি বলতে হবে না.
মাঝে মাঝে গভীর আবেগ
নিয়ে আমার ঠোঁট
দুটো ছুয়ে দিতে হবে না.
কিংবা আমার জন্য রাত
জাগা পাখিও
হতে হবে না.
অন্য সবার মত আমার
সাথে রুটিন মেনে দেখা
করতে হবে না. কিংবা
বিকেল বেলায় ফুচকাও
খেতে হবে না. এত
অসীম সংখ্যক ..না'এর ভিড়ে
শুধু মাত্র একটা কাজ
করতে হবে আমি যখন
প্রতিদিন এক বার ভালবাসি
বলব....তুমি প্রতিবার
একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে একটু
খানি আদর মাখা
গলায় বলবে ...পাগল.......
-------------------------------------------------------------------------------------
মানসী
........রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ
তুমি নারী!
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য
সঞ্চারি
আপন অন্তর হতে।
বসি কবিগণ
সোনার
উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।
সঁপিয়া তোমার 'পরে নূতন
মহিমা
অমর করেছে শিল্পী তোমার
প্রতিমা।
কত বর্ণ, কত গন্ধ, ভূষণ কত-
না -
সিন্ধু হতে মুক্তা আসে,
খনি হতে সোনা,
বসন্তের বন
হতে আসে পুষ্পভার,
চরণ রাঙাতে কীট দেয়
প্রাণ তার।
লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে,
দিয়ে আবরণ,
তোমারে দুর্লভ
করি করেছে গোপন।
পড়েছে তোমার
'পরে প্রদীপ্ত বাসনা -
অর্ধেক মানবী তুমি,
অর্ধেক কল্পনা।
---------------------------------------------------------------------------------------------------
ভেবেছিলাম প্রথম যেদিন
ফুটবে তুমি দেখব,
তোমার পুষ্প-বনের গাঁথা
মনের মতো লেখব।
তখন কালো কাজল মেঘ তো
ব্যস্ত ছিল ছুটতে,
ভেবেছিলাম আরো ক’দিন
যাবে তোমার ফুটতে।
সবে তা এই বর্ষা গেল
শরৎ এলো মাত্র,
এরই মধ্যে শুভ্র-কাশে
ভরলো তোমার গাত্র।
ক্ষেতের আলে, নদীর কূলে
পুকুরের ঐ পাড়টায়,
হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে
বাঁশবনের ঐ ধারটায়!
আকাশ থেকে মুখ নামিয়ে
মাটির দিকে নুয়ে,
দেখি ভোরের বাতাসে কাশ
দুলছে মাটি ছুঁয়ে।
কিন্তু কখন ফুটেছে তা
কেউ পারে না বলতে,
সবাই শুধু থমকে দাঁড়ায়
গাঁয়ের পথে চলতে।
পুচ্ছ তোলা পাখির মতো
কাশবনে এক কন্যে,
তুলছে কাশের ময়ূর-চূড়া
কালো খোঁপার জন্যে।
যেন শরত-রানী কাশের
বোরখাখানি খুলে,
কাশবনের ঐ আড়াল থেকে
নাচছে দুলে-দুলে।
প্রথম কবে ফুটেছে কাশ
সেই শুধু তা জানে,
তাই তো সে তা সবার আগে
খোঁপায় বেঁধে আনে।
ইচ্ছে করে ডেকে বলি:
‘ওগো কাশের মেয়ে,
আজকে আমার চোখ জুড়ালো
তোমার দেখা পেয়ে।
তোমার হাতে বন্দী আমার
ভালোবাসার কাশ,
তাই তো আমি এই শরতে
তোমার ক্রীতদাস।’
ভালোবাসার কাব্য শুনে
কাশ ঝরেছে যেই,
দেখি আমার শরত-রানী
কাশবনের আর নেই।
_________
----------------------------------------------------------------------------------------
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি ঠোঁট
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি চোখ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার কালো তিল
রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ভুরু
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার মরাল
গ্রীবা রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার পদযুগল
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার যুগল শীর্ষ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ক্ষীণ
কটি রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
এতো বেশি সুন্দরের
ভিড়ে কাউকে একাকী সুন্দর
বলার
ঝুঁকি আমি কীভাবে নেবো বলো
তোমার চাইতে আর
কে অধিক জানে
সুন্দরেরা বড়ো বেশি ঈর্ষাপ্রিয়
হয়….
--------------------------------------------------------------------------------------
তোমার যখন পাশে ছিলাম
আমায় ভালো লাগতো না,
একটু খানি ভালোবাসার
ইচ্ছে টুকু জাগতো না।
এখন দুরে সরে আছি;
চাইছো আমায় কাছাকাছি!
বলছি শোনো কানে কানে
শুনবো না আর মন্ত্রণা ,
একা থাকাই সুখের কারণ
দোকা মানেই যন্ত্রণা।
-----------------------------------------------------------------------------------
ভালবাসা মানে কি ? হাত
ধরে থাকা...?,
পাশাপাশি হাটা...?
