Skip to main content

স্বপ্ন বোনার কারিগর**


হঠাৎ করে গাছের পাতায়
নেমে এলো আধাঁর।
আছে মাথার উপর
ঘন বন্ধু আমার।

তুমি ভিজে এসো,
আমি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবো।
চুল খুলে রেখো।
তার চুঁইয়ে পড়া জল
আমি ভাসিয়ে দেবো মহানন্দায়।

হয়তো তখন সিলিং
আলতো হাতে গুনে নেবে
জলের ফোঁটা।

আমায় মনে রেখো।

---------------------------------------------------------------------------------------------------------


তুমি আমায় তোমার স্বপ্ন বোনার কারিগর ভেবেছিলে
না তা আমি হতে পারিনি
ভেবে ছিলে তুমি আমায় তোমার রাজ্যের রাজা
না রাজ্য আমি সামলাতে পারিনি
তুমি আমায় সব দিয়ে নিঃস্ব হয়েছো
আমি তোমায় তার কোন মূল্যই দেইনি
তুমি আমায় পৃথিবীর সব থেকে মূল্যবান জিনিস
ভালবাসা দিয়েছো, তার বদলে
আমার কাছ থেকে শুধু ব্যথায় কুড়িয়ে গেছো

---------------------------------------------------------------------------------------------------

যতক্ষন তোর কাছে থাকি ততক্ষনই রাজপুত্র
বাড়ি ফিরলেই যা হয় সেই
কাজ ফেলে ভাবনার কোলে রাখি মাথা
তোর চোখ,তোর হাশি,তোর লিপস্টিক মাখা রাঙা ঠোট
আজ তোর কানের দুল টা ভীষণ সুন্দর ছিল জানিস,
বিছানার নিচ থেকে তোর স্মৃতি মাখা সপ্নগুলো টেনে টেনে বার করছি
একদিন সময় করে সপ্ন বন্দি করবো
সময় করে বাংলা ওয়ার্ডে লিখে ফেলবো
গুছিয়ে রাখব তোর নামের ফাইলে।
তুই না বলেছিলি একটা ছবি সেন্ড করবি
কই,এখনো তো মেইল বক্সে এলনা
তোর ছবি সেভ করে রাখব ঐ একি ফাইলে
পাসওয়ার্ড টা তোর নামেই দিবো
দেখলি,তোকে লিখতে বসলে শেষই হয়না
শেষ হয়না আমার কল্পিত ভাবনা,যা তোকে কেন্দ্র করেই
মাঝে মাঝে চিৎকার করতে মন চায়
শনা,ভালবাসি তোকে সুনতে পারছিস ?
ভয় হয়,পাশের ঘরে মাও্ব তো রয়েছে
তার থেকে লেইমাথাতা ভাবনার কোলেই রাখি
আবারও লিখব,আগে সপ্নগুলো আকি...।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রতিটা পাতায়
আমার খাতায়
গোঁজামিল দিয়ে ভরা
প্রেমের বীণা
কিনেছি কিনা
দাম দিয়ে অতি চড়া।

কিন্তু সে বীণা
এখন বাজেনা
একটুও সুরে সুরে
মন চলে যায়
বীথির ছায়ায়
তাই বহু দূরে দূরে।

যেখানে আছে
কোকিল গাছে
নিয়ে সুরের ডালা
মনের শ্রান্তি
এবং ভ্রান্তি
দূর করে গাছপালা।

তবু, প্রশ্ন ওঠে
বিব্রত ঠোঁটে
গৃহী হয়েছি যখন
কেমনে ভাবব
মোক্ষ্য পাব
বিনা তপস্যায় তখন।

---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আসলে মনের দিক থেকে অন্ধ তুমি,
এই যে তিলেতিলে জমে উঠা বরফ
চাইলেই ভালবাসার উত্তাপে সাগর বানিয়ে বাসাতে পারতে তরী।

কোনদিন ভেবেও দেখোনি এই যে বরফ জমে
আরোএকটা উত্তর মেরু হবে,

যে ভালবাসা মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি
তার সাগরে তরী ভাসবে এমনটিও কখনো আশা করেনি,

এমনইতো হয়
সব শীতলতাই চায়
উষ্নতার আশ্রয়।

---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

স্বরচিত কবিতা : স্বর্গীয় চুম্বন


তোমাকে স্পর্শ করতে যেয়ে প্রেমাধারে
এখানে নেই কোনো অনধিকার চর্চা।
স্বর্গীয় অনুভুতি যেন অন্তরালে চুম্বনে
তোমার কোমল ঠোটে নীরব সময়ে।
আজ সম্পর্কের গভীরতায় আমি মুগ্ধ
সৃষ্টির শুরু থেকেই যেন স্বর্গীয় এ দান।
আমি চাইনা কোনো উগ্র যৌনতা
পবিত্রতা মিশে থাক দু'জনের আলিঙ্গনে।
উষ্ণ নিঃশ্বাসে, হৃদকম্পনের অতিমাত্রায়,
কে কি বলুক, অথবা ভাবনার মাঝে রাখুক।
আমার আমি তোমাকে শ্রদ্ধা করি তেমনি
যেমনটি প্রিয় মানুষ তুমে আমার একান্ত সান্নিধ্যে।
চুম্বন যেন স্বর্গীয় অধিকার পরস্পরায়।
হও তুমি-
বন্ধু, আপনজন, কাছের মানুষ, চিরসাথী
এ যেন পবিত্র এক অনুভুতির আত্মত্যাগ!
সব ভুলে যায় মানুষ সময়ের ব্যবধানে
রয়ে যায় এই চুম্বনের আকর্ষণ ও মুহুর্ত।
কে কিভাবে নেবে, তোমাদের ব্যাপার!
কবিতার ভাষায় কবির অধিকারে চয়ন
চুম্বন যেন ভালবাসা, মমতা, শান্তির বাতায়ন।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

তুমি আসবে বলে”
___শিমুল মুস্তাফা

তুমি আজ আসবে বলে-
বহুক্ষণ আমি অবাক হয়েছি!
ঘরের চৌদিকের দেয়ালের ছুল
l গুলো পরিষ্কার
করেছি
আমার ঘরটাকে আমি নিজেই আপন
করে সাজিয়েছি
সেই সারা রাত ধরে!

এটা কদম ফুলের মাস
আমি ভুলিনি, তাই
তোমার প্রত্যাশায় আমি ছিঁড়েছি
এক গোছা কদম ফুল
সুগন্ধি সাবান নিয়ে ছুটে গেছি পুকুর
পাড়ে
আমার এক মাত্র সাদা শার্ট
টাকে ধোবার জন্য
বিশ্বাস কর, শার্টের কলারে ভীষণ
ময়লা ছিল
তবুও আমি ভালো করে ধুইনি,
ছিঁড়ে যাবার ভয়ে?