বিরহ-
বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি ?
শেষ হয়ে যাওয়া কথার
পরেও মুখোমুখি বসে থাকা ?
দেখা না হওয়া ভালবাসা নয় ?
ঝগড়া, খুনসুটি ?
আহারে, ক্লাসের
বোকা বোকা ছেলেটি আমায়
ভালোবাসতো...ভাল
োবাসা নয় ?
মোটর বাইকের নির্দিষ্ট
শব্দ শুনলেই কান সজাগ...
ভালোবাসা নয় ?
রোজ
রাতে ছেলেটিকে বকে তার
মা, শুনতে খারাপ লাগে...
ভালোবাসা নয় ?
দেখা হল একদিন আর
দেখা হবে না,
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে চোখে চোখ ?
শুধু বিরহ বা মিলন
ভালোবাসা নয়,
ভালোবাসা মানে অন্য
অনেক কিছু
কিছু মিল কবিতার
সাথে আছে তার ।
--------------------------------------------------------------------------------------------
প্রত্যাবর্তনের পথে
কিছু কিছু ‘কস্টলি' অতীত
থেকে যায়।
কেউ ফেরে, কেউ কেউ
কখনো ফেরে না।
কেউ ফিরে এসে কিছু পায়,
মৌলিক প্রেমিক আর
কবি হলে অধিক হারায়।
তবু ফেরে, কেউ তো ফেরেই,
আর জীবনের পক্ষে দাঁড়ায়,
ভালোবাসা যাকে খায়
এইভাবে সবটুকু খায়।
প্রত্যাবর্তনের পথে
পিতার প্রস্থান থেকে,
থাকে প্রণয়ের প্রাথমিক
স্কুল,
মাতার মলিন স্মৃতি ফোটায়
ধ্রুপদী হুল,
যুদ্ধোত্তর মানুষের
মূল্যবোধ
পালটায় তুমুল,
নেতা ভুল,
বাগানে নষ্ট ফুল,
অকথিত কথার বকুল
বছর পাঁচেক বেশ
এ্যানাটমিক
ক্লাশ করে বুকে।
প্রত্যাবর্তনের পথে
ভেতরে ক্ষরণ থাকে লাল-
নীল
প্রতিনিয়তই,
তাহকে প্রেসক্লাব–কার্
ডরুম, রঙিন
জামার শোক,
থাকে সুখী স্টেডিয়াম,
উদ্গ্রীব
হয়ে থাকে অভিজাত
বিপনী বিতান,
বাথরুম, নগরীর নিয়ন্ত্রিত
আঁধারের
বার,
থাকে অসুস্থ সচ্ছলতা,
দীর্ঘ রজনী
থাকে কোমল কিশোর,
প্রত্যাবর্তনের
পথে দুঃসময়ে এইভাবে
মূলত বিদ্রোহ
করে বেহালার সুর।
তারপর ফেরে, তবু ফেরে,
কেউ
তো ফেরেই,
আর জীবনের পক্ষে দাঁড়ায়,
ভালোবাসা যাকে খায়
এইভাবে সবটুকু খায়।
----------------------------------------------------------------------------------------
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা; না!
না! কাম তৃপ্ত হবার জন্য
নয়, নয় তোমাকে চুম্বন
করতে।
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা; শুধু
দু'হাতে তোমায় একবার
জড়িয়ে ধরবো বলে..।
পথের
মধ্যে একটা ছোট্টমেয়ে হাতে বকুল
ফুলের
মালা নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো;
আমাকে বলেনি একটা মালা কিনতে,
আমি নিজেই
একটা মালা কিনেছি তোমার
জন্য; তোমার নোটন খোঁপায়
পরিয়ে দেবো ভেবে।
সদরঘাটে এক বৃদ্ধ আতর
নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো;
আমাকে বলেনি এক
শিশি কিনতে, কিন্তু
আমি এক শিশি বেলীফুলের
সুঘ্রাণ কিনেছি আমার
পরিশ্রান্ত
ঘামেভেজা জামার
গন্ধে যেন তুমি বিরক্ত
না হও।
লঞ্চের ডেকে বসে এক
কেজি আমড়া কিনেছি তোমার
খুব পছন্দ বলে; একটা সুন্দর
ফুটফুটে বাচ্চার
ছবিওয়ালা পোস্টার
কিনেছি তোমার
সিথানে টানিয়ে রাখার
জন্য।
এবার অফিসের বড়বাবু
বেতন দেয়নি বলে তোমার
জন্য বিশেষ কিছু
নিতে পারিনি....নেয়ার
মধ্যে এই যা...।
আমি জানি হে প্রিয়তমা!