পরিচ্ছন্নতার ভয়ের চেয়ে, তোমার
প্রতি ভয়টা বেশী বলেই হয়ত!
ধুলো পড়া আয়নার কাছে গিয়েছি বার

বার
হেয়ার ইস্টাইল ঠিক করতে করতে-
নিজের প্রতি ঘেন্না জমিয়েছি
তবুও, আমি কত রাত গুলো কম খেয়ে
পয়সা জমাচ্ছি, শুধু প্রত্যাশায়
তুমি আজ আসবে
নিজের জীবনের চেয়ে-
ভালবাসার মূল্য নাকি অনেক বেশী?
অথচ, অথচ জীবনের জন্যে ভালবাসা
নারীর সৌন্দর্যের চেয়ে- পুরুষেরপৌরস্য
অনেক
ঊর্ধ্বে
অথচ, আমি আজ ভীষণ অসহায়
তবুও বিশ্বাস কর, হে নারী-
বেঁচে থাকার ইচ্ছা এখন আগের
চেয়ে ঢের বেশী..
তোমার চিঠিতে তুমি উল্লেখ করেছ-
শনিবারে তুমি আসছ, তাই
সমস্ত শনিকে কাঁটিয়ে, সেই শনির
অপেক্ষায় ছিলাম
আজকের এই দিনে আমি স্বর্গে যেতেও রাজি নই
আজ আমি স্বর্গ কে উৎসর্গ করলাম
আজ আমি হৃদপিণ্ডে নাঙল চালানো বন্ধ

করলাম
আমি আমি মুখ দিয়ে চিহ্নের মত-
বিষাক্ত ধোঁয়া বের করা বন্ধ করলাম
আজ আমি বন্ধ করলাম,
চরিত্রকে বিক্রি করা
যদি কোনদিন মনে হয়,
আমার হৃদপিণ্ডে দুষিত রক্ত আছে!
যদি কোনদিন মনে হয়,
আমার ফুসফুসে বিষাক্ত ধোঁয়া আছে!
যদি কোনদিন মনে হয়,
আমার চরিত্রে কলঙ্ক আছে!
তবে, তবে সেদিন আমার বিশ্বাসে
তোমার বিষ দাঁত বসিয়ে দিও
আমি সব আসনে থেকে, নির্দ্বিধায়
সেই বিষ-
গ্রহণ করবো, গ্রহণ করবো, গ্রহণ করবো


---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তুমি মেঘলা আকাশ
শ্রাবনের ঘন বর্ষার আগে
তুমি তার-ই পূর্বাভাস ।
তোমায় নিয়ে কেউ স্বপ্ন দেখে
কেউ বোনে স্বপ্নজাল ,
কেউ কবিতা লেখে
কেউ বা গেয়ে যায় গান ।
তোমার জন্যে
কারো মাঝে ব্যাথা ,কারো মাঝে আনন্দ ,
আবার শুধু তোমারি জন্যে
অনেকের মাঝে বেঁধেছে অনেক সংঘাত ,অনেক দ্বন্দ ।
তুমিতো তা জান না ,বোঝ না
জানি শুনবে না হয়ত কোনদিন
তোমার জন্যে কত হৃদয় আজ ক্ষত-বিক্ষত ।
তুমি শুধু চাও
তোমার ঐ মনটাকে রংধনু রঙে রাঙাতে
ভালবাসা পেতে একান্ত গোপনে ,
তুমি শুধু চাও
তোমারি মত কোন একজনকে ভালবাসতে ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

এখনো আমার মাঝে
জীবনের কিছু রেশ বাকি আছে,

হৃদয়ে জাগে নতুন স্পন্দন,
বুঝতে পারি বেঁচে আছি এখনো।

এমন কিছু শোকতাপ আছে এই মুহুর্তগুলোয়,
এর শেষ কবে কে জানে!

নিজের সমুখের সেই কষ্টগুলোকে কি ছুঁয়ে দেবো ?

মরেই যাবো, নাকি বাঁচবো আরো কিছুকাল?
আনন্দকে জড়িয়ে ধরবো নাকি কাঁদবো কিছুক্ষণ?
মরেই যাবো, নাকি বাঁচবো কিছুকাল আরও?

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------


“চিরদিন”
____অমিয় চক্রবর্তী

আমি যেন বলি, আর তুমি যেন শোনো
জনমে জনমে তার শেষ নেই কোনো।
দিনের কাহিনী কত, রাত চন্দ্রাবলী
মেঘ হয়, আলো হয়, কথা যাই বলি ।
ঘাস ফুটে, ধান উঠে, তারা জ্বলে রাতে,
গ্রাম থেকে পাড়ি ভাঙে নদীর আঘাতে ।
দুঃখের আবর্তে নৌকো ডোবে, ঝড় নামে,
নূতন প্রাণের বার্তা জাগে গ্রামে-গ্রামে :
নীলান্ত আকাশে শেষ পাইনি কখনো-
আমি যেন বলি, আর তুমি যেন শোনো ।।
তুমি যেন বল, আর, আমি যেন শুনি
প্রহরে-প্রহরে যায় কল্পজাল বুনি ।
কুমুদ কহ্লার ভাসে থৈ-থৈ জলে,
কোথা মাঠ ফেটে যায় মারীর অনলে ।
আঙিনায় শিশু খেলে, ফুলে ধরে মৌ,
তুলসীতলায় দীপ জ্বালে মেজো বৌ,
সানাই বাজানো রাতে হঠাৎ জনতা
বিয়ে ভেঙে মালা ছিঁড়ে ছড়ায় মত্ততা ।
মানুষের প্রাণে তবু অনন্ত ফাল্গুনী-
তুমি যেন বল, আর, আমি যেন শুনি ।।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


পাখির কথায় পাখা মেললাম নীলে
নীল এসে বুঝি আমাকেই ফেলে গিলে
নীল ছাড়া দেখি চারিদিকে কিছু নেই
তুমি ছাড়া, তুমি-তুমি পুরাতন সেই।
চির পুরাতন কিন্তু নতুন তোমার চোখের তারা
আমাকে কেবল ইশারায় করে প্রান্তরে দিশেহারা
তবুও তো আমি এখনো তোমার ছায়া
খুঁজে ফিরি আর ভাবি অলৌকিক মায়া
মুক্তির গান গাইবে এমন কবি কই এই দেশে?
কবিতার পরে কবিতাই থাকে স্বপ্নকে ভালোবেসে।


------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


তোমার চোখের মতো গভীর সমুদ্র আর নেই
তোমার টিপের মতো নেই কোন দ্বীপ
তোমার মনের মতো ইউনিক আশ্রয় নেই
নেই তোমার মতো পবিত্র কোন গ্রন্থ
তোমার আঙুলের মতো চিরুণী নেই
নখের মতো নেই কোন স্পর্শকাতর করে দেয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস
তোমার শরীরের মতো মসৃণ তল নেই
কোথাও নেই।

তোমার কপালের মতো প্রসস্ত বিশালতা দেয় আকাশ
তবুও এক গোছা চুল ঐ কপালে উড়ে এসে পড়লে
আমার আকাশকেও তুচ্ছ মনে হয়।
তোমার ঠোঁটের মতো বিশুদ্ধ নগরী নেই
তোমার ভ্রু এর মতো নেই কোন ছায়াপথ
চারপাশে সৌন্দর্যের বিপুল বিস্তারের মাঝে
তোমাকেই মনে হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র
আমার সবচেয়ে প্রিয় দর্শনীয় স্থান।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আমার পৃথিবী জুড়ে কেবলি স্বপ্ন ভঙ্গের শব্দ।
পথ হাটছি অবিরাম………
শুধু হেটেই চলেছি…..।
প্রচন্ড ক্লান্তি এসে ভর করে। থেমে যেতে চায় আমার অনিশ্চিত পদযাত্রা।

তারপরও আমি হেটে চলি বন্ধুহীন, ভালোবাসাহীন।

বন্ধু,
আমার কথা ভেবে কখনো কি তুমি আনমনা হও?
কোন জোৎস্না ভেজা রাতে মনে পড়ে কি আমার কথা?

ভালোবাসা দিতে যদি কার্পন্য এতোই
তাহলে ঘৃনাই দাও নূন্যতম
অন্তত কিছু তো পাবো
হিমাঙ্ক অতল শৈত্য উপেক্ষা অথবা
তবু কিছু দাওগো পাষান
কাঙালের ভাঙা হাত একেবারে
ফিরিয়ে দিওনা।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


আমি বড় বেশী অস্থির!
একটা হুলুস্থুল রকমের প্রেম চাই
তোমার চুল থেকে পায়ের নখে মোড়ানো প্রেম চাই!
কনকনে শীতে আগুনের মত চাই তোমার স্পর্শ!

বলতে দ্বিধা নেই
চাই তোমার সম্পূর্ণ ওম, দিনে কিংবা রাতে
চাই শরীর কাঁটা দিয়ে উঠা-তোমার প্রতিটি চুম্বন ।
যতটুকু লিখে প্রকাশ করা যায় না তারও অধিক...
চাই নেশাগ্রস্থ এর মত তোমাকে...

সিনেমার মত একরোখা; উন্মাদ পাগলের মত
অত বাঁধা, অত প্রতীক্ষা, অত ভূমিকা নয়
বাচ্চাদের আবদারের মত তোমাকে চাই, ফুচকার টঙে ।
শুধু বিশেষ উৎসবে আয়োজনে সাজানো পুতুল রুপে নয়
চাই দৈনন্দিন চলাফেরায়, জনবহুল ফুটপাতে, দুঃখ বেদনায় ।

আর পারা যাচ্ছে না !! একটা প্রেম চাই-ই
অনেকটা তেঁতুলের মত
যেন জিভ ছোঁয়াতেই শিউরে উঠে অনাবাদি শরীর ।______

---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


দু’জনের ভাত
- নির্মলেন্দু গুন

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে
মনে কি পড়ে না? পড়ে ।
ভালো কি বাসি না? বাসি ।
শ্লথ টেপ থেকে সারা দিন জল ঝরে,
সেই বেনোজলে এঁটো মুখ ধুয়ে আসি ।

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে
প্রেম কি জাগে না? জাগে ।
কিছু কি বলি না? বলি ।
তিতাস শিখায় যতটুকু তাপ লাগে,
অনুতাপে আমি তার চেয়ে বেশি গলি ।

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে
আমি কি কাঁদি না? কাঁদি ।
কাঁচা কাকরুল ভাজার কবিতা লেখি,
বড়-ডেকচিতে দু’জনের ভাত রাঁধি ।

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে-খেতে
কিছু কি ভাবি না? ভাবি ।
ভেবে কি পাই না? পাই ।
তবু কি ফুরায় তুমি-তৃষ্ণার দাবী?
ভাত বলে দেয়, তুমি নাই, তুমি নাই ।______

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

লাগামহীন ঘোড়ায় চড়িয়ে সে আমাকে
পাহাড় ডিঙিয়ে নিয়ে যাবে
কাঁটার আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে
বুনো ফুল তুলে আনবে হাসতে হাসতে
উত্তাল সমুদ্রে ডুব দিয়ে
শঙ্খবলয় তুলে আনবে আমার জন্য
নিজের সমস্ত উত্তাপ দিয়ে
দূর করে দেবে আমার শীতলতা
সে আমার স্বপ্নপুরুষ
অনেক খুঁজে তাকে পেলাম
আমাকে সে বুকে টেনে নিল
ঠোঁটে করে শুষে নিল চোখের জল
হঠাৎ আমাকে দূরে ঠেলে দিয়ে বলে
“আমি যে মেঘ ভালবাসি
তুমি মেঘ নও, জোছনাময়ী”
মেঘ খুঁজতে হারিয়ে গেল দূরে
স্বপ্নপুরুষ ছোঁয়া দিল…..ধরা দিল না...

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


যদি পারো ক’ফোঁটা বৃষ্টি নিয়ে এসো
তোমার গভীর সমুদ্রনীল মায়াবী চোখ
দুটোয়
আমি সেখানেই সাঁতার কাটবো।
যদি পারো এক টুকরো স্বপ্ন নিয়ে এসো
তোমার বিকশিত স্বপ্নীল মনের
আঙ্গিনায়
আমি সেখানেই স্বপ্ন কিনবো।
যদি পারো –
প্রথম দিনের হাসি নিয়ে এসো বার
বার
সেই প্রথম বেলার অব্যক্ত কথাদেরও
আমি সেখানেই খুঁজে নেব প্রাণ
ও আলোর ঝংকার স্মৃতিচ্ছবিতে।
যদি পারো-
জ্যোৎস্না রাতে ভুলে যাওয়া গানের সুর
নিয়ে এসো
তোমার নীরব সংলাপে অশ্রুত
শব্দরা যে কথা বলবে
আমি সেখানেই সুর খুঁজে নিয়ে
বেতাল গায়কের মতো
শব্দগুলো রিন্রিন্ করে বেজে তুলবো
মিশে যাবো সমুদ্র কল্লোলে…

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


-- এই দেখ মেঘ ছুঁয়ে দিচ্ছে তোমার খোলা চুল, কাঁধ, তোমার হাসি।
-- তাতে কি!!! মেঘই তো। তাতেও ঈর্ষা!
তাহলে চাঁদকে কি বলবে?
-- চাঁদ কি তোমার আরো আপন!

আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। ভ্রুতে অভিমান গাঢ় করে একসময় বেপরোয়া হয়ে বলে উঠি, 'তুমি ঝড় দেখবেনা, বৃষ্টি ছোঁবেনা কোথাও যাবে না....

এই যে এ মনে তোমার ঘর
বানিয়েছি যত্নে মমতায়...
এই বুকেই হোক শুধু তোর বাস,
ফাগুন... বর্ষা... বারমাস।।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


"তুলনামূলক হাত"
____নির্মলেন্দু গুণ

তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর৷
তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেই
খোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে;
আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আর
চোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে,
তোমার চতুর্দিকে শূন্যতাকে ভরে থেকে যাই৷
তুমি যেখানেই হাত রাখো, যেখানেই কান থেকে
খুলে রাখো দুল, কন্ঠ থেকে খুলে রাখো হার,
সেখানেই শরীর আমার হয়ে ওঠে রক্তজবা ফুল৷
তুমি যেখানেই ঠোঁট রাখো সেখানেই আমার চুম্বন
তোমার শরীর থেকে প্রবল অযত্নে ঝরে যায়৷
আমি পোকা হয়ে পিচুটির মতো
তোমার ঐ চোখের ছায়ায় প্রতিদিন খেলাকরে যাই,
ভালোবেসে নিজেকে কাঁদাই৷
তুমি শাড়ির আঁচল দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিলে
আমি রথ রেখে পথে এসে তোমারই দ্বৈরথে বসে থাকি
তোমার আশায়৷ তুমি যেখানেই হাত রাখো
আমার উদগ্রীব চিত্র থাকে সেখানেই৷ আমি যেখানেই
হাত পাতি সেখানেই অসীম শূন্যতা, তুমি নেই৷



--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


............তুমি আমার ভিতর বাড়ি চেনো
তাই সহজে প্রবেশ করো মূলে,
যারা আসে সুখের স্মৃতি হতে-;
হারায় তারা পথের হুলুস্হুলে ..............
--- নির্মলেন্দু গুন

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


আমি দু:খকে যতই জানাই
বিদায়ী সম্ভার্ষণ,
দু:খ ততই এসে আমাকে বলে
তোমাকে আমার বড় প্রয়োজন।
সুখ সুখ করে যতই কাঁদি
দু:খ এসে হয়
জড়ো রাশি রাশি,
সুখ আমার হয়তো ব্রত নহে
দু:খই যেন আজন্ম সাথী।
সময়ের একান্ত তাগিদে
এসেছে জীবনের অর্ধাঙ্গিনী;
সুখ যদিও ক্ষণিক স্বস্তি
দু:খই যেন জীবন সঙ্গিনী।
স্বর্গীয় সুখের পরম আবেশ
যদিও দিয়ে থাকে প্রেয়সী;
দু:খ তবু আমাকে ডেকে বলে-
স্বাগতম হে দু:খ বিলাসী।

---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


শুনেছি,

কবি হতে গেলে নাকি অনেক বড় প্রেমিক হতে হয়,

সে তার প্রেমিকাকে স্পর্শ দেবে কোমল হাতে;