চাওয়ার তোমার কিছু নেইও
বটে; কেবলি আমার
ভালোবাসা ছাড়া।
জানালার ধারে বসে শুধু
দূরের ঢেউ দেখছিলাম;
দেখছিলাম পাল
তোলা নৌকাগুলো;
ভাবছিলাম আমার হৃদয়
নৌকায় গুনটানা একমাত্র
মাঝিকে।
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা;
তোমার ঐ ঠোঁটের কোণে এক
চিলতে হাসি দেখার জন্য।
অনেকদিন পর আবার
এসেছি হে প্রিয়তমা; শুধু
হাসাতে নয়...বিদায়বেলায়
আরো একবার কাঁদাতে।
---------------------------------------------------------------------------------------
অবশেষে হাত পাতলাম
পদ্যটুকুই দাবি...
গদ্য নাইবা চাইলাম
শব্দের জল ছবি।
গোলাপ তো আমি চাইনা-
সে যত্নলালিত
ঘেঁটু ফুলই করি বায়না
যে অবহেলিত।
আদরের ঐ কুসুমডালা
দেবীর তরে?
মানবীর খোঁপার মালা
হোক অনাদরে।
গদ্যের ঠাসবুননে
থাক ভালোবাসা,
কবিতার তাগিদ মনে
প্রতিবাদের ভাষা।
গল্পের রত্নরাজি
প্রেমের চাবি-
পদ্যের ফুলের সাজি
আমার দাবি।
--------------------------------------------------------------------------------------
স্নেহসবুজ দিন
তোমার কাছে ঋণ
বৃষ্টিভেজা ভোর
মুখ দেখেছি তোর
মুখের পাশে আলো
ও মেয়ে তুই ভালো
আলোর পাশে আকাশ
আমার দিকে তাকা--
তাকাই যদি চোখ
একটি দীঘি হোক
যে-দীঘি জ্যোৎস্নায়
হরিণ হয়ে যায়
হরিণদের কথা
জানুক নীরবতা--
নীরব কোথায় থাকে
জলের বাঁকে বাঁকে
জলের দোষ? --- নাতো!
হাওয়ায় হাত পাতো!
হাওয়ার খেলা? সেকি!
মাটির থেকে দেখি!
মাটিরই গুণ? -- হবে!
কাছে আসুক তবে!
কাছে কোথায়? -- দূর!
নদী সমুদ্দুর
সমুদ্র তো নোনা
ছুঁয়েও দেখবো না
ছুঁতে পারিস নদী--
শুকিয়ে যায় যদি?
শুকিয়ে গেলে বালি
বালিতে জল ঢালি
সেই জলের ধারা
ভাসিয়ে নেবে পাড়া
পাড়ার পরে গ্রাম
বেড়াতে গেছিলাম
গ্রামের কাছে কাছে
নদীই শুইয়ে আছে
নদীর নিচে সোনা
ঝিকোয় বালুকণা
সোনা খুঁজতে এসে
ডুবে মরবি শেষে
বেশ, ডুবিয়ে দিক
ভেসে উঠবো ঠিক
ভেসে কোথায় যাবো?
নতুন ডানা পাবো
নামটি দেবো তার
সোনার ধান, আর
বলবোঃ শোন, এই
কষ্ট দিতে নেই
আছে নতুন হাওয়া
তোমার কাছে যাওয়া
আরো সহজ হবে
কত সহজ হবে
ভালোবাসবে তবে?বলো
কবে ভালোবাসবে?
------------------------------------------------------------------------------------
সহজে যে প্রেম আসে,
সহজে ফিরে যায়,
শীতের মত হাড়
কাঁপিয়ে প্রেম আসুক,
প্রেম আসুক
বুকে সর্দি বসিয়ে।
না থাকুক পুরো বছর জুড়ে,
যতদিন
থাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাক,
শাল সোয়েটার
মাফলারে জড়িয়ে থাক,
লিপজেল
ভ্যাসলিনে মাখামাখি করে থাক,
কাঁপুনি ধরা হাতে গরম
চা ফেলে দে শাদা শার্টে,
দাগ বসে যাক,দাগ
হয়ে থাক।
প্রেম আসুক,
শীতের মতো ছুঁয়ে যাক,
বদ্ধ মনের ঘরে হু হু বাতাস
ঢুকিয়ে
এসে চলে গেলে যাবে,
আবার ফিরে আসবে।
বিংশ শতাব্দীর শীত
তোমাকে নিয়ে গেলে,
একবিংশ শতাব্দীর শীত
বিষাদ বয়ে আনে,
শাল চাদরে বিষাদ,
লিপজেলে বিষাদ,
তেল
চিটচিটে লোশনে পিচ্ছিল
স্মৃতি
পড়ে থাক টঙে!
সেই পুরনো দাগ শুধু থাক
আগের মতো
আমার শাদা শার্টে।
অতিথি পাখির শাদা মনে।
—
----------------------------------------------------------------------------------------------------
শীত খুব তোমার পছন্দ, কিন্তু আমি
শীত-গ্রীষ্ম-বসন্তের চেয়ে তোমাকেই
বেশি ভালোবাসি;
যে-কোনো ঋতু ও মাস,
বৃষ্টি কিংবা বরফের চেয়ে
মনোরম তোমার সান্নিধ্য, আমি তাই
কার্ডিগান নয় বুকের
উষ্ণতা দিয়ে ঢেকে দেই
তোমার শরীর-
আমি হই তোমার শীতের যোগ্য গরম
পোশাক;
কোল্ড ক্রিম আর এই তুচ্ছ প্রসাধনী রেকে
আমি তোমাকে করতে চাই আরো হই
শীত, হই শীতের উদ্ভিদ;
আমি হই সবচেয়ে বেশি তোমার শীতের
উষ্ণ কাঁথা,
হই সকালের উপাদেয রোদ, সারো শুভ্র
সানবাথ।
আমিজানি নগ্নতাই শীতের স্বভাব,
আমি তাই
তোমার নগ্ন গায়ে দিব্য শতিের
কামিজ;
তুমি অবহেলা ভরে যাও আমি
শীরেত শিশির হই ঘাসে-
দুপায়ে মাড়িয়ে যাও, তবু তোমার
পায়ের রাঙা আলতা
হই আমি
এই শীতে তোমার নিবিড়
উষ্ণতা ছাড়া নিউ ইয়ার্স গিফট
কী আর চাওয়ার বলো আছে!
-----------------------------------------------------------------------------------------
বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ
তুলে সেতু
আবার আলাদা দৃষ্টি, টেবিলে রয়েছে শুয়ে
পুরোনো পত্রিকা
প্যান্টের নিচে চটি, ওপাশে শাড়ির পাড়ে
দুটি পা-ই ঢাকা
এপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-
কামানো দাড়ি
ওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু
মসৃণ নগ্নতা
বাইরে পায়ের শব্দ, দূরে কাছে কারা যায়
কারা ফিরে আসে
বাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ
ভ্রমণে।
আপাতত প্রকৃতির অনুকারী ওরা দুই মানুষ-
মানুষী
দু‘খানি চেয়ারে স্তব্ধ, একজন
জ্বলে সিগারেট
অন্যজন ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু মুছেও মোছে না
আঙুলে চিকচিকে আংটি, চুলের কিনারে একটু
ঘুম
ফের চোখ তুলে কিছু স্তব্ধতার বিনিময়,
সময় ভিখারী হয়ে ঘোরে
অথচ সময়ই জানে, কথা আছে, ঢের কথা আছে।
---------------------------------------------------------------------------------------------
যদি আপনি দুইজন মানুষকে
একই সাথে ভালবাসেন,
নির্বাচন করুন দ্বিতীয় জনকে।
কারণ
যদি আপনি সত্যিই প্রথম
জনকে ভালোবাসতেন
তাহলে কখনই দ্বিতীয় জনের
প্রেমে পড়তেন না।
____ জনি ডেপ
------------------------------------------------------------------------------------
আমার শুধু ইচ্ছে করে
সঙ্গে বসে থাকি ।
হঠাৎ করে তোমার গায়ে
গোপনে হাত রাখি ।
রাখতে রাখতে সাহস হবে
সাহস থেকে প্রেম,
বুঝবে আমি শিকড়গুলো
কিভাবে ছড়ালেম ।
আমার শুধু ইচ্ছে করে
সঙ্গে ভেসে যেতে,
ভাসতে ভাসতে সবটা নদী
বুকের কাছে পেতে ।
এমনি করেই সাহস হবে
সাহস থেকে প্রেম,
তখন তুমি বুঝবে না যে
কিভাবে জড়ালেম ।
--------------------------------------------------------------------------------
আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে
গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে
বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আর দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক
আমার গ্রহ জুড়ে বিশাল মরুভূমি
সবুজ পাতা নেই সোনালি লতা নেই শিশির
কণা নেই
ঘাসের শিখা নেই জলের রেখা নেই
আমার মরুভূর গোপন কোনো কোণে একটু নীল হয়ে
বাতাসে কেঁপে কেঁপে একটি শীষ আজ উঠুক
আমার গাছে গাছে আজ একটি কুঁড়ি নেই
একটি পাতা নেই
শুকনো ডালে ডালে বায়ুরঘষা লেগে
আগুন জ্ব’লে ওঠে তীব্র লেলিহান
বাকল ছিঁড়েফেড়ে দুপুর ভেঙেচুরে আকাশ লাল ক’রে
আমার গাছে আজ একটা ছোট ফুল ফুটুক
আমার এ-আকাশ ছড়িয়ে আছে ওই
পাতটিনের মতো ধাতুর চোখ জ্বলে প্রখর
জ্বালাময়
সে-তাপে গ’লে পড়ে আমার দশদিক
জল ও বায়ুহীন আমার আকাশের অদেখা দূর কোণে
বৃষ্টিসকাতর একটু মেঘ আজ জমুক
আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
তুষার জ’মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প’ড়ে আছে
গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ’রে
বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আজ দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক। —
----------------------------------------------------------------------------------------
কী আশ্চর্য
কখনই তুমি তো কাঁদো না
পুঁটুলি পাকিয়ে রেখে গেছ
এ-বাড়ির আনাচে-কানাচে
যে মনোবেদনা
পুড়ে যাচ্ছি আমি তার আঁচে
এ একরকম ভালো
শুনতে পাই না কানে
কে কী বলল, কে কেন চাইছে বেশি আরও
থাকতে হয় না সাতে পাঁচে কারও
গলিতে তোমার ছোট্ট এক চিলতে বাগানে
লঙ্কাগাছে ফুল ধরেছে সবে
তুমি আসছ কবে
ছেঁড়া সেলাইয়ের ছুঁচে,
ভাঙা জোড়া দেয়ার আঠায়
তুমি আছো
ছুঁলেই টের পাই
লাঠি হাতে উঠে
এ-ঘর ও-ঘর করি খোঁড়াতে খোঁড়াতে
কখনও সাক্ষাতে
বলি নি লজ্জার মাথা খেয়ে মুখ ফুটে
তবু খুব জানতে ইচ্ছা করে
কখনও না-কেঁদে
সমস্ত বর্ষার জল কেন তুমি হাসিমুখে
তুলে নাও দু-চোখের কোলে—
একদিন বাঁধ ভেঙে দিয়ে
আমাকে ভাসিয়ে দেবে ব’লে ?