তাই রিলেশানশিপ স্ট্যাটাস ‘সিঙ্গেল’ এমন কবিদের

বলতে শুনি- নিশ্চয়ই কেউ আছে, আমার অপেক্ষাতে।

শুনেছি,

সন্তান জন্ম দিলেই কেউ প্রকৃত বাবা-মা হতে পারে না

এর জন্য দরকার প্রচুর দায়িত্বশীলতা আর বিচক্ষণতা,

সমাজের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিষ্পাপ সেজেছে কাপুরুষের দল

অনৈতিক উন্মাদনায় জ়েগে উঠেছে হীন মানসিকতা।

শুনেছি,

খ্যাতিমান, তুখোড় আর প্রভাবশালী শিল্পপতি হলে

বেশ সস্তাতেই পণ্য হিসেবে ভোগ করা যায় একাধিক নারী,

হোক তারা কারও স্ত্রী, মেয়ে বা বোন তাতে কি

ঘরে তো আসছে চকচকে আসবাব, ব্যাংক ভর্তি পয়সা-কড়ি।

শুনেছি,

‘স্মার্ট’ হতে গেলে নাইট পার্টিতে যাওয়া লাগবে শীর্ণ পোশাকে

রাতভর জমবে ফুর্তির আসর, সাথে থাকবে মাদকের গর্জন

ফেসবুকে ধোঁয়াটে প্রোফাইল পিকচার দিয়ে বাহাদুর হয়ে যাব

এক সপ্তাহর জন্য; আহা! কী যেন এক রাজকীয় অর্জন।

আমি হলাম না কোন মিথ্যে প্রেমিক;
হতে পারলাম না সেই তথাকথিত ‘স্মার্ট’ কেউ

অথবা হইনি এক কলঙ্কিত পিতা বা
‘বিশিষ্ট’ শিল্পপতি- বিকিয়ে দিয়ে নৈতিকতা

এত কিছু না পারার ভীড়েও হতে পেরেছি
একজন সাধারণ, খুব সাধারণ একজন

মানুষ মাত্র। বুঝেছি – এটাইতো নিজ জীবনের
সবচেয়ে বড় সার্থকতা।


---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

*নিজকে ভাবো দায়ী*
 -নির্মলেন্দু গুণ

বৃথাই তুমি নিজকে ভাবো দায়ী
তালি তো আর বাজে না এক হাতে;
প্রেম যদি সে না হয় চিরস্হায়ী
মানুষের কী করবার আছে তাতে?

স্হায়ী প্রেম সে যে দুর্লভ কল্পনা,
দুর্নিরীক্ষ মাটির পৃথিবীতে।
প্রেমের মাঝেও থাকে প্রবঞ্চনা,
স্বর্গীয় সে হয় না ধরণীতে।

বৃথাই তুমি নিজেকে ভাবো দোষী
তুমি ঠিকই হৃদয় দিয়েছিলে;
কিন্তু মানবজীবন নয় এক-কোষী
বহুকেই সে জড়ায় তিলে-তিলে ।

তুমি তাকে দাওনি শক্ত বাঁধন,
পাছে কোথাও অঙ্গে সে দাগ থাকে ।
তাই তো তোমার ভাগ্যে আছে কাঁদন,
হারিয়ে সেই বাঁধন- ছেঁড়াটাকে ।

বৃথাই বুকে পুষে বেড়াও গ্লানি
বৃথাই তুমি নিজেকে দাও দণ্ড;
দুই খণ্ডে সমাপ্ত যে-বইখানি
তুমি ছিলে মাত্র তার এক খণ্ড ।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

একটা ফাটাফাটি কবিতা লিখবো বলে
মনে মনে কিছু উপমা আর শব্দ খুঁজছি।
ধূলোজমা বাংলা অভিধানটা ঝেড়েমুছে
পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে পছন্দসই কোন
শব্দ খুঁজে পেলামনা। সবই যেন পরিচিত,
বহুল ব্যবহৃত। শব্দচয়ন আর বাক্যবিন্যাস
নিয়ে প্রায়শই নতুন কবিদের ভুল ধরার
চেষ্টা করেছি অথচ আজ নিজেই গুলিয়ে যাচ্ছি।
অলস পাঠক আমি কবিতা তেমন বুঝিনা,
তবুও শব্দ আর উপমা সাজিয়ে ফাটাফাটি
একটা কবিতা লিখতে চাই। প্রেমে পড়লে
মানুষ নাকি এমনিতেই কবি হয়ে ওঠে, এক
অলৌকিক ক্ষমতা এসে ভর করে মনের
উঠোনে। শব্দের ব্যঞ্জণা আর উপমার লালিত্য
সুবাতাস বইয়ে দেয় ভাবনার গুমোট ঘরে।
আমার মনেও একদিন প্রেম ছিল, সেদিন
কবিতা লেখার এতোটুকু ইচ্ছে জাগেনি। তুমি
ছিলে কবিতার মতো- তোমাকে পড়তে পড়তেই
শব্দ আর উপমা হারিয়ে ফেলেছি তোমার মাঝে।
একদিন তুমিও হারিয়ে গেলে, সেই থেকে আমি
শব্দ আর উপমা খরায় শুকিয়ে যাওয়া নদীর মত
মুখ থুবড়ে পড়ে আছি কবিতার বেলাভূমিতে।
আজ তুমি নেই, প্রেম নেই অথচ একটা কবিতা
লেখার অদম্য ইচ্ছে নিয়ে প্রতিদিন শব্দ আর
উপমা খুঁজতে আসি বইমেলায়।

--------------------------------------------------------------------------------------------


দীঘির জলে কার ছায়াগো?
তোমার নাকি আমার?
তোমার কি আর মন চায় না
এই কথাটা জানার?
বন পারুলের ফুল ফুটেছে
সুবাস আসে ঘরে
সেই সুবাসে শরীর কাঁপে
মন যে কেমন করে।
সাঁঝের বেলায় নেমে আসে
মধ্যরাতের আঁধার।
আমি চলে যাই নদীর কাছে
সময় হলো কাঁদার।

---------------------------------------------------------------------------
ভালোবাসার কবিতা লিখবো না
- আবুল হাসান


তোমাকে ভালোবাসি তাই ভালোবাসার কবিতা লিখিনি।
আমার ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো কবিতা সফল হয়নি,
আমার এক ফোঁটা হাহাকার থেকে এক লক্ষ কোটি
ভালোবাসার কবিতার জন্ম হয়েছে।

আমার একাকীত্বের এক শতাংশ হাতে নিয়ে
তুমি আমার ভালোবাসার মুকুট পরেছো মাথায়!
আমাকে শোষণের নামে তৈরি করেছো আত্মরক্ষার মৃন্ময়ী যৌবন।
বলো বলো হে ম্লান মেয়ে,এতো স্পর্ধা কেন তোমার?

ভালোবাসার ঔরসে আমার জন্ম! অহংকার আমার জননী!
তুমি আমার কাছে নতজানু হও,তুমি ছাড়া আমি
আর কোনো ভূগোল জানি না,
আর কোনো ইতিহাস কোথাও পড়িনি!

আমার একা থাকার পাশে তোমার একাকার হাহাকার নিয়ে দাঁড়াও!
হে মেয়ে ম্লান মেয়ে তুমি তোমার হাহাকার নিয়ে দাঁড়াও!

আমার অপার করুণার মধ্যে তোমারও বিস্তৃতি!
তুমি কোন্ দুঃসাহসে তবে
আমার স্বীকৃতি চাও,হে ম্লান মেয়ে আমার স্বীকৃতি চাও কেন?
তোমার মূর্খতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধে,পৃথিবীটা পুড়ে যাবে
হেলেনের গ্রীস হবে পুনর্বার আমার কবিতা!
এই ভয়ে প্রতিশোধস্পৃহায়
আজো আমি ভালোবাসার কবিতা লিখিনি
কোনোদিন ভালোবাসার কবিতা লিখিনি।

-------------------------------------------------------------------------------

সেই গল্পটা
- পূর্ণেন্দু পত্রী

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি । শোনো
পাহাড়টা, আগেই বলেছি ভালোবেসেছিল মেঘকে
আর মেঘ কী ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা সে তো আগেই
শুনেছো ।
সেদিন ছিল পাহাড়টার জন্মদিন ।
পাহাড় মেঘেকে বললে; "আজ তুমি লাল
শাড়ি পরে আসবে" ।
মেঘ পাহাড়কে বললে;
"আজ তোমাকে স্মান করিয়ে দেবো চন্দন জলে" ।
ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী,
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে,
পাহাড় ছিল মেঘের ঢেউ-জলে ।
হঠাৎ, আকাশ জুড়ে বেজে উঠল ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাইয়ের
ভঙ্গিতে ছুটে এল এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে;
ওঠ্ ছুড়ি!- তোর বিয়ে ।
এখনো শেষ হয়নি গল্পটা ।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেল ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিনই ভুলতে পারল না ।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতো পারো পাহাড়টার
হাড় পাঁজর,
ভিতরে থৈ থৈ করছে শত ঝর্ণার জল ।__________

-----------------------------------------------------------------------


প্রথম ভালোবাসা
- Abir Abid

প্রথম ভালোবাসা?
সেতো আগুনের ঝর,
বাহিয়া যায় প্রেমিকের বুকে।
আর প্রেমিকা?
সেকি কাওকে বলে?
শুধু কষ্ট পায় ধুকে ধুকে।

প্রথম ভালোবাসা?
সেতো কষ্টের অপর নাম,
প্রেমিকের এক মৃত্যু জ্বালা।
আর প্রেমিকা?
চোখের জল নিঃশেষ তবু,
কাকে বুঝিতে দিলা?

প্রথম ভালোবাসা?
তার যে নেই কোনো বাঁধা,
প্রেমিক শুধু প্রহর গুনিবে।
আর প্রেমিকা?
তারো একই অবস্থা শুধু,
অস্রুটা বেশি ঝরাইবে।

প্রথম ভালোবাসা?
এতে কে সফল হয়েছে ভাই?
প্রেমিক, সেতো আজীবন দুঃখি রয়,
আর প্রেমিকা?
হয়্তোবা ভোলে,হয়্তোবা না,
মাঝে মাঝে তার মনের গভীরে চিরকাল থেকে যায়।

প্রথম ভালোবাশা?
এর যে কোনো শুরু শেষ নেই।
প্রেমিকের কাছে কালবোইশাখী।
আর প্রেমিকা?
জীবন ফুরায়ে যাইবে তবু,
হয়ে রোবে তার অস্তিত্তের সাক্ষি।


-----------------------------------------------------------------------------------

অভিপ্রায়
বর্ণীল মনীষা

আমি তোমায় একবার ছুঁতে চাই,
অস্তে ঢলে পড়া সুর্য যেমন ছুঁয়ে থাকে সাগর কে-
তেমনি আমিও একবার.... একদিন...
তোমার কপাল, চোখ, নাক, ঠোঁট, চিবুক ছুঁতে চাই,
গান্ধারীর মত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দৃষ্টিহীন হয়ে ও
দিতে চাই শুধুই স্পর্শটুকু।
বদ্ধ ঘরে নিবিড় মুহূর্ত চাই না আমি-
কুন্তি বা মাদ্রির মতই তোমায় প্রণয় না পেয়ে কাটিয়ে দিতে পারি জীবনের গণ্ডি।
শুধু ..... একবার.....
বিচিত্রবীর্যের পত্নী হয়ে চাই না আমি ঋষি সংস্পর্শ,
চাই না আমি সিঁদুরহীন সিঁথিতে বাঁচতে শত সহস্র প্রহর।
চাইনা পাঞ্চালী হতে,
গঙ্গার মতই না হয় .........

------------------------------------------------------------------------------------

শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
ঐ আনন্দে কেটে যাবে সহস্র জীবন।

শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অহংকারে মুছে যাবে সকল দীনতা।

শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
স্পর্শসুখে লিখা হবে অজস্র কবিতা।

শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
শুধু একবার পেতে চাই অমৃত আস্বাদ।

শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অমরত্ব বন্দী হবে হাতের মুঠোয়।

শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
তারপর হব ইতিহাস।
- নির্মলেন্দু গুণ

----------------------------------------------------------------------------------

একবার তুমি
- শক্তি চট্টোপাধ্যায়

একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা কর –
দেখবে, নদির ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে
পাথর পাথর পাথর আর নদী-সমুদ্রের জল
নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল
একবার তুমি ভাল বাসতে চেষ্টা কর।
বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল – ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়
সমস্ত পায়ে-হাঁটা পথই যখন পিচ্ছিল,
তখন ওই পাথরের পাল একের পর এক বিছিয়ে
যেন কবিতার নগ্ন ব্যবহার, যেন ঢেউ,
যেন কুমোরটুলির সলমা-চুমকি-জরি-মাখা প্রতিমা
বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটেনক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত দেখে আসতে পারি ।
বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল
চিঠি-পত্রের বাক্স বলতে তো কিছু নেই –
পাথরের ফাঁক-ফোকরে রেখে এলেই কাজ হাসিল -
অনেক সময় তো ঘর গড়তেও মন চায় ।
মাছের বুকের পাথর ক্রমেই আমাদের বুকে এসে জায়গা করে নিচ্ছে
আমাদের সবই দরকার ।
আমরা ঘরবাড়ি গড়বো – সভ্যতার একটা স্থায়ী স্তম্ভ তুলে ধরবো ।
রূপোলি মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলে
একবার তুমি ভালবাসতে চেষ্টা করো ।__________


-------------------------------------------------------------------------------------

পঁচিশ বছর পরে
- জীবনানন্দ দাশ

শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে-
বলিলামঃ ‘একদিন এমন সময়
আবার আসিও তুমি-আসিবার ইচ্ছা যদি হয় !-
পঁচিশ বছর পরে ।’
এই ব’লে ফিরে আমি আসিলাম ঘরে ;
তারপর, কতবার চাঁদ আর তারা,
মাঠে-মাঠে মারা গেল, ইঁদুর-পেঁচারা
জ্যোৎস্নায় ধানক্ষেত খুঁজে
এল-গেল ! -চোখ বুজে
কতবার ডানে আর বাঁয়ে
পড়িল ঘুমায়ে
কত-কেউ ! –রহিলাম জেগে
আমি একা-নক্ষত্র যে বেগে
ছুটিছে আকাশে,
তার চেয়ে আগে চ’লে আসে
যদিও সময়,-
পঁচিশ বছর তবুও কই শেষ হয় !-

তারপর – একদিন
আবার হলদে তৃণ
ভ’রে আছে মাঠে-
পাতায়, শুকনো ডাঁটে
ভাসিয়ে কুয়াশা
দিকে –দিকে, -চড়ুয়ের ভাঙা বাসা
শিশিরে গিয়েছে ভিজে,- পথের উপর
পাখির ডিমের খোলা, ঠাণ্ডা –কড়কড় !
শসাফুল,- দু-একটা নষ্ট শাদা শসা,-
মাকড়ের ছেঁড়া জাল, -শুকনো মাকড়সা
লতায়-পাতায় ; -
ফুটফুটে জ্যোৎস্নারাতে পথ চেনা যায় ;
দেখা যায় কয়েকটা তারা
হিম আকাশের গায়,- ইঁদুর-পেঁচারা
ঘুরে ঘুরে মাঠে-মাঠে, ক্ষুদ খেয়ে ওদের পিপাসা আজো মেটে,
পঁচিশ বছর তবু গেছে কবে কেটে , __________


--------------------------------------------------------------------------------


তুমি আসবে বোলে
বন্ধ দরোজা
রেখেছি আজ তুলে,

তুমি আসবে বোলে
কুড়ে ঘরটা
সাজিয়েছি আজ ফুলে।

তুমি আসবে বোলে
ভুলে ভরা অতিতগুলো
থেকেছি আজ ভুলে,

তুমি আসবে বোলে
বেস্ততা গুলো
রেখেছি আজ তুলে।

শুধু তুমি আসবে বোলে........