-----------------------------------------------------------------------------------------
পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার বেড়াজালে
সম্পর্কগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে
খুব কাছের সম্পর্কগুলো আধুনিকতার
প্রয়াসে দূরে সরে যাচ্ছে
ভালবাসার আর ভাললাগার সম্পর্ক কি
ভুলতে বসেছে
স্রধা আর আদরের সম্পর্ক কি
তা নেয়াও বিভ্রান্তি
কোন সম্পর্ক আগলাতে গিয়ে
আগলে রাখা সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
প্রায় ভুলতেই বসেছে বিধাতার সাথে সম্পর্ক..........!!
--------------------------------------------------------------------------------------
কালো আধাঁর রাত,
নীলাভ হলুদ তারা,
আমি আত্নহারা,
তোমার আসার পথে,
উদাস হাওয়ার সাথে,
দরজা দিলাম খুলে,
মান অভিমান ভুলে,
আসবে তুমি কখন,
রাত ফুরালে তখন-
হবেনা না আর বলা;
অল্প সময় বাকি,
তবে দিলেই আমায় ফাঁকি!
করলে ছলা কলা!
----------------------------------------------------------------------------------------
কথোপকথন ৬
– পূর্ণেন্দু পত্রী
কালকে এলে না, আজ চলে গেল দিন
এখন মেঘলা, বৃষ্টি অনতি দূরে !
ভয়াল বৃষ্টি, কলকাতা ডুবে যাবে ।
এখনো কি তুমি খুঁজছো নেলপলিশ ?
শাড়ি পরা ছিল ? তাহলে এলে না কেন ?
জুতো ছেঁড়া ছিল ? জুতো ছেঁড়া ছিল নাকো ?
কাজল ছিল না ? কি হবে কাজল পরে
তোমার চোখের হরিণকে আমি চিনি ।
কালকে এলে না, আজ চলে গেল দিন
এখন গোধূলি, এখুনি বোরখা পরে
কলকাতা ডুবে যাবে গাঢ়তর হিমে ।
এখনো কি তুমি খুঁজছো সেফটিপিন ?
--------------------------------------------------------------------------------------
কাছে যতটুকু পেরেছি আসতে,
জেনো দূরে যেতে আমি তারো চেয়ে বেশী পারি।
ভালোবাসা আমি যতটা নিয়েছি লুফে
তারো চেয়ে পারি গোগ্রাসে নিতে ভালোবাসা হীনতাও।
জন্মের দায়, প্রতিভার পাপ নিয়ে
নিত্য নিয়ত পাথর সরিয়ে হাঁটি।
অতল নিষেধে ডুবতে ডুবতে ভাসি,
আমার কে আছে একা আমি ছাড়া আর?
-------------------------------------------------------------------------------------
সূর্য্য ডুবলেই পাল্টে যাও তুমি।
পাতাখসা দিনে সোনাঝুরি লতাটির মত
আরও সুন্দর হয়ে ওঠো ;
আঙ্গুলের ডগা ছোঁয় গোলাপী সোহাগ।
মেঝেভর্তি ভাঙ্গা ভাঙ্গা চাঁদের আলোয়
আল্ট্রা মড ঠোটে দাপাদাপি করে
মানুষ মারার ইচ্ছে !
ওগো নিশীরাতের চাঁদ,
কেন বোঝনা..
বালিশের নীচে রাখা জমানো ব্যথায়
সেই চেনা আর নেই তুমি !