----------------------------------------------------------------------------------


আজ কি বন্ধু তুমি
বাঁধন ছিরে
দূরে যেতে চাও?
তবে ভাবছো কি!
কাঁদছো কেন?
বেশতো চলে যাও।

আমি অনুরোধ করবোনা
কোন অভি্যোগও করবোনা,
শুধু প্রহর গুনবো
তোমার অপেক্ষায়।

যদি তুমি ভুল করে হলেও
কখনো ফিরে আসো,
আমার আঙিনায়.........

------------------------------------------------------------------

ভালোবাসা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ভালোবাসা নয় স্তনের ওপরে দাঁত?
ভালোবাসা শুধু শ্রাবণের হা-হুতাশ?
ভালোবাসা বুঝি হৃদয় সমীপে আঁচ?
ভালোবাসা মানে রক্ত চেটেছে বাঘ!
ভালোবাসা ছিল ঝর্ণার পাশে একা
সেতু নেই আকাশে পারাপার
ভালাবাসা ছিল সোনালি ফসলে হওয়া
ভালোবাসা ছিল ট্রেন লাইনের রোদ।
শরীর ফুরোয় ঘামে ভেসে যায় বুক
অপর বহুতে মাথা রেখে আসে ঘুম
ঘুমের ভিতরে বারবার বলি আমি
ভালোবাসাকেই ভালবাসা দিয়ে যাবো।

---------------------------------------------------------------------------------------


তুমি – রাজদ্বীপ দত্ত

যখন আঁধারেরা নামে,
তোমার প্রতিক্ষার শোকগাথায়-
তখন আমি অর্ধনিমগ্ন ।
গলা চিপা ঘুপচি আঁধারে
স্মৃতির জাবর কাটি ।
ওই জনাকীর্ণ নিস্তব্ধতায়
তুমি মনে রেখো আমায় ।
আলোময় ওই বিশাল গোলকধাধায় হয়তো হারাবো
কিন্তু তুমি মনে রেখো আমায় ।
আবার যখন নিভে যাবে আলো ;
যখন ওই অলস আলোটাকে-
বুভুক্ষের মতো গিলবে আঁধার
“রাতজাগা পাখি”,
তুমি ভুলে যেয়ো না আমায় ।
যেদিন তোমার মনের চাতক পাখিটা
মুক্ত হয়ে উড়বে,
ওই সাদা মেঘেদের দলে-
তুমি মনে রাখবে তো আমায়!
গুটিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত
শামুকের মতো
হয়তো খোলসবন্দি হবো শীঘ্রই!
সেদিন
তুমি ভুলে যাবে নাতো আমায়?

--------------------------------------------------------------------------

পাগলী, তোমার সঙ্গে… – জয় গোস্বামী

পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন
এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা
পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।
অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন
পাগলী, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।
মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে,
ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লোকসান
লোকাসান পুষিয়ে তুমি রাঁধবে মায়া প্রপন্ঞ্চ
ব্যন্জ্ঞন
পাগলী, তোমার সঙ্গে দশকর্ম জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দিবানিদ্রা কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে ঝোলভাত জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মাংসরুটি কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে বই দেখব প্যারামাউন্ট হলে
মাঝে মাঝে মুখ বদলে একাডেমি রবীন্দ্রসদন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নাইট্যশালা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে কলাকেন্দ্র কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে বাবুঘাট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দেশপ্রিয় কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে সদা সত্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘কী মিথ্যুক’ কাটাব জীবন।
এক হাতে উপায় করব, দুহাতে উড়িয়ে দেবে তুমি
রেস খেলব জুয়া ধরব ধারে কাটাব সহস্র রকম
লটারি, তোমার সঙ্গে ধনলক্ষ্মী জীবন কাটাব
লটারি, তোমার সঙ্গে মেঘধন কাটাব জীবন।
দেখতে দেখতে পুজো আসবে, দুনিয়া চিত্কার
করবে সেল
দোকানে দোকানে খুঁজব রূপসাগরে অরূপরতন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজোসংখ্যা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে রিডাকশনে কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে কাঁচা প্রুফ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ফুলপেজ কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে আউট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে হালুয়া কাটাব জীবন।
কবিত্ব ফুড়ুত্ করবে, পিছু পিছু ছুটব না হা করে
বাড়ি ফিরে লিখে ফেলব বড়ো গল্প উপন্যাসোপম
পাগলী, তোমার সঙ্গে কথাশিল্প জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে বকবকম কাটাব জীবন।
নতুন মেয়ের সঙ্গে দেখা করব লুকিয়ে চুরিয়ে
ধরা পড়ব তোমার হাতে, বাড়ি ফিরে হেনস্তা চরম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভ্যাবাচ্যাকা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে হেস্তনেস্ত কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে পাপবিদ্ধ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধর্মমতে কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজা বেদি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মধুমালা কাটাব জীবন।
দোঁহে মিলে টিভি দেখব, হাত দেখাতে যাব
জ্যোতিষীকে
একুশটা উপোস থাকবে, ছাব্বিশটা ব্রত উদযাপন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভাড়া বাড়ি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিজ ফ্ল্যাট কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যাওড়াফুলি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যামনগর কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে রেল রোকো জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লেট স্লিপ কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে আশাপূর্ণা জীবন কাটাব
আমি কিনব ফুল, তুমি ঘর সাজাবে যাবজ্জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় জওয়ান জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় কিষান কাটাব জীবন।
সন্ধেবেলা ঝগড়া হবে, হবে দুই বিছানা আলাদা
হপ্তা হপ্তা কথা বন্ধ মধ্যরাতে আচমকা মিলন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ব্রক্ষ্মচারী জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে আদম ইভ কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে রামরাজ্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে প্রজাতন্ত্রী কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ছাল চামড়া জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দাঁতে দাঁত কাটাব জীবন।
এর গায়ে কনুই মারব রাস্তা করব
ওকে ধাক্কা দিয়ে
এটা ভাঙলে ওটা গড়ব, ঢেউ খেলব দু দশ কদম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোঝড় জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘ভোর ভয়োঁ’ কাটাব জীবন


---------------------------------------------------------------------------------------

গতকাল একদিন – নির্মলেন্দু গুণ

গতকাল বড়ো ছেলেবেলা ছিল
আমাদের চারিধারে,
দেয়ালের মতো অনুভূতিমাখা মোম
জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে আমারা দেখেছি
শিখার ভিতরে মুখ ।
গতকাল ছিল জীবনের কিছু
মরণের মতো সুখ ।
গতকাল বড়ো যৌবন ছিল
শরীরে শরীর ঢালা,
ফুলের বাগান ঢেকে রেখেছিল
উদাসীন গাছপালা ।
আমরা দু’জনে মাটি খুঁড়ে-খুঁড়ে
লুকিয়েছিলাম প্রেম,
গতকাল বড় ছেলেবেলা ছিল
বুঝিনি কী হারালাম !
গতকাল বড়ো এলোমেলো চুলে
বাতাস তুলেছে গ্রিবা,
চুমু খেয়ে গেছে কৃষ্ণচূড়ার
উজ্জ্বল মধুরিমা ।
গতকাল বড়ো মুখোমুখি ছিল
সারাজীবনের চাওয়া,
চোখের নিমিষে চোখের ভিতরে
চোখের বাহিরে যাওয়া ।