আগে একটু আগুন খুঁজি সেঁকতে হৃদয়
কাদা জল মাটি, বিকেলের সুখ ;
তারপর ডাকবো তোমায়।
ভিজে চুল শোকানোর আগেই
এনে দেব নীলাম্বরী
পাশাপাশি নিঃশ্বাসে পেতে দেব পুরুষালী বুক,
যত খুশী নক্সা এঁকো সূঁচে।
---------------------------------------------------------------------------------------
মনে নেই,
আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম, অথবা
তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম,
এখন
আর কিছু মনে নেই, তবু দুঃখ হয়
এখন, যখন একেকদিন খুব বৃষ্টি নেমে আসে
এখন, যখন একেকদিন খুব শীতের বাতাস
শুধু পাতা উড়িয়ে উড়িয়ে
আমার চারদিকে বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাস ঘুরে ঘুরে;
এমন কি যখন সেই পুরনো কালের সাদা রোদ
হঠাত্ ভোরবেলা ঘর ভাসিয়ে ছাপিয়ে,
'কি ব্যাপার এবার কোথাও যাবে না?'
এখন আর কোনোখানে যাওয়া নেই,
এখন কেবল ঠান্ডা বাতাস, এখন বৃষ্টি, জল
আমার চারপাশ ঘিরে পাতা ওড়ে আর জল পড়ে ।
এখন তোমার জন্য দুঃখ হয়,
এখন আমার জন্য দুঃখ হয়,
আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম অথবা
তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, এখন দুঃখ হয় ।
------------------------------------------------------------------------------
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি ঠোঁট
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার দুটি চোখ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার কালো তিল
রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ভুরু
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার মরাল
গ্রীবা রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার পদযুগল
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার যুগল শীর্ষ
রেগে যাবে
তোমাকে সুন্দর
বললে তোমার ক্ষীণ
কটি রেগে যাবে
না
তোমাকে সুন্দর বলব
না আমি
এতো বেশি সুন্দরের
ভিড়ে কাউকে একাকী সুন্দর
বলার
ঝুঁকি আমি কীভাবে নেবো বলো
তোমার চাইতে আর
কে অধিক জানে
সুন্দরেরা বড়ো বেশি ঈর্ষাপ্রিয়
হয়….
--------------------------------------------------------------------------------------
কোনদিন আচমকা একদিন
''ভালোবাসা'' এসে যদি হুট করে বলে বসে,
চলো যেদিকে দু'চোখ যায় চলে যাই;
যাবে..............?
----------------------------------------------------------------------------------
মিস করছি ভালোবাসা
মিস করছি তোকে,
বিনিদ্র রাত জেগে আছি
কষ্ট নিয়ে বুকে
------------------------------------------------------------
প্রেম যখন আসে অগুনন নক্ষত্র নিয়ে আসে।
যখন চলে যায় দুঃখ টুকুও আর নিজের থাকে না।
থাকে শুধু তীব্র শুন্যতা-
অন্ধকারের থেকেও গাঢ়,
মৃত্যুর থেকেও নীল...
--------------------------------------------------------------
তবু আমরা অপেক্ষা করি,
হলদে হওয়া বিকেলে
কিংবা জুড়িয়ে যাওয়া চায়ের কাপে।
আর তারা আমাদের প্রত্যাশার পারদে উত্তাপ বাড়াতে থাকে,
তবু কেন জানি আমরা অপেক্ষা করতে ভালবাসি।
অপেক্ষার প্রহর গুণে ঘুমিয়ে পরি
কিংবা ফিকে হওয়া বিকেলে জেগে উঠি।
তারা তো জানেই না,
তবুও আমরা অপেক্ষা করি
এক বিকেলের অথবা হলুদ খামের।
----------------------------------------------------------------
তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়
তবু তোমার টুকরো ছায়ায়
ডুবে আছে কত মিথ্যে আগুন অন্ধকারময়
কত স্মৃতি কত সময়
তোমার জন্য পৃথিবীতে আজকে ছুটির রোদ
নিজের মাঝে তোমায় খোঁজা
আকাশ নীলে তাকিয়ে থাকা
তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়
মেঘাচ্ছন্ন ব্যস্ত ঢাকায়
মানুষগুলো শূন্য চোখে দুঃখ দ্বিধায়
আকাশ পানে তাকায়
তোমার জন্য পৃথিবীতে থেমে যায় সময়
আমার দেহে রাত্রি নামায়
মিথ্যে আগুন অন্ধকারময়
ভীড়ের মাঝে আবার ভীড়ে
আমার শরীর মিশে কোলাহলে
দুঃখ ভুলে মিশে যাই মুখোশ স্রোতে
অনেক দুরের একলা পথে
ক্লান্ত আমি ফিরি তোমার কাছে
মুখোশ খুলে বসে রই জানলা ধরে
আমার গানের শব্দ সুরের অন্তরালে
তোমায় আঁকি কান্না চেপে
মহাকালের ক্লান্ত পথে
তোমার জন্য বৃষ্টি ঝরে আমার লেখায়
আলোর মতন মিথ্যে ছায়ায়
পাথর হয়ে ঘুরে মরে আমার হৃদয়
কত স্মৃতি কত মিথ্যে ভয়
তোমার জন্য গলার ভেতর
আটকে থাকে ক্রোধ
আমার চোখে স্মৃতির ঘোলা জল
নির্জনতায় তোমার কোলাহল
তোমার না থাকা অস্তিত্ব
রয়ে গেছে আমার নিঃশ্বাসে
ফেলে আসা এই পথে দুজনেই একসাথে
আমার অবশ
অনুভূতির দেয়াল জুড়ে কত সময়
হেটে এসে আমরা দু’জন
হারিয়েছি পথ কোথায় কখন
আমার দেহে খুঁজে ফিরি
তোমার অনুভূতি
তোমার চোখের দুরের আকাশ
মিশে থাকে রূপক হয়ে
তোমার জন্য
বিষন্ন এক নিথর হৃদয় আমার ভেতর
দাঁড়ায় সরব একা
তোমার পৃথিবী স্বর্গের মতন
চির অদেখা
তোমার জন্য পথ হারিয়ে অজানায়
তবু তোমার লেখায় কথায়
ফেরে ক্লান্ত আমার অলস সময়
কত স্মৃতি অন্ধকারময়
------------------------------------------------------------
পুরনো পকেট থেকে উঠে এল কবেকার শুকনো গোলাপ |
কবেকার ? কার দেওয়া ? কোন্ মাসে ? বসন্তে না শীতে ?