---------------------------------------------------------------------

প্রেমের কবিতা ১ – জয় গোস্বামী

তুমি সঙ্গে ছিলে তুমি সঙ্গে ছিলে একরাস্তা পার
এখোনো রয়েছে স্মৃতি পারাপার-সমগ্র পড়ার
এক বৃক্ষ ছিল, বৃক্ষ প্রতিটি লাইটপোস্ট মানি
ট্র্যাফিকনগর নয়, ঝিঁঝিঁ জোনাকির অরণ্যানী
পথ পিচ ঢাকা নয়, পথে বইছে স্রোত হাঁটুজল
তোমার গোড়ালি ডুবছে, আমার শরীর ছলোচ্ছল
কিভাবে যে পার হলাম, কি ভাবে যে এলাম ফেরত্
সব জল শুকিয়েছে, হাতে শুকনো মাটি – ভবিষ্যত্
সেই শুকনো মাটি থেকে আজ বৃক্ষ দাঁড় করালাম
তুমি ঠিক করে দাও ক্ষুদ্র এই পুস্তকের নাম।

------------------------------------------------------------------


অঞ্জলি - কাজী সাখর

অঞ্জলি ,তুমি কি দেখেছো ?ফুল আর কাঁটা ?
পরস্পর বিপরীত হয়েও অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক তাদের ।
অঞ্জলি ,তুমি কি দেখেছো ?বৃষ্টি আর রোদ ?
ওরা বিচ্ছিন্ন ,তবু একই আকাশে বাঁধা ঘর
শুনেছো কি তুমি ?ঘৃণা আর ভালবাসা ?শুনেছো ,অঞ্জলি ?
ওরা স্বতন্ত্র ,তবু একই অন্তরে করে আনাগোনা ।

একদিন ভুলে যাবে তুমি ,চলে যাবে তুমি
এই পথ পথিকের অভাবে সবুজ হয়ে যাবে
এই বুক ভিন্ন করে ঐ বুক পাথর হয়ে যাবে
একদিন কাঁটা হয়ে যাবে ,বৃষ্টি হয়ে যাবে ,ঘৃণা নিয়ে যাবে
সেদিনও ফুল হয়ে ফুটবো ,তুমি কাঁটা হবে এই অঙ্গে
রোদ হয়ে উঠবো ,বসবাস হবে একই আকাশে
ভালবাসা হব অভিন্ন অন্তরে
অঞ্জলি ,বিচ্ছেদ হতে দেবনা তোমাকে ,'তুমিকে' ,আমাকে ,'আমি'কে ।


--------------------------------------------------------------------------


একবার তুমি - শক্তি চট্টোপাধ্যায়

একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো--
দেখবে, নদির ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে
পাথর পাথর পাথর আর নদী-সমুদ্রের জল
নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল
একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো ।

বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়
সমস্ত পায়ে-হাঁটা পথই যখন পিচ্ছিল, তখন ওই পাথরের পাল একের পর এক বিছিয়ে
যেন কবিতার নগ্ন ব্যবহার , যেন ঢেউ, যেন কুমোরটুলির সালমা-চুমকি- জরি-মাখা প্রতিমা
বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটে নক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত দেখে আসতে পারি ।

বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল
চিঠি-পত্রের বাক্স বলতে তো কিছু নেই - পাথরের ফাঁক - ফোকরে রেখে এলেই কাজ হাসিল-
অনেক সময়তো ঘর গড়তেও মন চায় ।

মাছের বুকের পাথর ক্রমেই আমাদের বুকে এসে জায়গা করে নিচ্ছে
আমাদের সবই দরকার । আমরা ঘরবাড়ি গড়বো - সভ্যতার একটা স্থায়ী স্তম্ভ তুলে ধরবো
রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলে
একবার তুমি ভলবাসতে চেষ্টা করো ।


-------------------------------------------------------------------------------

বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ - মহাদেব সাহা

আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে
জাগাতে পারিনি ভালোবাসা,
ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের
শিকড়ে একটু জল-
ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল
আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি;
আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না,
বন্ধু ছিলো না,
ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না,
আমি ভাসমান শ্যাওলা ছিলাম,
শুধু স্বপ্ন ছিলাম;
কারো প্রেমিকাকে গোপনে বুকের মধ্যে
এভাবে প্রেমিকা ভেবে,
কারো সুখকে এভাবে বুকের মধ্যে
নিজের অনন্ত সুখ ভেবে,
আমি আজো বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ।
তোমাদের সকলের উষ্ণ ভালোবাসা, তোমাদের
সকলের প্রেম
আমি সারি সারি চারাগাছের মতন আমার বুকে
রোপণ করেছি,
একাকী সেই প্রেমের শিকড়ে আমি
ঢেলেছি অজস্র জলধারা।
সকলের বুকের মধ্যেই একেকজন নারী আছে,
প্রেম আছে,
নিসর্গ-সৌন্দর্য আছে,
অশ্রুবিন্দু আছে
আমি সেই অশ্রু, প্রেম, ও নারী ও স্বপ্নের জন্যে
দীর্ঘ রাত্রি একা জেগেছি;
সকলের বুকের মধ্যে যেসব শহরতলী আছে,
সমুদ্রবন্দর আছে
সাঁকো ও সুড়ঙ্গ আছে, ঘরবাড়ি
আছে
একেকটি প্রেমিকা আছে, প্রিয় বন্ধু আছে,
ভালোবাসার প্রিয় মুখ আছে
সকলের বুকের মধ্যে স্বপ্নের সমুদ্রপোত আছে,
অপার্থিব ডালপালা আছে।
আমি সেই প্রেম, সেই ভালোবাসা, সেই স্বপ্ন
সেই রূপকথার
জীবন্তমানুষ হয়ে আছি;
আমি সেই স্বপ্নকথা হয়ে আছি, তোমাদের
প্রেম হয়ে আছি,
তোমাদের স্বপ্নের মধ্যে ভালোবাসা হয়ে আছি
আমি হয়ে আছি সেই রূপকথার স্বপ্নমানুষ।


-----------------------------------------------------------------------------------------


‘‘ভিতর-বাইরে বিষম যুদ্ধ’’
__শক্তি চট্টোপাধ্যায়

ইচ্ছে ছিলো তোমার কাছে ঘুরতে-ঘুরতে যাবোই
আমার পুবের হাওয়া।
কিন্তু এখন যাবার কথায়
কলম খোঁজে অস্ত্র কোথায়
এবং এখন তোমার পাশে দাঁড়িয়ে-থাকা কুঞ্জলতায়
রক্তমাখা চাঁদ ঢেকেছে
আকুল চোখ ও মুখের মলিন
আজকে তোমার ভিতর-বাইরে বিষম যুদ্ধ পুবের হাওয়া।।
মনে মনে বহুদূর চলে গেছি
মনে মনে বহুদূর চলে গেছি – যেখান থেকে ফিরতে হলে আরো একবার জন্মাতে হয়
জন্মেই হাঁটতে হয়
হাঁটতে-হাঁটতে হাঁটতে-হাঁটতে
একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে পৌঁছুতে পারি
পথ তো একটা নয় –
তবু, সবগুলোই ঘুরে ফিরে ঘুরে ফিরে শুরু আর শেষের কাছে বাঁধা
নদীর দু – প্রান্তের মূল
একপ্রান্তে জনপদ অন্যপ্রান্ত জনশূণ্য
দুদিকেই কূল, দুদিকেই এপার-ওপার, আসা-যাওয়া, টানাপোরেন –
দুটো জন্মই লাগে
মনে মনে দুটো জন্মই লাগে