গোলাপের মৃতদেহে তার পাঠযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন নেই |
স্মৃতি কি আমারও আছে ? স্মৃতি কি গুছিয়ে রাখা আছে
বইয়ের তাকের মত, লং প্লেইং রেকর্ড-ক্যাসেটে
যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত থাকে গান, আলাপচারীতা ?
আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল, দমকা হাওয়া যেন
লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি, ওলোটপালটে মহাখুশি
দুঃখেরও দুপুরে গায়, গাইতে পারে, আনন্দ-ভৈরবী |
আকাঙ্খার ডানাগুলি মিশে গেছে আকাশের অভ্রে ও আবীরে
আগুনের দিনগুলি মিশে গেছে সদ্যজাত ঘাসের সবুজে
প্রিয়তম মুখগুলি মিশে গেছে সমুদ্রের ভিতরের নীলে |
স্মৃতি বড় উচ্ছৃঙ্খল, দুহাজার বছরেও সব মনে রাখে
ব্যাধের মতন জানে অরণ্যের আদ্যোপান্ত মূর্তি ও মর্মর |
অথচ কাল বা পরশু কে ডেকে গোলাপ দিল কিছুতে বলবে না |
----------------------------------------------------------------------------
আমি কত বোকা তাইনা?
একটু আদুরে স্বরে কথা বললেই ভেবে নিই তোমাকে নিজের সম্পত্তি।
কল্পনায় তোমার সাথে গল্প করে হেসে কুটি কুটি হই!
হাজারটা আবদার করে ফেলি নির্দ্বিধায়।
আমি কত বোকা তাইনা?
চলতি পথে অন্যমনস্ক তোমায় দেখে ভেবে নেই
আমাকেই বুঝি ভাবছো তুমি।
ঐ
উসখুশকো বিবর্ণ চুলের কারণ
যে মাস খরচের টাকা ফুরিয়েছে, বন্ধুর সুন্দরী প্রেমিকা পাওয়া কিংবা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি হতে পারে এটা মাথায়ই আসেনা।
এটাও ভাবতে পারিনা যে আমি শুধুই তোমার কাছে অবসরের খেলনা,
ভালোবাসার পাত্রী হয়ে উঠতে পারিনি আজো!
-----------------------------------------------------------------------------
তোমায় দেখার পর বুঝেছি
খুঁজছিলাম তোমাকেই
তোমার মাঝে সকালের মত কিছু আছে
যার আশায় বিনিদ্র কাটিয়েছি সারা রাত,
তুমি এসে বুনে দাও স্বপ্নজাল আমার!
তোমার মাঝে মেঘের মত কিছু আছে
যার জন্য আমি অতীব পিপাসিত,
এসো, আমার পিয়াস মিটিয়ে দাও।
--------------------------------------------------------------------
কবিতা আমার ওষ্ঠ কামড়ে আদর করে
ঘুম থেকে তুলে ডেকে নিয়ে যায়
ছাদের ঘরে
কবিতা আমার জামার বোতাম ছিঁড়েছে অনেক
হঠাৎ জুতোর পেরেক তোলে!
কবিতাকে আমি ভুলে থাকি যদি
অমনি সে রেগে হঠাৎ আমায়
ডবল ডেকার বাসের সামনে ঠেলে ফেলে দেয়
আমার অসুখে শিয়রের কাছে জেগে বসে থাকে
আমার অসুখ কেড়ে নেওয়া তার প্রিয় খুনসুটি!
আমি তাকে যদি
আয়নার মতো
ভেঙ্গে দিতে যাই
সে দেখায় তার নগ্ন শরীর
সে শরীর ছুঁয়ে শান্তি হয় না, বুক জ্বলে যায়
বুক জ্বলে যায়, বুক জ্বলে যায়…..
----------------------------------------------------------------------------
শীত খুব তোমার পছন্দ, কিন্তু আমি
শীত-গ্রীষ্ম-বসন্তের চেয়ে তোমাকেই
বেশি ভালোবাসি;
যে-কোনো ঋতু ও মাস,
বৃষ্টি কিংবা বরফের চেয়ে
মনোরম তোমার সান্নিধ্য, আমি তাই
কার্ডিগান নয় বুকের
উষ্ণতা দিয়ে ঢেকে দেই
তোমার শরীর-
আমি হই তোমার শীতের যোগ্য গরম
পোশাক;
কোল্ড ক্রিম আর এই তুচ্ছ প্রসাধনী রেকে
আমি তোমাকে করতে চাই আরো হই
শীত, হই শীতের উদ্ভিদ;
আমি হই সবচেয়ে বেশি তোমার শীতের
উষ্ণ কাঁথা,
হই সকালের উপাদেয রোদ, সারো শুভ্র
সানবাথ।
আমিজানি নগ্নতাই শীতের স্বভাব,
আমি তাই
তোমার নগ্ন গায়ে দিব্য শতিের
কামিজ;
তুমি অবহেলা ভরে যাও আমি
শীরেত শিশির হই ঘাসে-
দুপায়ে মাড়িয়ে যাও, তবু তোমার
পায়ের রাঙা আলতা
হই আমি
এই শীতে তোমার নিবিড়
উষ্ণতা ছাড়া নিউ ইয়ার্স গিফট
কী আর চাওয়ার বলো আছে!
--------------------------------------------------------------------------
"ভালোবাসা একটা পাখি। যখন খাঁচায় থাকে তখন মানুষ তাকে মুক্ত করে দিতে চায়। আর যখন খোলা আকাশে তাকে ডানা ঝাপটাতে দেখে তখন খাঁচায় বন্দী করতে চায়।"
-------------------------------------------------------------------
মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়
___জয় গোস্বামী
বেণীমাধব, বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাব
বেণীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাব?
বেণীমাধব মোহন বাঁশি তমাল তরু মূলে
বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী স্কুলে।
ডেস্কে বসে অংক করি, ছোট্ট ক্লাস ঘর
বাইরে দিদিমণির পাশে দিদিমণির বর।
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন শাড়ি,
আলাপ হলো, বেণীমাধব, সুলেখাদের বাড়ি।
বেণীমাধব, বেণীমাধব, পড়াশুনায় ভাল
শহর থেকে বেড়াতে এলে, আমার রঙ কালো।
তোমায় দেখে পালিয়ে গেছি একদৌড়ে ঘরে
বেণীমাধব, আমার বাবা দোকানে কাজ করে।
কু্ন্জে তবু গু্ন্জে অলি ফুটেছে মন্জরী
সন্ধ্যা বেলা পড়তে বসে অঙ্কে ভুল করি।
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন ষোলো
ব্রীজের ধারে, বেণীমাধব, লুকিয়ে দেখা হলো।
বেণীমাধব, বেণীমাধব, এতোদিনের পরে
সেসব কথা এখনো কি আর তোমার মনে পড়ে?
সেসব কথা বলেছ কি তোমার প্রেমিকাকে?
আমি কেবল এ একটিবার তোমার পাশে তাকে,
দেখেছিলাম আলোর নীচে, অপূ্র্ব সে আলো।
স্বীকার করি দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো।
জুড়িয়ে দিল চোখ আমার, পুড়িয়ে দিল চোখ
বাড়ীতে এসে বলেছিলাম - ওদের ভালো হোক।
রাতে এখন ঘুমোতে যাই - একতলার ঘরে
মেঝের পরে বিছানা পাতা, জো্ত্স্না এসে পড়ে।
আমার পরে যে বোন ছিল, চোরাপথের বাঁকে
হারিয়ে গেছে, জানি না আজ কার সঙ্গে থাকে।
আজ জুটেছে? কাল কি হবে? আমার ঘরে শনি
আমি এখন এই পাড়ায় সেলাই দিদিমণি।
তবু, আগুন - বেণীমাধব, আগুন জ্বলে কই?
কেমন হবে আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?
--------------------------------------------------------------
ঐদিন এক বিকেল বেলা
তোমায় পেলাম কাছে,
বললাম শোনো কিছু কথা
তোমায় বলার আছে।
ন্শান্ত তুমি উদাস চোখে
তাকিয়ে ছিলে দূরে,
নাম না জানা পাখি
ডাকছিলো বিষন্ন এক সুরে।
খোঁপা খুলে ছড়িয়ে দিলাম
মেঘের কালো রাশি,
ভেবেছিলামকপাল ছুঁয়ে
বলবে ভালোবাসি।
বললে এক নতুন কথা
ভেঙে নিরবতা,
যুদ্ধ যাচ্ছি তোমার জন্য
আনবো স্বাধীনতা!
Comments
Post a Comment