------------------------------------------------------------------------------

-- তুমি আজকাল বড্ড সিগারেট খাচ্ছ
শুভন্কর।
-- এখুনি ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি...
কিন্তু তার বদলে??
--বড্ড হ্যাংলা। যেন খাওনি কখনো?
-- খেয়েছি।
কিন্তু আমার খিদের কাছে সে সব
নস্যি।
কলকাতাকে এক খাবলায়
চিবিয়ে খেতে পারি আমি,
আকাশটাকে ওমলেটের
মতো চিরে চিরে,
নক্ষত্রগুলোকে চিনেবাদামের
মতো টুকটাক করে,
পাহাড়গুলোকে পাঁপর ভাজার
মতো মড়মড়িয়ে,
আর গঙ্গা?
সে তো এক গ্লাস সরবত।
--থাক। খুব বীরপুরুষ।
--সত্যি তাই...
পৃথিবীর কাছে আমি এই রকমই ভয়ন্কর
বিস্ফোরণ।
কেবল তোমার কাছে এলেই দুধের
বালক,
কেবল তোমার কাছে এলেই ফুটপাতের
নুলো ভিখারি,
এক পয়সা, আধ পয়সা কিংবা এক
টুকরো পাউরুটির বেশী আর কিছু
চিনিয়ে নিতে পারিনা।
--মিথ্যুক..।
--কেন?
--সেদিন আমার সর্বাঙ্গের
শাড়ি ধরে টান মারনি?
-- হতে পারে।
ভিখারিদের কি ডাকাত
হতে ইচ্ছে করবে না একদিনও??

Comments

Popular posts from this blog

**কষ্টকে ভালোবেসে আমি কবি হবো**

আমাদের দুজনার পৃথিবী দুটো শুরু থেকে আলাদা, তোর পুতুল খেলার সংসার, রংচঙে সাজানো গোছানো, তোর চুলের ক্লিপ, ধোয়া তোয়ালে,পোশাক রং মেলানো, আমিও সেই জগতের পভোলা এক পথিক শুধু, কখনও ভ্রমর হয়ে ফুলের থেকে চুরি করে একটু মধু, বাদবাকি খোঁচা-খোঁচা দাড়ি-গোঁফে,আমি কালো সাদা, আমাদের দুজনার পৃথিবী দুটো শুরু থেকেই আলাদা । আমার ভালো লাগে মেঘলা আকাশ, এক-পশলা ইলশেগুঁড়ি, রাতজাগা পাখির ডাক আর পুর্নিমাতে চাঁদেরবুড়ি, সেই জগতে কোনোখানেও ভুল করেও আসবিনা তুই, অথচ সবের পরেও দুইজনেতে একই খাটেই শুই, একই ঘরে দুজনার দুই পৃথিবী বাঁচবে আধা-আধা, আমাদের দুজনার পৃথিবী দুটো শুরু থেকেই আলাদা । তোর সাথে রং মিলিয়ে আমি, চাইলে হয়ত পাল্টাতেও পারি, তোকেও হয়ত ভুল বুজিয়ে, আমার জগতে ডেকে নিতে পারি, কিন্তু সেতো নিছক জীবনের সাথে সমঝোতাই হবে, দুই পৃথিবীর দুটো জীবন তখন কি আর জীবন-খুঁজে পাবে ? ----------------------------------------------------------------------------- সমুদ্র হোক বা পাহাড়, নদী হোক বা পর্বত, দৃষ্টির আরাম-খুজতে আমরা সবাই ছুটে যেতে চাই । আর,শুধু কি চোখের আরাম ? সাথে কাজের বিরাম, মুখের আরাম,সঙ্গে পেটে একটু রঙিন জল পড়লে, প...

*** শ্রীজাত **

ভাঙছে ঠুনকো আড্ডা সাতটা লাল চা, বিস্কুট দাম মেটাচ্ছে খুচরো। অল্প-অল্প বৃষ্টি একলা হাঁটছি, আস্তে স্বপ্ন বলতে চাকরি অস্ত্র বলতে ধান্দা সত্যিমিথ্যে বন্ধু পেট গোলাচ্ছে, যাক গে ফিরতে ফিরতে রাত্তির ভাত সামান্য ঠান্ডা খাচ্ছি, গিলছি, ভাবছি ছোট্টো একটা জানলার পাল্লা ভিজছে হয়তো, নীলচে শান্ত পর্দা একটু-একটু দুলছে, চুল গড়াচ্ছে বিছনায়, পাতলা, স্বচ্ছ নাইটি… -------------------------------------------------------------------------- সহজভাবে পড়তে আসি দরাজ পাঁচিল, রোদের চিকন হালকা সেসব শব্দ, তবু তোমরা বল দেওয়াল লিখন সহজভাবে দেখতে আসি টুকরো কাপড়, রঙের মজা হাওয়ায় কেমন দিব্যি ওড়ে, তোমরা বল জয়ধ্বজা সহজভাবে শুনতে আসি ভালই লাগে আমারও গান সুরের যত রকমসকম - তোমরা বল দাবি, স্লোগান সহজভাবে হাঁটতে আসি আলগা পায়ে আলতো হোঁচট পথের ধারে খোলামকুচি তোমরা বল বিরুদ্ধজোট এসব যদি সহজ না হয় সহজ তবে বলব কাকে? তার চাইতে তোমরা বরং জটিল করে দাও আমাকে। ------------------------------------------------------------------------- সারারাত ঝড়ের পরে তোমার কাছে আসা ভেবেছি শিখিয়ে দেব সকালবেলার ভাষা সকালের গাছগুলো সব নিথর, জড়োসড়ো অভি...

***ভালোবাসা পুঁজি করে নেমে পড় জীবনযুদ্ধে ***

একটা ব্যাকডেটেড মেয়ে খুজে নাও । যে ভালোবাসি বলার আগে তিনবার হোচট খাবে । মাঝে মাঝে হাল্কা শাসনে যে মনে করিয়ে দিবে জীবনের কথা । এত্তোগুলা ভালোবাসা পুঁজি করে নেমে পড় জীবনযুদ্ধে । বাসের ভিড়েপরম যত্নে শরীর দিয়ে আড়াল কর তার খোপার উদ্দেশ্যে কিনে নেয়া রক্তগোলাপটাকে। একটা ভালো ছবি তুলে বেড়ে যাক তোমাদের ভালোবাসা । শীতার্ত সন্ধ্যায় চায়ের কাপ টুকু ভাগাভাগি করে বুঝে নাও তোমাদের ভাল থাকার অধিকার। কপালে নেমে আসা ওর দুএকটা চুলে আঙ্গুল বোলাও অবুঝ আহ্লাদে । কোন এক শীতার্ত দুপুরে কোনও পার্কে ডুব দাও তার ঠোঁটের আটলান্টিকে। শুধু একটা ব্যাকডেটেড মেয়ে খুজে নাও ... ভালোবাসার থার্মোমিটার ফাটিয়ে দাও!!! ---------------------------------------------------------------------- আমার শব্দ চয়নে আভিজাত্য নেই; প্রতিদিনকার চাল,ডাল, লবণ পিয়াজের মতো নিত্যনৈমিত্তিক খাবারে মতো সাধারণ শব্দে আমার কাব্য যেমন সাধারণ আমার পরিধেয়। তোমাকে ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় বিলাসিতা! যদি আমাকে ভালবেসে পাশে থাকো তবে আমি চিরকাল সাধারণই থাকবো যা আমার আমিত্বের প্রকাশ। আমি সব হারাতে প্রস্তুত; কিন্তু আমার...